দীপক পাত্র: অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। ঘরোয়া লিগের সব ম্যাচে সেরার আর্থিক পুরস্কার দিচ্ছে না আইএফএ। না, একটু ভুল বলা হল। মোহনবাগান-ভবানীপুর কিংবা ইস্টবেঙ্গল-রেনবো অথবা মহামেডান-বিএসএস ম্যাচে সেরা হওয়া ফুটবলাররা ম্যান অফ দ্য ম্যাচের পুরস্কার পাচ্ছেন। বাকি ম্যাচগুলোতে পাঁচ হাজার টাকার রেপ্লিকা। অর্থাৎ কালীঘাট এমএস বনাম পিয়ারলেস, কিংবা জর্জ টেলিগ্রাফ বনাম এরিয়ানের খেলায় সেরা ফুটবলারের নাম ঘোষণা হচ্ছে। ম্যাচের সেরাদের ডেকে পুরস্কারস্বরূপ রেপ্লিকা তুলে দেওয়া চলছে। কিন্তু আর্থিক পুরস্কার নয়। এর মধ্যেই লুকিয়ে অন্য খেলা। সেটা কি? চেকের রেপ্লিকা দেখানো হচ্ছে। সকলের সামনে ছবিও উঠছে। কিন্তু টাকার দেখা নেই।ফুটবলাররা আশা নিয়ে মাঠ ছাড়ছেন। এবার টাকা আসবে। কিন্তু সেই টাকা কবে দেওয়া হবে কেউ জানেনা।
[আরও পড়ুন: রেনবোর বিরুদ্ধে কষ্টার্জিত জয়, লিগের আশা জিইয়ে রাখল ইস্টবেঙ্গল]
কেন এমন হচ্ছে? আসলে তিন প্রধানের খেলা টিভিতে দেখানো হচ্ছে। তাই সবার সামনে চেক দিয়ে বাহবা নিচ্ছে আইএফএ। ছোট খেলাগুলো সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছে না। সেই ম্যাচে চেক দেওয়া হল কী হল না, তা নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই। জানাও সম্ভব নয়। অথচ ম্যাচ সেরার পুরস্কার বাবদ পাঁচ হাজার টাকা না পেয়ে ফুটবলাররা হতাশ। আইএফএ-র নেকনজরে পড়ার ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না। অনেকে বলতে শুরু করেছেন, মুখ আর মুখোশের মধ্যে এত পার্থক্য? না হলে আইএফএ-এর পক্ষ থেকে এখন এক কথা বলা হচ্ছে, আর কাজের ক্ষেত্রে উলটো? পুরস্কারের টাকা দেয় যে বাণিজ্যিক সংস্থা তারা দিলেও এমন ঘটনা ঘটছে কেন?
[আরও পড়ুন: মিনি ডার্বিতে হার, লিগের লড়াই থেকে কার্যত ছিটকে গেল মোহনবাগান]
আইএফএ-এর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রেফারিরা ছোট ম্যাচে সেরাদের নাম পাঠাচ্ছে না বলে নাকি চেক তৈরি করা যাচ্ছে না। পুজোর পর নাকি পুরো টাকা আইএফএ-এর পক্ষ থেকে ফুটবলারদের দেওয়া হবে। এখানেই প্রশ্ন। যদি তাই হয়, তাহলে সেই টাকা নেবে কে? অধিকাংশ ম্যাচে সেরা হয়েছেন বিদেশিরা। চুক্তি অনুযায়ী লিগ শেষ হয়ে যাওয়ার পর বিদেশিদের সঙ্গে ক্লাবের সম্পর্ক থাকবে না। ফলে সেই চেকের টাকা ফুটবলারদের কাছে যাবে তার গ্যারান্টি নেই। অনেক বিদেশি চলে যাবেন ভিনরাজ্যে। তখন টাকা কাকে দেওয়া হবে? আরও একটা ব্যাপারে অনেকে বিস্মিত। চেক তৈরি করার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে? প্রতিটি খেলায় ম্যাচ কমিশনার বা অবজারভার থাকেন। ম্যাচের সেরা বাছতে কেউ না কেউ আইএফএ-র পক্ষ থেকে থাকেন। তাঁর হাতে সেই চেক পাঠিয়ে দিলে সেই ম্যাচের শেষে সেরা ফুটবলার পুরস্কার পেতে পারেন। এই ব্যবস্থা কেন হয়নি? ঘরোয়া লিগ এখন জমজমাট। শেষ পর্যায়ে এসেও তিন-চারটে দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে ছুটছে। অথচ এমন হাজার ওয়াট আলোর মাঝে লুকিয়ে থাকছে অন্ধকার। যা সত্যি বেমানান। লজ্জারও। এমন নাটক করার কি দরকার ছিল!
সর্বশেষ খবর
-
হড়পা বানে মৃত্যুমিছিল, নেপালে একতা চাইছেন ‘ভারতবিদ্বেষী’ বলেন্দ্র! নয়াদিল্লির পাঠানো ত্রাণ নেবেন?
-
যজ্ঞেই শয়তান তাড়ানোর কথা বলে ‘শ্লীলতাহানি’, গয়না নিয়ে উধাও সঙ্গিনী-সহ তান্ত্রিক
-
হড়পা বানে আটকে কৈলাসযাত্রী শিষ্যরা, বিধ্বস্ত নেপালে উদ্ধারকাজে নামতে চান সদগুরু!
-
রাজ্যে উড়ল প্যালেস্তাইনের পতাকা! ‘জাতীয় মর্যাদার সঙ্গে আপস নয়’, কড়া বার্তা শুভেন্দুর
-
হাতে হাত, রংমিলান্তি পোশাক, ফের একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রীকে দেখে শান্তি ভক্তদের