শান্তি চক্রবর্তীকে ময়দান চেনে ‘মোহনবাগান দিদা’ বলে। অনেক না পাওয়া আর না মেলার অঙ্কেও মোহনবাগানীদের এই দিদার মুখে সব সময় অনাবিল হাসি লেগে থাকত। যৌবনে শ্যাম থাপার খেলা রেডিওতে শুনেছেন। মাঠে গিয়ে বর্তমান ফুটবলারদের নিয়মিত খেলা দেখতেন। কিন্তু সবুজ-মেরুন গ্যালারির আবেগের বিস্ফোরণের ভিতর থেকে চিরচেনা এক কণ্ঠ চিরতরে থেমে গেল। শুক্রবার জীবনাবসান হল মোহনবাগান দিদার। শনিবার দুপুরে তাঁর মরদেহ নিয়ে আসা হয় প্রাণের প্রিয় ক্লাব তাঁবুতে। শান্তিদেবীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন মোহনবাগান সচিব সৃঞ্জয় বোস।
মধ্য কলকাতার অক্রুর দত্ত লেনের সরু গলির ভিতর। পুরনো দোতালা বাড়ি। তার ভিতরে দশ ফুট বাই দশ ফুট পলেস্তরা খসা ছোট্ট একটা ঘর। কড়ি-বরগা জানান দিচ্ছে এ বাড়ির বয়স নেহাত কম নয়। আর স্বল্পপরিসর ঘরের বাসিন্দা শান্তি চক্রবর্তীর বয়স ছিল প্রায় পঁচাশি। বেশ কিছু দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। শুক্রবার চিরবিদায় নিলেন তিনি। গোষ্ঠ পাল সরণির ক্লাবের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম সমর্থন, অমলিন হাসি – সব কিছুই আজ স্মৃতির পাতায় রয়ে গেল।
আরও পড়ুন:
তাঁর সমবয়সি অন্যরা যখন বয়সজনিত কারণে গৃহবন্দি, সেখানে মেয়েকে হারিয়েও নাতনির হাত ধরে শান্তি চক্রবর্তী ছুটে যেতেন মোহনবাগান মাঠে, সল্টলেক স্টেডিয়ামে। একবার গিয়েছিলেন কটকেও। ফুটবলাররাও তাঁকে ভালোবাসতেন। সোনি নর্ডি নিজের সোশাল সাইটে শান্তি চক্রবর্তীর ছবি পোস্ট করেছিলেন। প্রবীর দাস মোহনবাগানে থাকার সময় প্রণাম করে কিছু টাকা হাতে গুঁজে দিয়েছিলেন। যে টাকা পেয়ে তিনি বলেছিলেন, “টাকা কেন?” প্রবীর বলেছিলেন, “প্রণামী দিলাম দিদা।”
View this post on Instagram
তাঁর জীবনে আর্থিক জৌলুস ছিল না, বিলাসিতা ছিল না, ছিল কেবল মোহনবাগান। তাঁর একটাই পরিচয়ই ছিল, ‘মোহনবাগান দিদা’। আদরের ক্লাব জিতলে হাজার কষ্ট আবার মুহূর্তে আনন্দে রূপান্তরিত হত। নিঃস্বার্থ এই ভালোবাসার স্বীকৃতি হিসাবে উমাকান্ত পালধির নামে সেরা সমর্থকের সম্মান পেয়েছিলেন ক্লাবের তরফে। ২০১৫ সালে তৈরি হয় ‘লেডি মেরিনার্স’। এই ফ্যান ক্লাবের অন্যতম উদ্যক্তা শান্তিদেবী।
শান্তি চক্রবর্তীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন মোহনবাগান সচিব সৃঞ্জয় বোস। সোশাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “কতজনের সৌভাগ্য হয় বলুন তো, মাতৃসমা ক্লাবের সঙ্গে নিজের নাম জুড়ে নেওয়ার। শান্তিদেবী ছিলেন এমন একজন, যিনি চলে গিয়েও ‘মোহনবাগানের দিদা’ হয়ে থেকে যাবেন চিরকাল। আমি ওঁর চিরশান্তি কামনা করি। কর্মসমিতির বৈঠকে আমি প্রস্তাব জানাব, শান্তিদেবীর নামে, মোহনবাগান গ্যালারির একটা সিটের যাতে নামকরণ করা হয়। ওঁর পরিবারবর্গ ও নিকটজনদের প্রতি রইল সমবেদনা।” শান্তিদেবীর মৃত্যুতে শোক জ্ঞাপন করা হয়েছে মোহনবাগান ক্লাবের তরফেও।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
জমি দখলের অভিযোগে গ্রেপ্তার, আদালতে যাওয়ার পথে ডিম হামলার মুখে কাঁথির তৃণমূল কাউন্সিলর
-
আদর্শ নেতা হতেই হবে! রাজ্যজুড়ে মণ্ডল স্তরে ‘পার্টি ক্লাস’ শুরু করছে বিজেপি
-
দিল্লির পর বাংলায় বিরাট মদ কেলেঙ্কারি! তৃণমূল জমানায় বদলে যায় নীতি, কাঠগড়ায় অভিষেক
-
বিমানবন্দরের মতো আন্তর্জাতিক মানের বাস ও ট্যাক্সি টার্মিনাল হাওড়ায়! রেলমন্ত্রীকে প্রস্তাব রাজ্যের
-
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মসনদে তামিম, কনিষ্ঠতম সভাপতি নির্বাচিত প্রাক্তন অধিনায়ক