Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ১৫ জুন ২০২৬
Lionel Messi

‘আমরা ফেভারিট নই’, কাতার বিশ্বকাপ নিয়ে সাক্ষাৎকারে অকপট মেসি

কাতারে জীবনের শেষ বিশ্বকাপ খেলতে নামবেন মেসি।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: নভেম্বর ১৮, ২০২২, ১৫:০৯

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: নভেম্বর ১৮, ২০২২, ১৫:০৯

options
link
‘আমরা ফেভারিট নই’, কাতার বিশ্বকাপ নিয়ে সাক্ষাৎকারে অকপট মেসি zoom

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সোনার ফুটবল কেরিয়ারে আজ পর্যন্ত চারটে বিশ্বকাপ খেলে ফেলেছেন। কাতারে নামবেন পঞ্চম বিশ্বকাপ খেলতে, যা কি না তাঁর জীবনের শেষ বিশ্বকাপও বটে। এবং কাপ অভিযানে নামার আগে নিজের স্বপ্ন থেকে শুরু করে টিমের কাপ জয়ের সম্ভাবনা-সব কিছু নিয়ে আর্জেন্টিনার এক সংবাদপত্রে দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দিলেন লিওনেল মেসি (Lionel Messi)…।

প্রশ্ন: লিও, চারটে বিশ্বকাপ খেলেছেন আপনি। সেই ২০০৬ বিশ্বকাপ থেকে খেলছেন। কী কী শিক্ষা নিয়েছেন গত চার বিশ্বকাপ থেকে?
মেসি: দেখুন, ২০০৬ বিশ্বকাপের সময় আমার বয়স খুব কম ছিল। প্রথম বিশ্বকাপ একদিকে যেমন উপভোগ করেছিলাম, তেমনই ভেতরে ভেতরে একটা আগুন কাজ করত, সারল‌্য কাজ করত। আরও বেশি করে খেলতে চাইতাম আমি। আরও সাফল‌্য পেতে চাইতাম। একদিক থেকে সেটা ভাল। কিন্তু আপনার তাড়না বেশি হলে, সব কিছু নিয়ে ভাবতে শুরু করলে, খেলাটা থেকে প্রাপ্ত আনন্দটা কমে যায়। ২০১৪ বিশ্বকাপ আমরা সত‌্যি ভাল খেলছিলাম। জীবনে ভুলতে পারব না ব্রাজিল বিশ্বকাপের সেই অভিজ্ঞতা। ব্রাজিল বিশ্বকাপই আমাকে শেখায় যে, একটা শক্তিশালী টিমই আসল। সেটাই টুর্নামেন্ট জেতায়। আপনি যদি বড় লক্ষ‌্যকে টার্গেটবোর্ড করে ছোটেন, তা হলে আপনার একটা শক্তিশালী টিম লাগবে। বলতে পারেন, আর্জেন্টিনার এবারের টিমটার সঙ্গে ২০১৪-র টিমটার প্রচুর মিল আছে। এই টিমের যা মানসিকতা, যে ভাবে ঐক‌্যবদ্ধ হয়ে টিমটা চলে, সেটা ২০১৪ বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনা টিমেও ছিল। আর চারটে বিশ্বকাপ (Qatar World Cup) খেলে শিক্ষা? আমি বলব, চারটে বিশ্বকাপ খেলে একটা জিনিস বুঝেছি। টুর্নামেন্টের প্রথম ম‌্যাচটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ম‌্যাচটা যদি ভাল খেলতে পারেন, তা হলে আপনাআপনি বাকি টুর্নামেন্টের জন‌্য টোন সেট হয়ে যাবে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

প্রশ্ন: একটা কথা বলুন। আপনি মাঠে নামলে বাইরে থেকে যে দুদ্দাড় করে একরাশ চাপ ছুটে আসে, সেটা সামলান কী করে? কাতারে দলে দলে আর্জেন্টিনা সমর্থকরা ইতিমধ‌্যেই হাজির হয়ে গিয়েছেন আপনার হাতে ট্রফি দেখবেন বলে। খরচের তোয়াক্কা না করে।
মেসি: দেখুন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিপুল প্রত‌্যাশার চাপ থাকবে। আর সেটা নিয়ে চলতেও জানতে হবে। আর্জেন্টিনার মানুষের পক্ষে বিভিন্ন দেশে ফুটবল বিশ্বকাপ দেখতে ছুটে যাওয়া কিন্তু সহজ নয়। কিন্তু তার পরেও ওঁরা যান। আসলে আমার দেশের মানুষের সঙ্গে ফুটবল টিমের একটা আত্মিক যোগাযোগ আছে। আর্জেন্টিনার ফুটবলপ্রেমীরা যে কোনও মূল‌্য, যে কোনও অবস্থায় সুখে-দুঃখে টিমের পাশে থাকতে চান।
প্রশ্ন: চাপটা নিয়ে বললেন না…।
মেসি: ওই যে বললাম, এই পর্যায়ে চাপ কী ভাবে ম‌্যানেজ করতে হবে, আপনাকে জানতে হবে। বাইরের পৃথিবীতে কী চলছে, তা নিয়ে ভাবলে আমাদের চলে না। প্লেয়ারদের বহির্বিশ্বের সঙ্গে অদৃশ‌্য দেওয়াল তুলতে জানতে হয়। আর দেখুন, স্বপ্ন কে না দেখে? আমরাও দেখি। কিন্তু একই সঙ্গে টিম হিসেবে বাস্তবের মাটিতে পা রেখে চলি আমরা। আমরা জানি, আমরা এখন ভাল খেলছি। কিন্তু এটাও বুঝতে হবে যে, টুর্নামেন্টটা বিশ্বকাপ! যে টুর্নামেন্টে প্রতি মুহূর্তে আপনার জন‌্য বিপদ ওত পেতে থাকবে। সামান‌্যতম ভুলেরও এখানে ক্ষমা হয় না। একটা ছোট ভুল ম‌্যাচে আপনাকে শেষ করে দিতে পারে। আর ফুটবলে যা কিছু হতে পারে ভেবে নামলে চলে না। সেই তত্ত্ব সব সময় চলে না। বরং প্রথম থেকে উঁচু মানের ফুটবল খেলে যেতে হয়। একই খিদে নিয়ে, একই একাগ্রতা নিয়ে দিনের পর দিন খেলে যাওয়া সহজ নয়। কিন্তু বিশ্বকাপে সেটাই করা দরকার। এটুকু বলতে পারি, আমরা লড়ব। কিন্তু গোটা আর্জেন্টিনা যে ধরেই নিয়েছে আমরাই চ‌্যাম্পিয়ন, সেটা ঠিক নয়।

[আরও পড়ুন: বিশ্বকাপের হার ভুলে ছুটির মেজাজে ভারতীয় ক্রিকেটাররা, নিন্দায় সরব নেটদুনিয়া]

প্রশ্ন: সে তো ঠিকই। শেষ ষোলোর খেলাতেই হয় ডেনমার্ক বা ফ্রান্সকে খেলতে হবে আর্জেন্টিনাকে।
মেসি: হ‌্যাঁ। কিন্তু এই মুহূর্তে শেষ ষোলোর ম‌্যাচ নিয়ে ভাবাটাই অপরাধ। উচিত, গ্রুপের প্রথম ম‌্যাচটা নিয়ে ভাবা। আগেই বললাম, বিশ্বকাপের প্রথম ম‌্যাচটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমার মন্ত্র হল-শুরুটা ভাল করো। তিনটে পয়েন্ট নাও। তার পর রিল‌্যাক্সড ভাবে পরের ম‌্যাচটা নিয়ে ভাবো। আগেভাগে ভেবে তো অনেক কিছুই বলা যেতে পারে যে, অমুকের সঙ্গে খেলা পড়বে বা তমুকের সঙ্গে। কিন্তু সময় এলে দেখবেন, সব বদলে গিয়েছে। আমরাও যদি ভাবতে শুরু করি যে, শেষ ষোলোয় পৌঁছেই গিয়েছি, তা হলে আমাদেরও বিপদে পড়তে হবে। পরিষ্কার বলছি, বিশ্বকাপ এমন এমন অপ্রত‌্যাশিত সব চমক নিয়ে হাজির হয়, যা আপনি ভাবতেও পারবেন না।
প্রশ্ন: আচ্ছা, এই যে আর্জেন্টিনা গত ৩৫-টা ম‌্যাচ অপরাজিত থেকে বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে, এটা তো দারুণ সুখের।
মেসি: না। এটা নিছকই একটা পরিসংখ‌্যান। আমরা এটা নিয়ে ভাবছিই না। কার আমরা জানি, ভাল সময় আসে যেমন, তেমন খারাপ সময়ও আসে। তবে এটুকু বিশ্বাস আছে যে, সেই খারাপ সময় কাটিয়ে উঠতে পারব আমরা। ইন ফ‌্যাক্ট এই টিমটা গঠনই হয়েছিল একটা খারাপ অভিজ্ঞতা দিয়ে। ২০১৯ কোপা আমেরিকায় ব্রাজিলের কাছে হেরে। কিন্তু তার পর সেই ছাইগাদা থেকেই এই টিমটা উঠে দাঁড়িয়েছে। আজকের আর্জেন্টিনা হয়েছে। তাই বিশ্বকাপে নামার সময় ভাবব না যে, আমরা ৩৫-টা ম‌্যাচ টানা জিতে এসেছি।

প্রশ্ন: লিও, আপনি ফুটবল কেরিয়ারে কখনও নিজের কাছে নিজে শপথ করেছেন? ভেবেছেন আমাকে এটা করতে, ওটা করতে হবে?
মেসি: না, ভাবিনি। শপথ আমি করি না। আমি শুধু ভাবি যে, আপনি জীবনে কী করবেন, কী পাবেন, সেটা ঠিক করবেন সর্বশক্তিমান। আর বিশ্বাস করুন, ফুটবল থেকে, ফুটবলের বাইরের জীবন থেকে যা আমি পেয়েছি, তাতে খুশি। বাকিটা ঈশ্বরের উপর।
প্রশ্ন: আচ্ছা, এই বিশ্বকাপ নিয়ে আপনার পরিবারের তরফ থেকে কোনও চাপ নেই? বাচ্চাদের থেকে নেই, আন্তোনেলার থেকে নেই?
মেসি: আছে তো। গোটা দেশের মতো আন্তোনেলাও উৎকণ্ঠায় ভুগছে, থিয়াগো ভুগছে। থিয়াগো তো সব সময় জাতীয় দলের ভিডিও দেখে যাচ্ছে। কাদের বিরুদ্ধে খেলা, কাদের বিরুদ্ধে পরে খেলা পড়তে পারে– সব। বুঝতে পারছি, নার্ভাস হয়ে পড়ছে থিয়াগো। সমস‌্যা হল, ওর উৎকণ্ঠা আবার আমার উপর মারাত্মক চাপ তৈরি করে দিচ্ছে।
প্রশ্ন: শেষ প্রশ্ন। বিশ্বকাপ নিয়ে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের কী বার্তা দেবেন লিওনেল মেসি?
মেসি: একই কথা বলব। আপনাদের ভালবাসা পেয়ে আমরা ধন‌্য। আপনাদের মতো আমরাও ফুটছি। আর হ‌্যাঁ, প্রার্থনা করুন যাতে আমরা লড়তে পারি। আর লড়বও আমরা। কারণ, এই আর্জেন্টিনা লড়তে জানে।

[আরও পড়ুন: এবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের এই বিখ্যাত ক্লাব কিনতে চলেছেন মুকেশ আম্বানি! তুঙ্গে জল্পনা]

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.