Advertisement
Advertisement
England vs Norway Match Report

বন্ধু বেলিংহ্যামের গোলেই ভাঙল হালান্ডের স্বপ্ন সফর, নরওয়ের রণতরী ডুবিয়ে সেমিতে ইংল্যান্ড

বিশ্বকাপে আর শোনা যাবে না ভাইকিংদের গর্জন। এবার ‘নৌকো বেয়ে’ ঘরে ফেরার পালা।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১২, ২০২৬, ১৪:২৯

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১২, ২০২৬, ১৪:২৯

options
link
বন্ধু বেলিংহ্যামের গোলেই ভাঙল হালান্ডের স্বপ্ন সফর, নরওয়ের রণতরী ডুবিয়ে সেমিতে ইংল্যান্ড zoom
নরওয়ের বিরুদ্ধ্ব গোলের পর ইংল্যান্ড।

ইংল্যান্ড: ২ (বেলিংহ্যাম ২)
নরওয়ে: ১ (শেলডেরুপ)
বন্ধুর পায়েই ভাঙল আর্লিং হালান্ডের স্বপ্ন। সেই বরুসিয়া ডর্টমুন্ড থেকে জুড বেলিংহ্যামের সঙ্গে নরওয়ে তারকার বন্ধুত্ব। কিন্তু বিশ্বকাপে কে আর বন্ধু! পিচের অন্যদিকে আছো মানে তুমি শত্রু। নরওয়ে লড়ল ঠিকই, কিন্তু দিনের শেষে ইংল্যান্ডকে সেমিতে তুলে মাঠ ছাড়লেন বেলিংহ্যাম। তাঁর জোড়া গোলে কোয়ার্টার ফাইনালে টমাস টুখেলের দল জিতল ২-১ গোলে (England vs Norway Match Report)। বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2026) আর শোনা যাবে না ভাইকিংদের গর্জন। এবার ‘নৌকো বেয়ে’ ঘরে ফেরার পালা। অন্যদিকে ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে উঠে অপেক্ষা করবে ৬০ বছরের বিশ্বকাপ যন্ত্রণার উপশম করতে।

তবে নিঃসন্দেহে প্রশংসা প্রাপ্য নরওয়ের। একটা জাতীয় দল কতটা ভালো, তার একটা আন্দাজ পাওয়া যায় দেশের ক্লাবের অবস্থা থেকে। যাঁরা গত মরশুমের উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ধারাবাহিকভাবে দেখেছেন, তাঁরা বোডো/গ্লিমটের নাম জানেন। ম্যাঞ্চেস্টার সিটি, ইন্টার মিলান, অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের মতো দলকে হারিয়েছিল নরওয়ের ক্লাবটি। সেই ক্লাবের তিন ফুটবলার আছেন নরওয়ে জাতীয় দলে। বাকি ফুটবলারদের অধিকাংশই খেলেন ইংল্যান্ডের বিভিন্ন ডিভিশনের ক্লাবে। একদিকে ঘরোয়া ফুটবলের বুনিয়াদ, অন্যদিকে চেনা ইংরেজ প্রতিপক্ষ। আর্লিং ব্রুট হালান্ড ছাড়াও অনেকেই ইংল্যান্ড দলের খুঁটিনাটির খবর রাখেন। প্রথম দলের পাঁচজন ইংল্যান্ডে খেলেন। ব্রাজিলের মতো দলকে হারিয়ে শেষ আটে উঠেছিল নরওয়ে। সেখানে ইংল্যান্ড দলে হাজারও সমস্যা। চোট-কার্ড সমস্যায় একটা ঠিকঠাক সাইডব্যাক নেই। ‘আনফিট’ ডেক্লান রাইসকে কেন খেলানো হল, তা একমাত্র কোচ টমাস টুখেলই জানেন। মাঝমাঠে প্রচুর জায়গা জুড়ে বাকিদের জন্য বল তৈরি করেন। এদিন সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। বল পজেশনে এগিয়ে থাকলেও সেভাবে গোলমুখে আক্রমণ করতে পারেননি। মায়ামিতে নরওয়ের পাঁচজনের রক্ষণ দেওয়াল তুলে ধরেছিল। চাপ বজায় রাখা সত্ত্বেও ইংল্যান্ডের আক্রমণের ধার ছিল কম। অন্যদিকে ম্যাঞ্চেস্টার সিটির দুই সতীর্থ জন স্টোন ও মার্ক গেহির সাঁড়াশি চাপে সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি হালান্ডও।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

তবে ওই যে, শুধু একজনের ভরসায় নরওয়ে দলটা এতদূর আসেনি। ম্যাচের ৩৫ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে আচমকা গতি বাড়াতে থাকে নরওয়ের রণতরী। দুই প্রান্ত থেকে মুহুর্মুহু আক্রমণে ইংরেজদের দুর্গ রীতিমতো দুর্বল দেখাচ্ছিল। সেই সময় ওদেগার্ড-বার্জের মিলিত আক্রমণ থেকে বল পেয়ে বক্সের মধ্যে ঢুকে পড়েন শেলডেরুপ। তারপর বাঁদিকের কোনা থেকে বাঁকানো শট। ইংরেজ গোলকিপার জর্ডন পিকফোর্ড প্রথম বারের দিকে এগিয়ে গিয়েছিলেন। দূরপাল্লার শটে বরাবরই তিনি দুর্বল। তবে শেলডেরুপের অবিশ্বাস্য শটে হাত বাড়িয়ে দিলেও কিছু করার ছিল না। বল বারে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা গোলের দাবিদার হতে পারে শেলডেরুপের গোলটি। তবে এই গোলের ‘বিল্ড-আপে’র সময় কেনকে ফাউল করা হয়েছিল কি না, সেই বিতর্কিত প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।

FIFA World Cup 2026: England vs Norway Match Report – Norway's Schjelderup on a teammate's shoulder after scoring
গোলের পর সতীর্থের কাঁধে নরওয়ের শেলডেরুপ

নরওয়ের আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। হাফটাইমের ঠিক আগে গোলশোধ করেন জুড বেলিংহ্যাম। বাঁদিকে বার্সেলোনার নতুন উইঙ্গার অ্যান্থনি গর্ডন বল বাড়িয়ে দেন। এক টার্নে নরওয়ের দুই ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে জোরাল মাটি ঘেঁষা শটে গোল করেন রিয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ডার। তারপরও অবশ্য হ্যারি কেন আরও একটি গোল করেছিলেন। তবে তা অফসাইডের জন্য বাতিল হয়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই জোড়া বদল করেন ইংল্যান্ডের কোচ। রাইস ও নোনি মাদুয়েকের জায়গায় নামানো হয় স্টিফেন এজে ও বুকায়ো সাকাকে। তাতে আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ে। আরও বেশি বল পান কেন। কিন্তু কাজের কাজ হয়নি। বরং ৫৫ মিনিটে ফের এগিয়ে গিয়েছিল নরওয়ে। কিন্তু রেফারি ক্লেমেন্ট টুরপিন ‘ভার’-এর সাহায্য নিয়ে জানান আগেই হালান্ড ফাউল করেছিলেন ইংল্যান্ডের অ্যান্ডারসনকে। ৭০-৭৫ মিনিটের মধ্যে আরও একবার ঝড় তোলে নরওয়ে। তবে নিষ্প্রভ হালান্ড ও সোরলোথদের ব্যর্থতায় জাল কেঁপে ওঠেনি। আবার সাকার শটও গোললাইন থেকে বাঁচানো হয়। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র থাকার পর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

FIFA World Cup 2026: England vs Norway Match Report – England players celebrate after scoring
উচ্ছ্বাস ইংল্যান্ড ফুটবলারদের

আর সেখানে ফের জ্বলে উঠলেন বেলিংহ্যাম। এই বিশ্বকাপে ৬টি গোল হয়ে গেল। নীরব ঘাতকের মতো গোল করে যান ইংল্যান্ড মিডফিল্ডার। গোটা মাঠ তাঁর রাজত্ব। আবার সুযোগ বুঝে বিপক্ষের বুকে ছুরি চালান। এদিন অবশ্য ছুরি না, ইংল্যান্ডের দুর্গ থেকে জোড়া কামান দাগলেন। তাতেই ডুবে গেল ভাইকিংদের জাহাজ। ৯৪ মিনিটে মরগান রজার্সের শট গ্রিপ করতে ভুল করেন নরওয়ের গোলকিপার নিলান্ড। গত ম্যাচে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে পেনাল্টি বাঁচানো নায়ক হয়ে গেলেন ‘ভিলেন’। সেই সুযোগ রক্ষণ ভেঙে ছিটকে এসে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন বেলিংহ্যাম। এরপর ইংল্যান্ডের একটি পেনাল্টির আবেদন বাতিল হয়। নরওয়ে বসিয়ে দেয় আর্লিং হালান্ডকেও। শেষমেশ মরিয়া আক্রমণেও শিকে ছেঁড়েনি। কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিলেও বীরের মর্যাদায় দেশে ফিরবেন ভাইকিংরা। সেমিতে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা বনাম সুইজারল্যান্ড ম্যাচের জয়ী দল। 

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.