শুক্রবার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নামতে চলেছে মিশর ও ইরান। এই ম্যাচে দর্শকদের রামধনু পতাকা নিয়ে স্টেডিয়ামে ঢোকার অনুমতি দিয়েছে ফিফা। এরপরেই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। কারণ মিশর এবং ইরানে সমকামিতা আইনত অপরাধ। একই সময়ে সিয়াটলে চলছে বার্ষিক ‘প্রাইড’ সেলিব্রেশন। ফলে স্থানীয় উৎসবের সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক অবস্থানের বৈপরীত্য সামনে এসেছে।
বিশ্বকাপের ড্রয়ের পর থেকেই এই বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল মিশর ও ইরান। এমনকী তীব্র আপত্তি জানিয়েছে কায়রো-তেহরানও। মিশরের ফুটবল ফেডারেশনের বক্তব্য, এমন বিষয় তাদের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে মেলে না। দুই দেশেই সমকামীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন বলবৎ রয়েছে। এদিকে ফিফা জানিয়েছে, বিশ্বকাপ এমন একটি প্রতিযোগিতা, যেখানে লিঙ্গ পরিচয় নির্বিশেষে প্রত্যেক সমর্থককে স্বাগত জানানো হবে। এক বিবৃতিতে তারা একথা জানায়। রামধনু পতাকার সঙ্গে অন্যান্য পতাকা নিয়েও স্টেডিয়ামে ঢোকার অনুমতি থাকবে, তবে অবশ্যই বিশ্বকাপের স্টেডিয়াম আচরণবিধি মেনে। ফিফা জানিয়েছে, পতাকা ও ব্যানারের আকার এবং ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। রাজনৈতিক বার্তা বহন করবে এমন ব্যানার নিয়ে মাঠে ঢোকা নিষেধ। তাছাড়াও আচরণবিধির পরিপন্থী কোনও সামগ্রী স্টেডিয়ামে আনা যাবে না।
আরও পড়ুন:

উল্লেখ্য, রামধনু পতাকা বলতে সাধারণত এলজিবিটিকিউ (LGBTQ+) বা প্রাইড পতাকাকে বোঝায়। যা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সমকামী, উভকামী, রূপান্তরকামী এবং বিচিত্র মানুষের অধিকার ও গর্বের প্রতীক। ম্যাচটিকে তাই অনেকেই ‘প্রাইড ম্যাচ’ বললেও, ফিফা সেই বক্তব্য খারিজ করে দিয়েছে। ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো বলেন, “আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, বিশ্বকাপে কোনও ‘প্রাইড ম্যাচ’ নেই। সিয়াটলে বিশ্বকাপের ম্যাচ হবে। একই দিনে শহরের বিভিন্ন জায়গায় অন্য অনুষ্ঠানও চলবে। যদিও তার সঙ্গে ম্যাচের কোনও সম্পর্ক নেই।”
সুতরাং বিশ্বকাপের ম্যাচের সঙ্গে ‘প্রাইড’ সেলিব্রেশনকে এক করে না দেখার আহ্বান জানিয়েছে ফিফা। অন্যদিকে স্থানীয় আয়োজকরাও জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বকাপের জন্য বহু বছরের ঐতিহ্য বদলানো হবে না। সিয়াটলের বিশ্বকাপ আয়োজক কমিটির সদস্য হেডা ম্যাকলেনডন বলেন, “এই প্রাইড সেলিব্রেশন ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে হয়ে আসছে। এ বছরও হবে। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরও ভবিষ্যতে চলতে থাকবে।” তিনি আরও বলেন, এই আয়োজনের মাধ্যমে সকলকে সম্মান দেখানো হয়। উল্লেখ্য, বিশ্বকাপে এমন ইস্যু নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও ‘ওয়ান লাভ’ বাহুবন্ধনী পরে মাঠে নামার পরিকল্পনা ঘিরে তুমুল বিতর্ক হয়েছিল। সে সময় ফিফা নিয়ম ভাঙলে ফুটবলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছিল। এবার মিশর-ইরান ম্যাচকে ঘিরে সেই বিতর্কই নতুন করে সামনে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ছবি আপলোড করলেই পোষ্যের রোগের আগাম খবর দেবে স্মার্টফোন! জেনে নিন পদ্ধতি
-
কাসভকে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছিলেন, এবার সিয়ার হাতে ‘খুন’ কেতনের হয়ে সওয়াল করবেন উজ্জ্বল
-
এক ম্যাচ হারতেই গন্ডগোল! দুই মেরুতে জার্মানির কোচ-অধিনায়ক, প্রভাব পড়বে পরের রাউন্ডে?
-
‘এবার চামড়ার জুতো পরতে পারবেন’, প্লাবিত পথে দাঁড়িয়ে আশ্বাস বিধায়ক রুদ্রনীলের
-
মস্ত এক ‘ভুল’ থেকেই কিংবদন্তি হয়ে উঠেছে ১০ নম্বর জার্সি
