ক্রিকেটারদের আমিষ চা খাওয়ানো হচ্ছে। রান্নাঘর আরশোলা-মাছিতে ভর্তি। মেঝে পিচ্ছিল। এমন অভিযোগের জেরে মুম্বই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (এমসিএ) পাঁচটি রেস্তরাঁর লাইসেন্স সাসপেন্ড করেছিল মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ)। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে গিয়েছিল এমসিএ। শুনানিতে ক্রিকেটারদের খাবারের স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে কড়া প্রশ্নের মুখে রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা। আর এমসিএ-র পূতিগন্ধময় রান্নাঘর দেখে রেগে আগুন মহারাষ্ট্রের ‘সিংহম’ কর্তা আইএএস তুকারাম মুণ্ডে।
কে এই তুকারাম? বর্তমানে তিনি রয়েছেন মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কমিশনার পদে। গত ২৫ মে তিনি দায়িত্ব নেন। তারপর দু’মাসের মধ্যে প্রায় গোটা রাজ্য চষে ফেলেছেন। তিন হাজারেরও বেশি হোটেল-রেস্তরাঁয় হানা দিয়েছেন। তার মধ্যে ১৬৫টি লাইসেন্স সটান বাতিল করেছেন। গ্রেপ্তার করেছেন সাড়ে তিনশোর বেশি। প্রায় ৩০ লক্ষ কেজি ভেজাল খাবার বাজেয়াপ্ত করেছেন। ভেজাল খাবারের রমরমা রুখতে একেবারে কড়াহাতে আসরে নেমেছেন তুখারাম। সম্প্রতি মহারাষ্ট্র ‘অ্যানালগ’ পনিরের উৎপাদন, বিতরণ ও বিক্রি নিষিদ্ধ করেছিলেন। এই তুখারামই ‘অপারেশনে’।
আরও পড়ুন:
দু’মাসের মধ্যে প্রায় গোটা রাজ্য চষে ফেলেছেন। তিন হাজারেরও বেশি হোটেল-রেস্তরাঁয় হানা দিয়েছেন তুকারাম।
মামলার শুনানিতে বম্বে হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ঘুগে প্রশ্ন করেন, “রেস্তরাঁগুলির রান্নাঘরে আরশোলা এবং মাছি ভর্তি। ওখানকার চা তো আমিষ। ক্রিকেটারেরা কি জানেন, তাঁদের আমিষ চা দেওয়া হচ্ছে?” বিচারপতি ঘুগে এবং বিচারপতি গৌতম আনখাদের বেঞ্চ অবশ্য এমসিএ-কে রেস্তরাঁগুলি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার সুযোগ দিয়েছে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এফডিএ-র পরবর্তী পরিদর্শনের আগে রান্নাঘরগুলি সম্পূর্ণ পরিষ্কার করতে হবে। তত দিন ক্রিকেটারদের জন্য একটি চা ভেন্ডিং মেশিন বসানোর অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।
এফডিএ-র তরফে আদালতকে জানানো হয়, বান্দ্রা-কুরলা কমপ্লেক্সে (বিকেসি) এমসিএ-র পাঁচটি রেস্তরাঁ পরিদর্শনের সময় প্রচুর আরশোলা ও মাছি দেখা যায়। রান্নাঘর ও অন্যান্য জায়গায় ছিল অপরিচ্ছন্নতার ছাপ। মেঝেও ছিল পিচ্ছিল। খাদ্য সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধির গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগে লাইসেন্সগুলি সাসপেন্ড করা হয়। এফডিএ-র তথ্য অনুযায়ী, রেস্তরাঁগুলির লাইসেন্স এমসিএ-র নামে থাকলেও সেগুলি পরিচালনা করে ‘মেসার্স শিরকে ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ নামে একটি সংস্থা। এমসিএ-র আইনজীবী বিক্রম নানকানি আদালতে দাবি করেন, সরাসরি লাইসেন্স সাসপেন্ড না করে আগে কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল সংশোধনের জন্য নোটিস দেওয়া এবং ভুলত্রুটি শুধরে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া।
এফডিএ-র তরফে আদালতকে জানানো হয়, বান্দ্রা-কুরলা কমপ্লেক্সে (বিকেসি) এমসিএ-র পাঁচটি রেস্তরাঁ পরিদর্শনের সময় প্রচুর আরশোলা ও মাছি দেখা যায়। রান্নাঘর ও অন্যান্য জায়গায় ছিল অপরিচ্ছন্নতার ছাপ।
তবে এফডিএ-র আইনজীবীর বক্তব্য, স্বাস্থ্যবিধির গুরুতর লঙ্ঘন ধরা পড়লে অবিলম্বে লাইসেন্স সাসপেন্ড করার ক্ষমতা রয়েছে প্রশাসনের। এমসিএ-র তরফে পালটা বলা হয়, রেস্তরাঁগুলি বন্ধ থাকায় বিকেসিতে অনুশীলন বা খেলতে আসা ক্রিকেটারদের চা পর্যন্ত দেওয়া যাচ্ছে না। এই বক্তব্যের পরেই আদালতের ওই মন্তব্য। পাশাপাশি বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, ভুলত্রুটি শুধরে রেস্তরাঁগুলি যাতে দ্রুত ফের চালু করা যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে এফডিএ-কে।
মেসার্স শিরকে ইনফ্রাস্ট্রাকচারের সঙ্গে এমসিএ-র চুক্তির বিষয়টিও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। চুক্তিটি আইনত বৈধ কি না, সে বিষয়ে এফডিএ-কে আদালতকে জানাতে হবে। চুক্তি বৈধ না হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার স্বাধীনতাও দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে। খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে মহারাষ্ট্রে এফডিএ-র সাম্প্রতিক কড়া পদক্ষেপের আবহেই এই মামলা। সংস্থাটির কমিশনার তুকারাম মুণ্ডের নেতৃত্বে হোটেল, রেস্তরাঁ, ক্যান্টিন-সহ বিভিন্ন জায়গায় খাদ্যের মান ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ২০০৫ সালে আইএএস অফিসার হিসাবে যোগ দেন। ২১ বছর কাজ করছেন তুখারাম। অন্যায়ের সঙ্গে আপসহীন ব্যক্তিত্ব হিসাবে আমলা মহলে যথেষ্ট পরিচিত। এখন মামলা কোন দিকে যায়, নজর সেদিকেও। মামলার পরবর্তী শুনানি ২৯ আগস্ট।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
শুটিংয়ে গিয়ে বিধ্বস্ত নেপালে আটকে সস্ত্রীক খরাজ, কেমন আছেন অভিনেতা?
-
মশার বিদেশ সফর! বিমানে চেপে জার্মানি পাড়ি দিল মশক, কামড়ে মৃত বিমানবন্দরের কর্মী
-
বিজেপি ও তৃণমূল নেতা ‘মাসতুতো ভাই’, সুকান্তকে নিশানা করে শোকজ গঙ্গারামপুরের বিধায়ক
-
বারাসত বিশ্ববিদ্যালয়ে টিএমসিপির ‘জঙ্গিপনা’, পড়ুয়াদের হস্টেল ছাড়ার নির্দেশ উপাচার্যের
-
সুযোগ পেয়েও এশিয়াডে খেলতে পারবেন না ভারতের সব অ্যাথলিট-সাপোর্ট স্টাফ! জাপানের সিদ্ধান্তে প্রশ্ন