মোহনবাগান: ১
জামশেদপুর: ১
টাইব্রেকারে ৯-৮ ব্যবধানে জয়ী মোহনবাগান।
বিশাল হাতে শাপমোচন। তাঁর ভুলেই ডুরান্ডের কোয়ার্টার ফাইনালে চাপে পড়ে গিয়েছিল মোহনবাগান। শেষমেশ ম্যারাথন টাইব্রেকারের সাডেন ডেথে জামশেদপুরকে হারিয়ে সেমিতে উঠল সবুজ-মেরুন বাহিনী। বহু যুদ্ধের নায়ক বিশাল কাইথ এর আগে বহু ম্যাচে জিতিয়েছেন। তাঁর ভুলে গোল হলেও শেষবেলাতে তিনিই রক্ষাকর্তা। নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হয় ১-১ ব্যবধানে। সাহালের গোলের পালটা সমতা ফেরায় জামশেদপুরের দেবেন্দ্র মুরগাঁওকর। দীর্ঘ টাইব্রেকার গড়ায় সাডেন ডেথে। সেখান গোল বাঁচান বিশাল কাইথ। অবশেষে ৯-৮ ব্যবধানে জিতল মোহনবাগান। তবে বিদেশিহীন, ‘অস্তিত্বহীন’ জামশেদপুরের বিরুদ্ধে লিস্টন কোলাসোরা যা খেললেন, তাতে একরাশ চিন্তা রয়েই গেল।
আরও পড়ুন:
অথচ শুরুটা সবুজ-মেরুন সমর্থকদের আশামাফিকই হয়েছিল। যুবভারতীতে ২ মিনিটের মধ্যেই মোহনবাগানকে এগিয়ে দেন সাহাল আবদুল সামাদ। ড্রাজিচ জামশেদপুরের রাশিথোইকে প্রেস করতেই ভুল করে বসেন। সার্বিয়ান মিডফিল্ডার বল কেড়ে পাস বাড়ান সাহালকে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে বিন্দুমাত্র ভুল করেননি। ডুরান্ডে ৫ গোল হয়ে গেল সাহালের। দ্রুত এগিয়ে যাওয়ায় সবুজ-মেরুন ভক্তদের আশা ছিল, গোলের ব্যবধান আরও বাড়বে। প্রথম দলে ম্যাকলারেন নেই। মিগুয়েল স্কোয়াডেই ছিলেন না। আক্রমণে একমাত্র বিদেশি বলতে ড্রাজিচ। তবে গোল করার সমস্যা থেকেই গেল। বিশেষ করে লিস্টন কোলাসোকে খুঁজে পাওয়াই ভার। বরং কাউন্টারে আমন জামশেদপুরকে প্রায় সমতায় ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। সে যাত্রায় বাঁচিয়ে দেন বিশাল কাইথ। অন্যদিকে ফাঁকা গোলে হেড দিতে ব্যর্থ ড্রাজিচ। মোহনবাগানের একটি পেনাল্টির আবেদনও খারিজ হয়।

এত ভুলের মাঝে আরেকটি গুরুতর ভুল করে বসলেন বিশালও। রাশিথোইয়ের দূরপাল্লার শট ফিস্ট করে উড়িয়ে দিতে পারেননি সবুজ-মেরুনের গোলকিপার। ফলে বল গিয়ে পড়ল বক্সের সামনে দেবেন্দ্র মুরগাঁওকরের পায়ে। কার্যত ফাঁকা গোলে বল ঠেলে দেন জামশেদপুরের উইঙ্গার। প্রথমার্ধে ফলাফল ছিল ১-১।
মোহনবাগানের ভেদশক্তির অভাব স্পষ্ট। ফিটনেসের অবস্থাও বেশ খারাপ। জেমি ম্যাকলারেন, সমীর জেলকোভিচ, কিয়ান নাসিরি, সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় সবাইকেই নামিয়ে দেয় মোহনবাগান। লিস্টন কেন এতক্ষণ মাঠে ছিলেন, সেটাই প্রশ্ন।
দ্বিতীয়ার্ধেও মোহনবাগানের খেলায় বিরাট কিছু উন্নতি হয়নি। বল পজেশন, বক্সের সামনে ঘোরাফেরা সবই চলছিল প্যানাজিওটিসের দলের। ভেদশক্তির অভাব স্পষ্ট। ফিটনেসের অবস্থাও বেশ খারাপ। জেমি ম্যাকলারেন, সমীর জেলকোভিচ, কিয়ান নাসিরি, সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় সবাইকেই নামিয়ে দেয় মোহনবাগান। লিস্টন কেন এতক্ষণ মাঠে ছিলেন, সেটাই প্রশ্ন। অবশ্যই প্রশংসা করতে হয় বিদেশিহীন জামশেদপুরে প্রণয় হালদার, প্রতীক চৌধুরী, প্রভাত লাকরাদের লড়াই। ডুরান্ডেই শেষ। তারপর আর কোনও প্রতিযোগিতায় দেখা যাবে না আইএসএল জেতা ক্লাবকে। অস্তিত্ব সংকট নিয়েও তাঁদের লড়াই প্রশংসাযোগ্য। ফের একবার মোহনবাগানের পেনাল্টির আবেদন অগ্রাহ্য হয়। সায়নের ক্রস থেকে ম্যাকলারেন গোল মিস করেন। ১০টা কর্নার আর ২৪টার মধ্যে মাত্র ৫টা গোলমুখী শট ছাড়া মোহনবাগানের জন্য দ্বিতীয়ার্ধে কিছুই বলার ছিল না।

অবশেষে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে। ডুরান্ডের নিয়ম অনুযায়ী ৯০ মিনিটের পর সরাসরি টাইব্রেকার হয়। কিন্তু তা যে এত দীর্ঘসময় ধরে চলবে, তা কেউ আন্দাজ করতে পারেননি। দু’দলের সকলেই গোল করছিলেন। মোহনবাগানের রাহুল ভেকে, জেলকোভিচ, শুভাশিস বোস, ম্যাকলারেন, কিয়ান নাসিরি, অনিরুদ্ধ থাপা, আলবার্তো রড্রিগেজ, সুহেল ভাট, টেকচাম সিং গোল করেন। অবশেষে নবম শটে গোল মিস করেন জামশেদপুরের মামা। ৯-৮ ব্যবধানে জেতে মোহনবাগান। সেমিফাইনালে সামনে পড়বে নর্থইস্ট ইউনাইটেড ও শিলং লাজংয়ের মধ্যে জয়ী দলের। ম্যাচ হবে শিলংয়ে। এই হতশ্রী ফুটবলে কি পার পারে মোহনবাগান?
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
পাঁশকুড়া ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে রক্ত পাচার! দুর্নীতিদমন শাখার হাতে গ্রেপ্তার দালাল, কতদূর ছড়িয়ে জাল?
-
জেরায় একাধিক অসঙ্গতি, তারাপীঠ অগ্নিকাণ্ডে গ্রেপ্তার হোটেল মালিকের ছেলে
-
মুসলিমদের জন্য কেন আলাদা বেসিন! মার্কিন বিমানবন্দরের প্রস্তাব পত্রপাঠ খারিজ টেক্সসের গভর্নরের
-
আশিসের মৃত্যুর তদন্তে ফরেনসিক টিম-তৎপর সিআইডি, নজরে টিআরডিএ-র পুরনো দুর্নীতির অভিযোগও
-
‘হাম দো হামারে দো’, এবার দু’য়ের বেশি সন্তান ঠেকাতে আইন আনছে স্বাস্থ্যদপ্তর!