Advertisement
Advertisement
ফুটবলের মহাযুদ্ধ
Lionel Messi

প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছেও অপ্রতিদ্বন্দ্বী, মেসির জন্মদিনে আয়োজন ‘আসাদো’-র, আয়োজক ডি’পল

৩৯তম জন্মদিনের প্রাক মুহূর্তে মার্কিন মুলুকে এমন সব দুর্মুল্য রেকর্ড হাত উজাড় করে উপহার হিসেবে মেসিকে তুলে দিয়েছে এই ডালাস। সেই ডালাস, যেখানে একদা ডোপিংয়ের অভিযোগে ’৯৪ বিশ্বকাপে মারাদোনার নির্বাসন ঘোষণা হয়েছিল। এতদিন পরে হয়তো নিজের পাপস্খলন করছে টেক্সাসের এই শহর।

Advertisement
দুলাল দে
দুলাল দে

শেষ আপডেট: জুন ২৪, ২০২৬, ১৪:১৩

link
দুলাল দে
দুলাল দে

শেষ আপডেট: জুন ২৪, ২০২৬, ১৪:১৩

options
link
প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছেও অপ্রতিদ্বন্দ্বী, মেসির জন্মদিনে আয়োজন ‘আসাদো’-র, আয়োজক ডি’পল zoom
গোলের পর চেনা সেলিব্রেশনে মেসি। ছবি সংগৃহীত।

৩৯তম জন্মদিন। প্রতি চার বছর অন্তর বিশ্বকাপের সময়েই ঠিক এই সময়েই আসে ‘মেসি দিবস’। কোন সুদূরে মার্কিল মুলুকে উদাযাপিত হবে ফুটবল ঈশ্বরের ধরাধামে আগমনের মুহূর্ত। আর তা ছড়িয়ে পড়বে বিশ্বের দিকে দিকে। আমি নিশ্চিত, কলকাতার গাঙ্গুলিবাগান থেকে গ্যাংটক। অথবা গুয়াতামালা। ফুটবল পাগল মানুষের কাছে ২৪ জুন তাঁদের আরাধ্য দেবতার জন্মতিথি পালন হচ্ছে। আর এবার তো মেসির জন্মদিন ঘিরে উন্মাদনার পুরনো সব রেকর্ড ভাঙতে উন্মুখ হয়ে আছেন সমর্থকরা। তাঁদের আরাধ্য দেবতা, নিজেই যখন মাঠের ভিতর একের পর এক রেকর্ড ভেঙে নতুন মাইলস্টোন তৈরি করছেন, তখন সমর্থকরাও, উন্মাদনার রেকর্ড গড়তে পিছিয়ে থাকবেন কেন? 

১৮ গোল করে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনেই শুধু আসীন হওয়া নয়। অস্ট্রিয়া ম্যাচে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডের আলোচনার স্রোতে, সকলের অলক্ষ্যেই ভেসে গিয়েছে আরও একাধিক রেকর্ডের বন্যা। এখন আর তিনি শুধুই সর্বোচ্চ গোলের অধিকারী নন। পকেটে রয়েছে এমন সব দুর্মূল্য রেকর্ডের ঝলকানি, যার অধিকার হস্তান্তর বিশ্বফুটবলে ভবিষ্যতে আর কারও কাছেই হবে কি না, তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হতে পারে। বিশ্বকাপের ৬টি আসরের মধ্যে, পাঁচটি আসরেই গোলের অনন্য রেকর্ড। বিশ্বকাপে সর্বাধিকবার ম্যাচের সেরা হওয়ার রেকর্ড। বর্ষীয়ান ফুটবলার হিসেবে একটি বিশ্বকাপে ৫ গোল করার রেকর্ডও তাঁর। অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি গোল করার নিজের রেকর্ডই আবার ভেঙেছেন ডালাসের মাঠে। বিশ্বকাপের সবচেয়ে বেশি গোলের অ্যাসিস্টের অধিকারীও এখন তিনি।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement
ছবি সংগৃহীত।

৩৯তম জন্মদিনের প্রাক মুহূর্তে মার্কিন মুলুকে এমন সব দুর্মুল্য রেকর্ড হাত উজাড় করে উপহার হিসেবে মেসিকে তুলে দিয়েছে এই ডালাস। সেই ডালাস, যেখানে একদা ডোপিংয়ের অভিযোগে ’৯৪ বিশ্বকাপে মারাদোনার নির্বাসন ঘোষণা হয়েছিল। এতদিন পরে হয়তো নিজের পাপস্খলন করছে টেক্সাসের এই শহর।

সতীর্থদের সঙ্গে লিও-র জন্মদিন তাহলে এবার কীভাবে পালিত হবে? পরের রাউন্ডে চলে যাওয়া নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পরেও গ্রুপের শেষ ম্যাচ, জর্ডনের বিরুদ্ধে এই ডালাসেই খেলতে হবে আর্জেন্টিনাকে। ফলে রাত পোহালেই ফুটবল ঈশ্বরের জন্মদিন পালন এই ডালাসের হোটেলেই হবে, না কি কানসাসের বেসক্যাম্পে, এখনও নিশ্চিত নয়। তবে আর্জেন্টাইন স্টাইলের বারবিকিউ, যেটাকে আর্জেন্টাইনরা বলেন, ‘আসাডো’। তা সহযোগে বার্থডে ডিনারের আয়োজন করা হচ্ছে, এটা এক প্রকার নিশ্চিত। আর পুরো উদ্যোগটাই নিচ্ছেন, সতীর্থ, দলে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ, ডি’পল।

চার বছর অন্তত ঠিক বিশ্বকাপের আসরে মেসির এই জন্মদিনের স্বাক্ষী থাকার এক দুর্লভ সুযোগ এসে যায়। ব্রাজিল-রাশিয়া এবং কাতার। পর পর তিনটি বিশ্বকাপে উপস্থিত থাকার সুযোগে শুধু সময় পরিবর্তন হওয়ার কারণে কাতার বিশ্বকাপে মেসির জন্মদিনের উসব পালন দেখার সুযোগ হয়নি। তবে রাশিয়ার পরিস্থিতি এখনও মনে আছে। সামপাওলির কোচিংয়ে খারাপ পারফরম্যান্সে, তখন দলের পরিবেশ এতটাই খারাপ ছিল যে, সেই প্রথমবারের জন্য স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো মেসির জন্মদিন পালনের মুহূর্তে শিবিরে পর্যন্ত আসেননি। এবার পরিস্থিতি পুরোটাই আলাদা। কিন্তু এটাও সত্যি, অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে শুরুতে পেনাল্টি নষ্টর পর সত্যিই বিমর্ষ লাগছিল লিও-কে। অধিনায়কের মনোসংযোগ যাতে নষ্ট না হয়, তাড়াতাড়ি পাশে চলে আসেন ডি’পল। প্রেসবক্স থেকে দেখা যায়, ডি’পলের সঙ্গে কিছু আলোচনাও করছেন অধিনায়ক। আর এরপর তো ডালাসের সবুজ গালিচায় বাঁ পায়ে তুলির আঁচড় টেনে শিল্প রচনা শুরু করলেন, লিও।

ছবি সংগৃহীত।

সেদিন ম্যাচ শেষ হয়ে গিয়েছে অনেকক্ষণ। মেসি তখনও মাঠ ছাড়েননি। ডালাসের গ্যালারিতে তখন এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে কোরাসের মতো ধ্বনি উঠছে, ‘মেসি… মেসি… মেসি…।’ ম্যাচ শেষ হয়ে গেলে কী হবে। সমর্থকরা তখনও নিজের চেয়ার ছাড়েননি। আর মেসি মাঠের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে হেঁটে যাচ্ছেন, তাঁর প্রতি সমর্থকদের ভালোবাসার প্রত্যুত্তর জানাতে।

ম্যাচ শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে এদিন একটু বেশিই ভিড়। এলেন কোচ স্কালোনি। সবাই তখন ভাবতে শুরু করেছেন, রেকর্ড গড়ে বোধহয় লিও আসবেন সাংবাদিক সম্মেলনে। অনেকক্ষণ অপেক্ষা। তবুও এলেন না। অবশ্য তার অনেক আগেই ম্যাচের সেরার পুরস্কার নিতে গিয়ে সমর্থকদের প্রতি তাঁর বার্তা দিয়ে বসে আছেন। আর স্বাভাবিকভাবেই আসে সেই পেনাল্টি মিসের প্রসঙ্গ। পেনাল্টি মিসের তীব্র অভিমানকে কীভাবে শিল্পে পরিণত করতে হয়, মাঠে দেখিয়েছেন। ভাগ্যিস পেনাল্টিটা মিস করেছিলেন। নাহলে বাকি সময়টা জুড়ে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে তাঁর সেই রুদ্রমূর্তিই দেখা যেত না। যে বয়সে বিশ্বফুটবলের নব্বইভাগ তারকারা খেলা ছেড়ে বিশ্রামে চলে যান, অথবা প্রেসবক্সে বসে তরুণ ফুটবলারদের পারফরম্যান্স নিয়ে কাটাছেঁড়া করেন। সেই বয়সে এই ৩৯ বছরের ‘যুবক’ রেকর্ডের পর রেকর্ড ভেঙে চলেছেন। রেকর্ড তৈরিই হয় ভাঙার জন্য। কিন্তু মানুষ তো মনে রাখে শুধু, নীল আর্মস্ট্রংকেই।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.