ভয়ংকর হড়পা বানে বিধ্বস্ত নেপাল। এখনও পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। নিখোঁজ ১০৫ ভারতীয়-সহ ৪০০ কৈলাসযাত্রী। জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে বহু বাড়ি-ঘর, সেতু, যানবাহন। গ্রামের পর গ্রাম চলে জলের নিচে। বন্যার জল ক্রমশ নিচের দিকে নেমে আসায় নেপালের সীমান্তবর্তী রাজ্য বিহার এবং উত্তরপ্রদেশেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভয়াবহ এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্য়া আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে নামানো হয়েছে হেলিকপ্টারও।
এই বিষয়ে আরও খবর
সূত্রের খবর, এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত চিনের তিব্বতে। সেখান থেকে বন্যার জল প্রবেশ করে নেপালের রসুয়া জেলায়। কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১২৫ কিমি দূরে অবস্থিত এই জেলার উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে ভোটেকোশী নদী। বুধবার সকাল থেকেই আচমকা নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে। এরপরই চিন সীমান্তবর্তী ওই জেলায় ওই হড়পা বান নামে। আকস্মিক বন্যার জেরে রীতিমতো ধ্বংসযজ্ঞ চলে রসুয়া জেলায়। ভোটেকোশী নদীর জলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চিন সীমান্তবর্তী তিমুর ও স্যাফ্রুবেসি এলাকা। সেখানে বহু ঘরবাড়ি, যানবাহন ভেসে গিয়েছে। জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে একটি সেতুও।
চিনের সংবাদ সংস্থা ‘সিনহুয়া’র খবর অনুযায়ী, হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তিব্বতের গাইরং প্রদেশ-সহ বহু এলাকা। হতাহতের সংখ্যাও বহু। কিন্তু কী কারণে এই হড়পা বান, তা এখনও স্পষ্ট নয়। নেপালের বন্যা পূর্বাভাস বিভাগ জানিয়েছে যে, রসুয়ায় ভারী বৃষ্টির জেরে এই বিপর্যয় ঘটেছে, এমন সম্ভাবনা কম। ফলে তিব্বত থেকে জল নেমে আসার বিষয়টিই প্রকট। পাশাপাশি, হিমবাহের জলাধার ভেঙে হঠাৎ জল নেমে আসা বা ‘গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড’-এর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে নেপালি সংবাদমাধ্যম ‘দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট’।
VIDEO | Nepal: Devastating flash flood causes major damage to markets and hydropower projects in Rasuwa region. More details are awaited.#NepalNews #NepalFlashFlood
(Source: Third Party)
(Full video available on PTI Videos – https://t.co/d8jp61yd2p) pic.twitter.com/QQmU1advuw
— Press Trust of India (@PTI_News) August 26, 2026
নেপাল পর্যটন বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, বন্যাদুর্গত এলাকা থেকে অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ। তাঁদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদেশিদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। অন্যদিকে, রাসুয়া জেলায় নেপাল পুলিশের অন্তত ২৬ জন আধিকারিক এখনও নিখোঁজ। পাশাপাশি, খোঁজ মিলছে না নেপালি আধাসেনার কমপক্ষে ৭ জওয়ানেরও।
নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুগলিন এলাকা-সহ ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নেপালি প্রশাসন। ভয়াবহ এই দুর্যোগে উদ্বিগ্ন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ। তিনি জানিয়েছেন, বিপর্যয় মোকাবিলায় নেমে পড়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসক দল, স্কাউট, রেড ক্রস। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত অ্যাম্বুল্যান্স ও চিকিৎসাকর্মীদের পাঠানো হচ্ছে।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
-
দুর্ঘটনার কবলে পড়েও মেলেনি ক্ষতিপূরণ, টিকিট নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই রেলকে ভর্ৎসনা হাই কোর্টের
-
‘তোমার কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ শুভ…’, শুভশ্রীকে মন কেমনের চিঠি ‘ডিরেক্টর’ দেবের
-
রান্নাঘর ভর্তি আরশোলা, ক্রিকেটারদের আমিষ চা! মুম্বই ক্রিকেট সংস্থার রেস্তরাঁ দেখে অগ্নিশর্মা তুকারাম
-
পাহাড় ডাকছে? পিঠে ব্যাগ তোলার আগে শরীরের এই পরীক্ষাগুলি করিয়ে নিন
-
ব্রহ্মপুত্রে ‘টাইমবোমা’ চিনের, নেপাল বিপর্যয়ে বিপদঘণ্টা ভারতের! কী করবে দিল্লি?


