রাজর্ষি গঙ্গোপাধ্যায়: রাগ কখন হয়? প্রাণ দিয়ে ভালবাসলে। উদাসীনতা কখন আসে? ভালবাসা প্রতারণা করলে। কেকেআরকে (KKR) দেখলে গৌতম গম্ভীরের আজ আর কিছুই মনে হয় না। ভাবেন না, আলোচনাও করেন না। একটা চরম ঔদাসীন্য নাকি বিস্তার করেছে বহু দিন। অথচ একটা সময় ছিল, আইপিএলের (IPL 2022) সোনালি-বেগুনি জার্সিকে মনপ্রাণ সঁপেছিলেন গম্ভীর। প্রাক্তন নাইট অধিনায়ক বুঝতেও পারেননি, কবে ধীরে ধীরে এই শহর, এই শহরের আইপিএল টিম তাঁর হৃদয়ের কাছাকাছি চলে এসেছে। কেকেআর, কলকাতার প্রতি টান এতই দুর্নিবার হয়ে গিয়েছিল গম্ভীরের যে, ভেবেছিলেন বাইপাসের ধারে একটা ফ্ল্যাট কিনবেন। ঠিক নাইট হোটেলের পাশে।
শনিবাসরীয় কেকেআর যুদ্ধের আগে লখনউ সুপার জায়ান্টস (Lucknow Super Giants) টিম লিস্ট ফাইনাল করতে করতে কি আজ পুরনো সব কিছু মনে পড়বে লখনউ ‘মেন্টর’ গম্ভীরের? মনে পড়বে নাইটদের জার্সি পরে তাঁর দু’টো আইপিএল ট্রফি জয়, পরবর্তীতে কেকেআরের ম্যানেজমেন্টের নিষ্ঠুর আচরণ, নির্মমভাবে তাঁকে ছেঁটে ফেলার দিনটা? গম্ভীরকে যাঁরা জানেন-চেনেন, তাঁদের উত্তর না। মাঠে শনিবার প্রাক্তন টিমকে দেখে আবেগের এতটুকু দুলুনিও টের পাবেন না ‘মেন্টর’ গম্ভীর। কারণ তাঁর জীবনটা খুবই দ্রুতগামী। বর্তমান নিয়ে এত ব্যস্ত থাকতে হয় যে, অতীত নিয়ে আহ্লাদ চলে না।
[আরও পড়ুন: ‘রাজনীতিতে এলে ভালই করবে সৌরভ’, জল্পনা বাড়িয়ে দিলেন ডোনা]
শহরে খেলা নেই, কোভিড আতঙ্কে আইপিএল গ্রুপ পর্ব সব মুম্বই-পুণের গর্ভে চলে গিয়েছে বলে কেকেআর বনাম গম্ভীর (Gautam Gambhir) ম্যাচ ঘিরে সমর্থকদের ভাবাবেগটা বিশেষ টের পাওয়া যাচ্ছে না। সম্ভবও নয়। খেলার আগে মাঠে পুরনো ক্যাপ্টেনকে বিপক্ষ দলবল নিয়ে ঢুকতে দেখা না গেলে, দুঃখের দমকা বাতাস আর বইবে কী করে? কিন্তু প্রেক্ষাপট কী সিনেম্যাটিক! শনিবার জীবন-মৃত্যুর ম্যাচে নাইটদের প্রধান ‘শত্রু’ যে লোকটার মগজ, সেই তো কেকেআর তৈরি করে দিয়েছিল! দিয়েছিল এমন সমস্ত প্লেয়ার, যারা আজও কেকেআরের সেরা লগ্নি। সুনীল নারিন, আন্দ্রে রাসেল– এঁরা কার আমদানি?
আর গম্ভীর বলুন না বলুন। কেকেআর নিয়ে ভাবুন না ভাবুন। লখনউ সুপার জায়ান্টস যে ক্রিকেটীয় মডেল পেশ করছে চলতি আইপিএলে, তা আদতে গম্ভীর জমানার কেকেআর! পুরোদস্তুর কেকেআর-টু। গম্ভীর ঘনিষ্ঠরাই সেটা বলছেন। বলা হল, নিলাম স্ট্র্যাটেজি ঠিক করা থেকে প্লেয়ার নির্বাচন, লখনউয়ের সমস্ত কিছু গম্ভীর করেছেন নাকি একা। সদ্যোজাতের প্রতি স্নেহশীল পিতা করে যেমন। কাজও হচ্ছে। ১০ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবলের দু’নম্বরে লখনউ। আর একটা ম্যাচ জিতলেই প্লে-অফ। শোনা গেল, বেঙ্গালুরু নিলামের আগের দু’রাত ঘুমোননি গম্ভীর। লখনউ কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের সঙ্গে নিরন্তর আলোচনা করে গিয়েছেন। লখনউয়ের নতুন ‘সেনসেশন’ আয়ুশ বাদোনিকে নেওয়ার কাহিনিও বড় রোমাঞ্চকর। প্রথম ট্রায়ালে সময়াভাবে বাদোনির খেলা দেখতে যেতে পারেননি গম্ভীর। যান দিন দুই-তিন পর, তাঁকে টের না পেতে দিতে। শোনা গেল, গাড়িতে বসে বাদোনিকে পনেরো-ষোলোটা বল খেলতে দেখে সবুজ সংকেত দিয়ে দেন দু’বারের বিশ্বজয়ী ভারতীয় টিমের (Indian Team) মহাগুরুত্বপূর্ণ সদস্য। পাশে বসা ঘনিষ্ঠকে নির্দেশ দেন, বাদোনিকে শুধু ফিটনেস বাড়ানোর কথা বলতে। অধিনায়ক কেএল রাহুল (KL Rahul) আর একজন। যাঁকে নিঃশর্ত সমর্থন জুগিয়েছেন গম্ভীর। রাহুলকে একান্তে বলেছিলেন, ক্রিকেটে ক্যাপ্টেন আদতে হল জুয়াড়ির মতো। নিজের অনুভূতিকে বিশ্বাস করে ফাটকা খেলতে হবে। তাতে হারতে হলে হবে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই অনুভূতিই সেরা বন্ধু হয়ে যাবে। ইংরেজিতে যাকে বলে ‘ইন্সটিংকট’!
[আরও পড়ুন: বাড়ছে রাজনীতিতে যোগের জল্পনা? শাহর সঙ্গে নৈশভোজের পরদিনই এক মঞ্চে সৌরভ-ফিরহাদ]
এরপর ধরা যাক টিম। গম্ভীর ঘনিষ্ঠরা বলছেন, সেখানেও হুবহু পুরনো নাইট মডেল। গম্ভীর জমানায় কেকেআরে ওপেন করতেন তিনি আর রবিন উথাপ্পা। ডান হাতি-বাঁ হাতি কম্বিনেশন। লখনউয়ে করেন রাহুল-ডি’কক। সেই ডান হাতি, বাঁ হাতি। তিনে কেকেআরে নামতেন মণীশ পাণ্ডে। লখনউয়েও তিনি। চারে নাইট জার্সিতে থাকতেন সূর্যকুমার যাদব। এখানে দীপক হুডা। পাঁচে কেকেআরের হয়ে নামতেন বাঁ হাতি অলরাউন্ডার সাকিব-আল-হাসান। এখানে ক্রুণাল পাণ্ডিয়া। গম্ভীর জমানায় কেকেআরে ‘হিট দ্য ডেক’ বোলার ছিলেন মর্নি মর্কেল। লখনউয়ে জেসন হোল্ডার। কেকেআরে মারকুটে অলরাউন্ডার ছিলেন আন্দ্রে রাসেল। লখনউয়ে মার্কাস স্টয়নিস। আর কী আশ্চর্য, টিমের মন্ত্রটাও অবিকল এক! নাইট অধিনায়ক থাকার সময় টিমের উর্ধ্বে কাউকে উঠতে দেননি গম্ভীর। কথা না শোনায় একবার ব্রেট লি-কে বাড়ি পাঠিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। টিমকে বলতেন, জার্সির সামনের নামটার জন্য খেলো। দেখবে, লোকে পিছনের নামটা আপনাআপনি মনে রাখবে। লখনউয়েও তাই করছেন। জার্সির সামনের নামের জন্য টিম খেলছে। ব্যক্তিসত্ত্বার উর্ধ্বে উঠে।
হে নাইট পাঠক, বুকে হাত দিয়ে বলুন তো খারাপ লাগে না এরপর? মনে হয় না, আমাদের ক্যাপ্টেন আমাদেরই থাকতে পারত, মেন্টরের বেশভূষায়? দল নিয়ে, ভাগ্য নিয়ে এত অনিশ্চয়তায় যে ভুগতে দিত না, বরং সযত্নে ধরে রেখে দিত জয়ীর পরম্পরাকে। গম্ভীরের মগজাস্ত্রকে হারিয়ে শনিবার কেকেআর জিততেই পারে। এমনকী টানা চার ম্যাচ জিতে প্লে-অফেও যেতে পারে। কিন্তু এই একটা ব্যাপারে ভেঙ্কি মাইসোরদের বোধহয় কখনও ক্ষমা হবে না!
আজ আইপিএলে
লখনউ সুপার জায়ান্টস
বনাম কেকেআর
পুণে, সন্ধে ৭.৩০
স্টার স্পোর্টস
সর্বশেষ খবর
-
অন্ধকারে আলোর রেখা! প্রীতি ম্যাচ ৩৬ ধাপ উপরে থাকা তাজিকিস্তানের বিরুদ্ধে ড্র ভারতের
-
সুজিত বসুর পর উজ্জ্বল বিশ্বাস, গ্রেপ্তার আরও এক প্রাক্তন মন্ত্রী, এবার ত্রাণচুরির অভিযোগ
-
রাজস্থানে বেআইনি বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ! ঝলসে মৃত অন্তত ৭
-
নীল-সাদা অতীত, নবান্নে এবার ‘রং দে তু মোহে গেরুয়া’
-
ভুরি ভুরি দুর্নীতি টাকিতে! হাই কোর্টে মামলা করে দাবি তৃণমূল কাউন্সিলরের