বিদেশি কোচ, দূরঅস্ত। কোনও ভারতীয় কোচকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য জাতীয় দলের ফুটবলাররা এভাবে উদ্যোগী হয়েছেন কি না, এতদিন জানা যায়নি। কিন্তু বাইচুং-সুনীল, রেনেডি, মেহরাজউদ্দিনরা তাঁদের প্রিয় কোচ বব হাউটনকে (Bob Houghton) যেভাবে সম্মানিত করার প্রস্তুতি শুরু করেছেন, তাতে ভারতীয় ফুটবলারদের মনে একদা জাতীয় কোচের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসাই বেশি করে প্রকট হচ্ছে।
সৈয়দ নইমুদ্দিনের কোচিংয়ে একটা সময় হতাশ হয়ে বাইচুং ঠিক করে ফেলেছিলেন জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়ে নেবেন। ঠিক সেই সময় ফেডারেশনের প্রয়াত প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি কোচ করে নিয়ে আসেন বব হাউটনকে। যিনি একদা সুইডেনের মালমো এফসিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতিয়েছিলেন। ভারতে আসার আগে ছিলেন চিনের জাতীয় কোচ ছিলেন বব। মূলত প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির উদ্যোগেই হাউটনের কোচিংয়ে ফের জাতীয় দলের হয়ে খেলা শুরু করেন পাহাড়ি বিছে। আর শুরুতেই নেহরু কাপ।
আরও পড়ুন:

শুধু কি বাইচুং? সুনীল, রেনেডি, স্টিভেন ডায়াস, গৌরমাঙ্গি, আনোয়ার, মেহরাজউদ্দিন, নবি, দীপক মণ্ডল, সুব্রত পাল, প্রদীপ, সন্দীপ নন্দী, অরিন্দম ভট্টাচার্য, শুভাশিস সেই ব্যাচের জাতীয় দলের যে কোনও ফুটবলারকে আজও বব হাউটন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করুন, শ্রদ্ধায় মাথা নত করে নেবেন। হাউটনের কোচিংয়ে প্রথমবারের জন্য আম্বেদকরের বুকে সিরিয়ার মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে নেহরু কাপ চ্যাম্পিয়ন। ২৬ বছর পর জাতীয় দলকে নিয়ে গেলেন এশিয়ান কাপের মূলপর্বে খেলতে। সাফল্যের মধ্যে থাকা ভারতীয় দলের ফুটবলাররা স্বাভাবিকভাবেই সেই সময় বব হাউটন বলতে অজ্ঞান ছিলেন। ব্রাজিল বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড দলের কোচ রয় হজসন একদা ছিলেন বব হাউটনের সহকারী কোচ। হাউটন আর রয় হজসনের ৪-৪-২ সিস্টেমের উপর একটা থিসিসও রয়েছে।
এহেন বব হাউটনকে কোচ হিসাবে পেয়ে নিজেদের পুরোপুরি বদলে ফেলেন সুনীল ছেত্রী-রেনেডি সিংরা। একদিকে হাউটনের প্রবল ব্যক্তিত্বের প্রতি শ্রদ্ধা। অন্যদিকে, এই ব্রিটিশ কোচের ‘শেপ’-এ আকৃষ্ট হয়ে জাতীয় দলের ফুটবলাররা তখন মন্ত্রমুগ্ধ। তাঁর কোচিংয়ে আধুনিক ফুটবলের পাঠ পেয়ে সাফল্যের রাস্তায় ছুটছিলেন ফুটবলাররা। সুনীল ছেত্রী তো এখনও বলেন, তাঁর জীবনের সেরা কোচ বব হাউটন। দলের অন্য ফুটবলাররা সুনীল-রেনেডিকে মজা করে বলতেন, বব হাউটন তাঁদের ‘ড্যাডি’। শুধুই কি ফুটবলাররা? সেই দলের যাঁরা ববের সহকারী কোচ ছিলেন, সেই স্যাভিও, মার্কোস, স্ট্যানলি রোজারিওরা আজও হাউটনের সঙ্গে কাজের স্মৃতি ভুলতে পারেন না। এখনও বাইচুং-সুনীল-মেহরাজ, রেনেডি, স্টিফনেরা একত্রিত হলেই তাঁদের আলোচনায় উঠে আসে হাউটনের প্রসঙ্গ। একটা সময় যে কোচের পাশে সমর্থন নিয়ে দাঁড়ানোর জন্য ফেডারেশন হাউসের সামনে বিক্ষোভে শামিল পর্যন্ত হবেন ভেবেছিলেন বাইচুংরা। সেই হাউটনকে সম্মানিত করতে ভারতে ফের ফিরিয়ে আনতে চলেছেন বাইচুং-সুনীলরা।
২৯ আগস্ট কলকাতাতেই এক পাঁচতারা হোটেলে এই বছরের ফুটবল প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। যেখানে এবার হাউটনের কোচিংয়ে খেলা ২০১১ এশিয়ান কাপের জাতীয় দলের সহকারী কোচ-ফুটবলারদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। সেই সূত্রেই কোচ স্যাভিও মেডেরা, রেনেডি, সুনীল, এফপিএআই সভাপতি মেহরাজউদ্দিন একদিন আলোচনায় বসে ঠিক করেন, বব হাউটনকে অনুষ্ঠানে নিয়ে আসবেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী একদিন ভিডিও কলে হাউটনকে ধরেন মেহরাজরা। ফুটবলারদের অনুরোধে রাজিও হয়ে যান প্রাক্তন জাতীয় কোচ। কিন্তু সময় মতো ভিসা না পাওয়ায় ২৯ আগস্ট আসতে পারছেন না তিনি। তখনই ঠিক হয়, তাহলে সেপ্টেম্বর মাসে একটা ফুটবল ম্যাচের আয়োজন হবে। যেখানে দু’টি দলে খেলা হবে। ‘বব হাউটন একাদশ’ ভার্সেস ‘এফপিএআই একাদশ’।

হাউটনের কোচিংয়ে যাঁরা খেলেছিলেন সেই দলটা খেলবে হাউটন একাদশে। আর আলভিটোর মতো ফুটবলাররা থাকবেন এফপিএআই একাদশে। ঠিক হয়েছে, এই ম্যাচটা দিল্লির আম্বেদকর স্টেডিয়ামেই আয়োজন করা হবে। যে স্টেডিয়ামে সেই সময় ভারতীয় ফুটবলের বেশি সাফল্য। আর হাউটনকে কেন্দ্র করে সেই সময়ের ভারতীয় দলের ফুটবলার নিয়ে একটা তথ্যচিত্র তৈরির পরিকল্পনাও করা হয়েছে। সব মিলিয়ে তাঁর একদা প্রিয় ছাত্ররা ফের তাঁকে আম্বেদকর স্টেডিয়ামে ফিরিয়ে এনে ‘গুররুদক্ষিণা’ দিতে চাইছেন। সত্তরোর্ধ্ব বব হাউটন তাঁর শিষ্যদের এই ডাক ফিরিয়ে দিতে পারেননি। ফলে হাউটন ভিসা পেয়ে গেলেই সেপ্টেম্বরে আম্বেদকর স্টেডিয়ামে হবে সেই ‘গুরুদক্ষিণা’-র ম্যাচ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বন্দিদশার ৩ বছর পর সুস্থ হচ্ছেন ইমরান! ২১ অধিনায়কের চিঠির পর জানালেন প্রাক্তন সতীর্থ
-
একফালি বারান্দায় বাগান করতে চান? বীজ কেনার আগে মনে রাখুন এই ৬ পরামর্শ
-
চাহিদা তুঙ্গে গোবরের রাখির, ভাইয়ের মঙ্গল কামনায় থাক বৈদিক ছোঁয়া
-
বিধ্বস্ত নেপালে নিখোঁজ ১০৫ ভারতীয়-সহ ৪০০ কৈলাসযাত্রী! উত্তরপ্রদেশ ও বিহার সীমান্তে সতর্কতা
-
বীরভূমে ট্রেন্ডিং ‘কাজল মডেল’, অনাস্থার আগেই রাজনগরে পঞ্চায়েত সভাপতির পদত্যাগ অনুব্রত ঘনিষ্ঠর!