লিওনেল মেসির সামনে টানা দু’টি বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি। রবিবাসরীয় ফাইনালে স্পেনকে হারাতে পারলেই ইতিহাস গড়বেন এলএম১০। এই আবহে অনেকেই লিওর সঙ্গে দিয়েগো মারাদোনার তুলনা টানছেন। কেউ মেসিকে এগিয়ে রাখছেন। কেউ আবার তাঁকে দিয়েগোর সঙ্গে একাসনে রাখছেন। এই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন প্রাক্তন ‘ব্লু টাইগার্স’ অধিনায়ক বাইচুং ভুটিয়া। তাঁর মতে, এখনও মারাদোনা এগিয়ে। তবে এবারের বিশ্বকাপ জিতলে মেসি তাঁর সমকক্ষ হয়ে যাবেন।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাইচুং বলেন, “মারাদোনা আর মেসির তুলনা করা খুব কঠিন। তবে আমার কাছে মারাদোনাই সেরা। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে তিনি প্রায় একাই আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন। ফুটবল ইতিহাসে এমন কীর্তি খুব কমই দেখা গিয়েছে। তবে মেসিও এখন অনেকটাই কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। ও যদি আর একটি বিশ্বকাপ জিততে পারে, তাহলে মারাদোনার সমকক্ষ হয়ে যাবেন। এমনকী মারাদোনাকে ছাপিয়েও যেতে পারেন।”
আরও পড়ুন:

মারাদোনা ও মেসির পার্থক্য বোঝাতে বাইচুং বলেন, “মেসি তাঁর পাশে সবসময়ই শক্তিশালী দল পেয়েছেন। যাঁরা ওঁকে সাহায্য করে। কিন্তু মারাদোনাকে নিজের জন্য সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি সতীর্থদের জন্যও গোলের সুযোগ তৈরি করতে হত। এটাই দু’জনের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য।” রবিবার নিউ ইয়র্কে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ স্পেন। বাইচুংয়ের মতে কিছুটা হলেও এগিয়ে থাকবে ‘লা রোহা’রা। তবে মেসির দলকে খাটো করতে নারাজ বাইচুং। তাঁর কথায়, “স্পেন অনেক বেশি পরিপূর্ণ দল। তাদের মাঝমাঠ দারুণ। কোনও একজন খেলোয়াড়ের উপর নির্ভর করে না। তবে আর্জেন্টিনা বারবার কঠিন পরিস্থিতি থেকে ফিরে এসেছে। তাই ওদের কখনওই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবু আমার মনে হয়, স্পেনের সম্ভাবনাই একটু বেশি।”
সেমিফাইনালের স্পেনের কাছে ফ্রান্সের হার বাইচুংকে খুব একটা অবাক করেনি। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার রুদ্ধশ্বাস জয় দেখে তাঁর উপলব্ধি, “আমি আশা করেছিলাম, ইংল্যান্ড জিতবে। প্রথমে ওরা এগিয়ে যাওয়ার পর অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক হয়ে পড়েছিল। আর্জেন্টিনার মতো দলের বিরুদ্ধে ২০-৩০ মিনিট শুধু ডিফেন্স করে টিকে থাকা কঠিন। ২০-৩০টা আক্রমণের পর একটা দু’টো গোল তো হবেই। নিজেরা গোল করার পর শেষ পর্যন্ত মাত্র ১২ শতাংশ বল পজিশন ছিল ওদের। তারই মূল্য দিতে হয়েছে।”

মেসির ম্যাচ জেতানো অ্যাসিস্ট নিয়ে তাঁর সংযোজন, “বড় মঞ্চে বড় খেলোয়াড়রাই নিজেদের প্রমাণ করে। মেসিকে যদি একটিমাত্র সুযোগও দেন, সে হয় নিজে গোল করবে, নয়তো গোলের সুযোগ তৈরি করে দেবে।” বিশ্বকাপে ভিএআর নিয়ে বিতর্ক নিয়েও মুখ খুলেছেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক। তাঁর মতে, প্রযুক্তির ব্যবহার মোটের উপর ইতিবাচক হলেও কিছু ক্ষেত্রে রেফারিকেও স্বাধীনতা দেওয়া উচিত। সুইজারল্যান্ড ম্যাচের একটি সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “আইনের দিক থেকে সিদ্ধান্ত ঠিক হতে পারে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ বুদ্ধিও প্রয়োগ করা দরকার। আমি ভিএআরের বিরোধী নই। এতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে। খেলা অযথা থেমে থাকছে না। দু-একটা ঘটনা বাদ দিলে প্রযুক্তির ব্যবহার যথেষ্ট ভালো হয়েছে।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
১২০০০ কিমি দূরের বিশ্বকাপ ঘিরে রক্তাক্ত বাংলাদেশ, শুধুই ফুটবল উন্মাদনা নাকি কারণ গভীর?
-
গরিবকে অবহেলা! নিজেদের ‘চিকিৎসক’ বলে পরিচয় দেবেন না, ধর্ষিতার মৃত্যুতে ‘সুপ্রিম’ ভর্ৎসনা
-
এবার কি বিজেপির টিকিটে রাজ্যসভার পথে কোয়েলও? ইঙ্গিতপূর্ণ জবাব শমীকের
-
আমাদের গৃহযুদ্ধে বাবা-মায়ের দেওয়া গল্প বলার পোকাটা জিতে গেল: উজান গঙ্গোপাধ্যায়
-
SIR-এ নাম বাদ পড়া মানে নাগরিকত্ব হারানো নয়, পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের
