Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩
  • মঙ্গলবার
  • ৩০ জুন ২০২৬
East Bengal

‘একবছরের মধ্যে ভারতসেরা বানাব’, বলছেন ইস্টবেঙ্গল সভাপতি, উন্নতির পথ খুঁজলেন বাইচুংও

রবিবার ছিল লাল-হলুদ ক্লাবের নবরূপকার দীপক (পল্টু) দাসের ২৫তম প্রয়াণ বার্ষিকী। তাঁর আদর্শকে সামনে রেখে 'দীপক জ্যোতি' সম্মানে সম্মানিত করা হল গুণিজনদের।

Advertisement
প্রসূন বিশ্বাস
প্রসূন বিশ্বাস

শেষ আপডেট: মার্চ ২২, ২০২৬, ২৩:২৮

link
প্রসূন বিশ্বাস
প্রসূন বিশ্বাস

শেষ আপডেট: মার্চ ২২, ২০২৬, ২৩:২৮

options
link
‘একবছরের মধ্যে ভারতসেরা বানাব’, বলছেন ইস্টবেঙ্গল সভাপতি, উন্নতির পথ খুঁজলেন বাইচুংও zoom
বাইচুং ভুটিয়াকে দীপক জ্যোতি সম্মান জানাল ইস্টবেঙ্গল ক্লাব। ছবি সংগৃহীত।

রবিবার ছিল ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের নবরূপকার দীপক (পল্টু) দাসের ২৫তম প্রয়াণ বার্ষিকী। তাঁর আদর্শকে সামনে রেখে ‘দীপক জ্যোতি’ সম্মানে সম্মানিত করা হল গুণিজনদের। ধনধান্য অডিটোরিয়ামে ইস্টবেঙ্গল সভাপতি মুরালিলাল লোহিয়া আশ্বাস দেন, এক বছরের মধ্যে ভারতের সেরা দল হবে ইস্টবেঙ্গল। উপস্থিত ছিলেন ‘পাহাড়ি বিছে’ বাইচুং ভুটিয়াও। তিনিও ক্লাবের উন্নতির পথ বাতলে দেন।

ক্লাব সভাপতি মুরালিলাল লোহিয়ার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। তিনি বলেন, “পল্টুদা বেঁচে থাকলে হয়তো এত দেরি হত না। তবে কথা দিচ্ছি পল্টুদা, তোমার দলকে ভারতের সেরা দল বানাব। চ্যাম্পিয়ন করাব।” উল্লেখ্য, বিগত কয়েক বছর ধরে সর্বভারতীয় স্তরে তেমন কোনও সাফল্য পায়নি লাল-হলুদ। ২০২৪ সালে ওড়িশা এফসি’কে হারিয়ে সুপার কাপ জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। যদিও তার আগে এবং পরে লেসলি ক্লডিয়াস সরণির ক্লাবে সাফল্য আসেনি। এবারের আইএসএলের শুরুটা অসাধারণ করেছিল ইস্টবেঙ্গল। তবে প্রথম দুই ম্যাচ জয়ের পর কেমন যেন খেই হারিয়ে ফেলেছে অস্কার ব্রুজোর দল। টানা তিন ম্যাচ পয়েন্ট খুইয়েছে তারা। এই পরিস্থিতিতে ক্লাব সভাপতির মন্তব্য উঠে এল।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

ইস্টবেঙ্গল সভাপতি বলেন, “পল্টুদা বেঁচে থাকলে হয়তো এত দেরি হত না। তবে কথা দিচ্ছি পল্টুদা, তোমার দলকে ভারতের সেরা দল বানাব। চ্যাম্পিয়ন করাব।”

অনুষ্ঠানে উদ্বোধন হল স্মারক পুস্তিকা। অ্যাডামাস ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. সমিত রায়কে ফুটবল এবং ক্রিকেটে অবদানের জন্য দীপক জ্যোতি সম্মান জানানো হয়। লাল-হলুদ ক্লাবের পক্ষ থেকে দীপক জ্যোতি সম্মান দেওয়া হল অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকে। এই সম্মান পেলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. রাজা ধর, আইনজীবী জয়ন্ত মিত্রও। ক্যানসার আক্রান্তদের পাশে দাঁড়াতে লাইফ বিয়ন্ড ক্যানসার ট্রাস্টের হাতে এক লক্ষ টাকা তুলে দেওয়া হল। যা তুলে দিলেন ইস্টবেঙ্গল সভাপতি মুরারিলাল লোহিয়া ও প্রাক্তন সভাপতি ডা. প্রণব দাশগুপ্ত। তাছাড়াও সাফ ক্লাব কাপ চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের উইমেন্স টিমকে উৎসাহ প্রদান ও সংবর্ধিত করা হয়। ছিলেন অ্যান্থনি অ্যান্ড্রুজ ও ম্যানেজার মৌমি পাল।

প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক বলেন, “ইস্টবেঙ্গলের যে দলটি আইএসএল খেলছে তার সঙ্গে ইস্টবেঙ্গল তাঁবুর যেন এক বিশাল তফাত তৈরি হয়েছে। এটাকে অতি দ্রুত কমিয়ে এক ছাদের তলায় আনতে হবে।”

প্রাক্তন অধিনায়ক বাইচুং ভুটিয়াকে দীপক জ্যোতি সম্মান জানাল ইস্টবেঙ্গল ক্লাব। তিনি বলেন, “ইস্টবেঙ্গলের যে দলটি আইএসএল খেলছে তার সঙ্গে ইস্টবেঙ্গল তাঁবুর যেন এক বিশাল তফাত তৈরি হয়েছে। এটাকে অতি দ্রুত কমিয়ে এক ছাদের তলায় আনতে হবে।” উল্লেখ্য, কেরালা ব্লাস্টার্সের সঙ্গে ম্যাচের আগেই ফোকাসটা নড়ে গিয়েছে ইস্টবেঙ্গলের। সাংবাদিক সম্মেলনে কোথায় প্রতিপক্ষকে নিয়ে নিজের স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাথা ঘামাবেন তা নয়, খোদ ক্লাব কর্তাদের ইঙ্গিত করে সুর চড়া করেছিলেন লাল-হলুদ কোচ। ইস্টবেঙ্গল-কেরালা ম্যাচের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায় ক্লাব কর্তাদের বিরুদ্ধে অস্কার ব্রুজোর একাধিক অভিযোগ। সেকথাই হয়তো মনে করিয়ে দিলেন বাইচুং। সঙ্গে বললেন, “শুধুমাত্র অর্থবল দিয়ে কোনও ঐতিহ্যবাহী ক্লাবকে চালানো যায় না। বিশ্ব ফুটবলে রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনার মতো ক্লাব সদস্যরাই পরিচালনা করেন। তাঁরা সফলও। সেই মডেলই অনুসরণ করা উচিত। যারা সত্যিকারের লাল-হলুদের সমর্থক, যাদের হৃদয়ে ক্লাবের প্রতি ভালোবাসা আছে, তাদেরই দায়িত্ব নেওয়া উচিত।”

বাইচুংয়ের কথায়, “শুধুমাত্র অর্থবল দিয়ে কোনও ঐতিহ্যবাহী ক্লাবকে চালানো যায় না। বিশ্ব ফুটবলে রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনার মতো ক্লাব সদস্যরাই পরিচালনা করেন। তাঁরা সফলও। সেই মডেলই অনুসরণ করা উচিত।”

তাছাড়াও ইস্টবেঙ্গল বনাম মোহনবাগান ডার্বি নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগঘন মন্তব্য করলেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক বাইচুং ভুটিয়া। তিনি জানান, এই ডার্বির উত্তেজনা ও পরিবেশ বিশ্ব ফুটবলের বড় বড় ম্যাচের সঙ্গে তুলনীয়। বাইচুং বলেন, “ডার্বি ম্যাচের গুরুত্ব সবসময়ই আলাদা। সেই সময় পি কে বন্দ্যোপাধ্যায় ও অমল দত্ত, দুই কিংবদন্তি কোচের লড়াই ডার্বির উত্তেজনাকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। মোহনবাগান তখন ‘ডায়মন্ড’ ফর্মেশন নিয়ে খেলছিল। আমাদের লক্ষ্য ছিল সেই ডায়মন্ড ভেঙে দেওয়া।” সেই ম্যাচের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অনুশীলনের সময় থেকেই আমরা ওই কৌশল ভাঙার পরিকল্পনা করতাম। কোচ পি কে বন্দ্যোপাধ্যায় সেই অনুযায়ী দলকে তৈরি করেছিলেন।”

কলকাতা ফুটবলকে কতটা মিস করেন, সেই প্রশ্নে ‘পাহাড়ি বিছে’ বলেন, “এই শহরের দর্শক ও ডার্বির পরিবেশই সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে। আমি রিয়াল মাদ্রিদ-বার্সেলোনা কিংবা ম্যাঞ্চেস্টার সিটি-ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড ম্যাচ দেখেছি। কিন্তু ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান ডার্বির আবেগ বিশ্বের সেরা ডার্বিগুলির সঙ্গেও পাল্লা দেয়। এমনটা খুব কম ম্যাচেই দেখা যায়। আর সেটাই ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম বড় সম্পদ।” উল্লেখ্য, সোমবার ইস্টবেঙ্গলের সামনে মহামেডান। ব্রুজোর উপর আপাতত আস্থা রেখেছে লাল-হলুদ ম্যানেজমেন্ট।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.