ইরানের প্রত্যাঘাতে নাজেহাল ইজরায়েল। মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গত ৪৮ ঘণ্টায় ইজরায়েলকে কার্যত ছিন্নভিন্ন করেছে তেহরান। গুরুতর এই পরিস্থিতিতে এবার সামনে এল ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর (Benjamin Netanyahu) বার্তা। জানালেন, ‘ইরান শুধু ইজরায়েল নয়, গোটা বিশ্বের জন্য বিপজ্জনক।’ পাশাপাশি নিজের দাবির সপক্ষে প্রমাণ পেশ করে বিশ্বের বাকি দেশগুলির কাছে নেতানিয়াহুর আবেদন, এই যুদ্ধে আমেরিকার সঙ্গী হয়ে ইরানকে তছনছ করে দেওয়া হোক।
রবিবার ইরানের হামলায় বিধ্বস্ত এক স্থান পরিদর্শনে গিয়েছিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকেই তিনি বলেন, “ইরান গোটা বিশ্বের জন্য হুমকি। যদি কেউ এর প্রমাণ চান তবে গত ৪৮ ঘণ্টা সে প্রমাণ দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ইরান আমাদের একের পর এক এলাকায় হামলা চালিয়েছে। ওরা এটাকে গণহত্যার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তবে সৌভাগ্যবশত ওদের হামলায় কারও মৃত্যু হয়নি। ওদের লক্ষ্য স্পষ্ট সাধারণ মানুষকে হত্যা করা।” এর সঙ্গেই নেতানিয়াহু বলেন, “ওরা জেরুজালেমে হামলা চালিয়েছে। এখানে রয়েছে যা তিন ধর্মের মানুষের উপাসনাস্থল। তবে অলৌকিক উপায়ে রক্ষা পেয়েছে এই পবিত্র স্থানগুলি।”
আরও পড়ুন:
নেতানিয়াহু বলেন, “ওরা জেরুজালেমে হামলা চালিয়েছে। এখানে রয়েছে যা তিন ধর্মের মানুষের উপাসনাস্থল। তবে অলৌকিক উপায়ে রক্ষা পেয়েছে এই পবিত্র স্থানগুলি।”
সম্প্রতি ইরান ব্যালেস্টিক মিসাইল হামলা চালিয়েছে ব্রিটেনের দিয়েগো গ্রাসিয়া দ্বীপে। চার হাজার কিলোমিটার দূরে সুদূর ভারত মহাসাগরে অবস্থিত এই দ্বীপ ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি। সে প্রসঙ্গ তুলে ধরে এদি নেতানিয়াহু বলেন, “ইরান ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছে তারা দূরপাল্লার হামলা চালানোয় দক্ষ। ৪০০০ কিমি দূরে হামলা চালানোর ঘটনা প্রমাণ করে এরা ইউরোপের অভ্যন্তরে যে কোনও দিন হামলা চালাতে পারে। ইজরায়েল দুই দশক ধরে ওদের ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে সতর্ক করে আসছে। পারমাণবিক ক্ষমতাসম্পন্ন এই ক্ষেপণাস্ত্র শুধু ইজরায়েলের জন্য নয়, ইউরোপের জন্যও বিরাট হুমকি।”
এরপরই গোটা বিশ্বের কাছে নেতানিয়াহু আর্জি জানান ইরানকে দমন করতে তাঁদের সঙ্গে যুদ্ধে যোগ দেওয়ার। তিনি বলেন, “ইরান আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ ও জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করছে। সমগ্র বিশ্বকে ব্ল্যাকমেল করছে। এদের এই হুমকির শাসন রুখতে হবে। আমেরিকা ও ইজরায়েল সমগ্র বিশ্বের জন্য কাজ করছে। বাকিদেরও উচিত এই সময় পাশে দাঁড়ানো।”
“ইরান আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ ও জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করছে। সমগ্র বিশ্বকে ব্ল্যাকমেল করছে। এদের এই হুমকির শাসন রুখতে হবে। আমেরিকা ও ইজরায়েল সমগ্র বিশ্বের জন্য কাজ করছে। বাকিদেরও উচিত এই সময় পাশে দাঁড়ানো।”
উল্লেখ্য, ইরানের উপর হামলার পর এই সামরিক হানাকে ছোট অভিযান বলে দাবি করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুদ্ধের ২২ দিন পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি সেই ছোট অভিযান। বরং হামলার ঝাঁজ ব্যাপক বাড়িয়েছে তেহরান। বিশ্বের তৈল ধমনী হরমুজ বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি আমেরিকাকে চমকে দিয়ে ৪০০০ কিমি দূরে ব্রিটেনের দ্বীপে হামলা চালিয়েছে ইরান। হামলা হয়েছে ইজরায়েলের দুই পরমাণু ঘাঁটিতে। এই অবস্থায় ন্যাটোকে পাশে চেয়ে ট্রাম্পের আবেদনে সাড়া দেয়নি কেউ। তাতে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এবার সেই দাবি তুলল ইজরায়েল।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
পরকীয়ার টান! তিন সন্তানকে ঘরে রেখে মোয়াজ্জিনের হাত ধরে পালালেন বাংলাদেশি মহিলা
-
সদ্যোজাত কোলে একদিনে ৭০টি রিল! জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সরের ‘আসক্তি’তে বিতর্কের ঝড়
-
‘কালের যাত্রায় পা মিলিয়ে’ মমতার সঙ্গ ছেড়ে বিধানসভায় চন্দ্রিমা, বৈঠক ঋতব্রত-সন্দীপনদের সঙ্গে
-
রাম মন্দিরের পর এবার বদ্রীনাথেও দানের টাকা চুরি! উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ
-
গাফিলতিতে ঢোকেনি অন্নপূর্ণার টাকা! ধূপগুড়ি পুরসভার ৩২ কর্মীকে শোকজ মহকুমা শাসকের