ভারতের ভাবমূর্তিতে বড় ধাক্কা। অ্যাথলেটিক্স ইন্টিগ্রিটি ইউনিট (এআইইউ)-এর তালিকা অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ডোপ-অপরাধী ক্রীড়াবিদদের তালিকায় শীর্ষে উঠে এল ভারতের নাম। ১ এপ্রিল পর্যন্ত প্রকাশিত এই তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে ১৪৮ জন ভারতীয় ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড অ্যাথলিটের শরীরে নিষিদ্ধ শক্তিবর্ধক ওষুধের উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে। এই পরিসংখ্যান দীর্ঘদিন শীর্ষে থাকা কেনিয়াকেও (১৪৬) পিছনে ফেলেছে।
এআইইউ হল বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সের অধীন স্বাধীন অ্যান্টি-ডোপিং সংস্থা। আন্তর্জাতিক স্তরের অ্যাথলিট এবং তাঁদের সহকারীদের উপর নজরদারি চালায় তারা। তালিকায় ভারতের বেশ কয়েকজন পরিচিত নামও রয়েছে। ১০০ মিটার জাতীয় রেকর্ডের অধিকারী দ্যুতি চাঁদ বর্তমানে ২০২২ সাল থেকে চার বছরের নিষেধাজ্ঞা ভোগ করছেন। অ্যাথলিট পারভেজ খান ২০৩০ সালের জুলাই পর্যন্ত নিষিদ্ধ। এছাড়া স্প্রিন্টার ধনলক্ষ্মী শেখর দ্বিতীয়বার ডোপিংয়ে ধরা পড়ায় আট বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন।
আরও পড়ুন:
এই তালিকায় জাতীয় স্তরের বিভিন্ন মামলার যাঁরা নিষেধাজ্ঞায় ভুগছেন, তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কেবল ডোপিং নয়, নমুনা বিকৃতি, পরীক্ষায় ফাঁকি দেওয়া, নিষিদ্ধ পদার্থ পাচার কিংবা তথ্য লোপাট সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনের মতো অপরাধে দোষী সাব্যস্তদেরও একই তালিকায় রাখা হয়েছে। এই সব অপরাধের ক্ষেত্রেও ডোপিংয়ের সমান কঠোর শাস্তি প্রযোজ্য। প্রসঙ্গত, ভারত ও কেনিয়ার পর ডোপিংয়ে তৃতীয় স্থানে রাশিয়া (৬৬)।
উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরে বিশ্ব অ্যান্টি ডোপিং এজেন্সির বার্ষিক রিপোর্টেও ডোপ-অপরাধী দেশের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছিল ভারতের নাম। তখনকার রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভারতের ২৬০ অ্যাথলিটের শরীরে নিষিদ্ধ ওষুধের উপস্থিতির প্রমাণ মেলে। সেই সময় ভারতের ন্যাশনাল অ্যান্টি ডোপিং এজেন্সি (নাডা) মোট ৭,১১৩টি প্রস্রাব ও রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেছিল। সেখানে ৩.৬ শতাংশ পজিটিভ পাওয়া যায়। এখানেই শেষ নয়, ২০২২ ও ২০২৩ সালেও ক্রীড়াবিদদের ডোপিং পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি ‘পজিটিভ’ রিপোর্ট এসেছিল ভারত থেকে।
নাডা এই পরীক্ষাগুলি পরিচালনা করলেও, প্রশ্ন উঠছে দেশের ক্রীড়া ব্যবস্থার কাঠামো ও নজরদারি নিয়ে। ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকের পর থেকে অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া বিভিন্ন জাতীয় শিবিরের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু বর্তমানে শুধুমাত্র রিলে দলের জন্য এই ক্যাম্প পরিচালিত হচ্ছে। বাকি শীর্ষস্থানীয় অ্যাথলিটরা প্রশিক্ষণের জন্য বেসরকারি সংস্থা যেমন রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, জেএসডব্লিউ গ্রুপ, টাটা গ্রুপ অথবা সরকারি বাহিনী যেমন সেনা ও নৌবাহিনীর উপর নির্ভর করছেন। ২০৩০ সালে ভারতে বসবে কমনওয়েলথ গেমসের আসর। ভবিষ্যতে অলিম্পিক আয়োজনেরও লক্ষ্য রয়েছে। তার আগে এআইইউ’র তালিকা ভারতের জন্য বড় ধাক্কা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর আগেই আচমকা অবসর অধিনায়কের, মহাফাঁপরে জাপান, হলটা কী?
-
‘বাংলায় টাটাকে আনব’, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর, সিঙ্গুরেই ফের বিনিয়োগ?
-
ছাই বন্যপ্রাণীর দেহাংশ! চোরাশিকারিদের ডেটাবেস ‘উধাও’ করতে আলিপুরের জেলা পরিষদ ভবনে আগুন?
-
‘অভিমান’-এর টিজারে ছেলেকে চিনতেই পারেননি বিশ্বজিৎ! সোশাল মিডিয়ায় বাবাকে কী বললেন ‘ইন্ডাস্ট্রি’?
-
‘শরণার্থীদের তাড়াও’, আইএসের ধাঁচে হামলা ঘিরে অগ্নিগর্ভ আয়ারল্যান্ড, বিক্ষোভ গোটা ব্রিটেনে