BREAKING NEWS

১৪ আশ্বিন  ১৪২৭  বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর ২০২০ 

Advertisement

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এসএসকেএম-এ খুলল ‘অ্যারিথমিয়া’ ক্লিনিক

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: July 1, 2016 12:10 pm|    Updated: July 1, 2016 12:25 pm

An Images

স্টাফ রিপোর্টার: হৃদস্পন্দনের হার কমে গেলে পেসমেকার বসানোর চিকিৎসার কথা প্রায় সবারই জানা৷ কিন্তু হৃদস্পন্দনের হার যদি এক ধাক্কায় অনেকটাই বৃদ্ধি পায় তবে ওষুধের বিকল্প কী হবে? অর্থাত্‍ মিনিটে ৭২-৭৪ বার এর পরিবর্তে যদি হৃদস্পন্দনের হার ১৫০-২০০ হয়ে যায়? তখন এই ‘অ্যারিথমিয়া’ অসুস্থতার কী চিকিৎসা হবে? শুধুই কি ওষুধ না কোনও অস্ত্রোপচার হবে? বিশেষ করে লাইফ স্টাইল পরিবর্তের সঙ্গে সঙ্গে এমন রোগীর সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে৷ এতদিন রাজ্যের কার্ডিওলজিস্টরা শুধুই ওষুধের উপর ভরসা করে চিকিৎসা চালিয়ে আসছিলেন৷ যদিও বিদেশে ‘অ্যারিথমিয়া’ ক্লিনিকে বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে অস্ত্রোপচার হচ্ছে৷ বিষয়টি উপলব্ধি করেই স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে এসএসকেএম (পিজি) হাসপাতালে চালু হল অত্যাধুনিক ও বিশ্বমানের ‘ই পি ক্যাথল্যাব’ পরিষেবার অ্যারিথমিয়া ক্লিনিক৷ হাসপাতাল পরিচালন সমিতির চেয়ারম্যান তথা পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন,“মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গরিব মানুষকে সম্পূর্ণ বিনাখরচে চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি সর্বাধুনিক চিকিৎসা পরিকাঠামোও চালু করছেন৷ গোটা দেশের মধ্যে বাংলা চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে যে বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলেছে তার প্রমাণ নয়া ইপি ক্যাথল্যাব৷ এখানেও সম্পূর্ণ বিনা খরচে চিকিৎসা পাচ্ছেন রোগীরা৷” শহরের বেসরকারি হাসপাতালে অ্যারিথমিয়া চিকিৎসা করাতে গেলে কমপক্ষে লক্ষাধিক টাকা খরচ হয় রোগীদের৷ ইতিমধ্যে নয়া ক্লিনিকে দু’জন রোগীর হৃদযন্ত্রে অ্যারিথমিয়া চিকিৎসা হয়েছে৷ হৃদযন্ত্রে ‘শর্টসার্কিট’ সরিয়ে অস্ত্রোপচারের পর দুই রোগী এখন পুরোপুরি সুস্থ৷
পিজির কার্ডিওলজি বিভাগীয় প্রধান ডাঃ শিবানন্দ দত্তর কথায়, “অনেকটা শর্ট সার্কিট হয়ে গেলে মাঝখান দিয়ে লাইন কেটে দিয়ে বিদুত্‍ বিভ্রাট এড়ানো হয়৷ অ্যাঞ্জিওপ্ল্যাস্টির মতোই পায়ের শিরা দিয়ে সরু তারের মতো যন্ত্র প্রবেশ করিয়ে হৃদযন্ত্রের ‘শর্টসার্কিট’ দূর করার অপারেশন করা হচ্ছে৷” হাসপাতালে ইপি ক্যাথল্যাব ডাঃ শিবানন্দ দত্তর তত্বাবধানে টিম নিয়ে চিকিৎসা করছেন ডাঃ অসিত দাসরা৷ আগামীতে সপ্তাহে অন্তত দশটি রোগীর এমন অপারেশন করার পরিকল্পনা রয়েছে ডাঃ দত্তদের৷
বছর কয়েক আগে একসময় এই ক্যাথল্যাবটি চালু ছিল৷ কিন্তু প্রথম থেকে পুরোটাই ছিল পুরনো ঘরানার যন্ত্র এবং পরে তা অকেজো হয়ে যায়৷ হার্টের বাইপাস, অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি থেকে শুরু করে হৃদযন্ত্রের সমস্ত অপারেশন মুখ্যমন্ত্রী বিনা খরচে চালু করে দেওয়ায় রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে৷ হৃদযন্ত্রের হার বৃদ্ধির রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে৷ কিন্তু অ্যারিথমিয়া ক্লিনিক চালু করা যাচ্ছিল না৷ নির্বাচনের আগে বিষয়টি জানতে পেরে চটজলদি ই পি ক্যাথল্যাব বসানোর নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী৷ যুকালিন তৎপরতায় নেমে পড়েন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ৷ নিয়ম মেনে দ্রুত যন্ত্রপাতি বসানোর পাশাপাশি অন্যান্য পরিকাঠামোও প্রস্তুত হয়ে যায়৷ স্বাস্থ্যদফতরের পাশাপাশি পিজির কার্ডিওলজি বিভাগের চিকিৎসকরাও ডাঃ শিবানন্দ দত্তর নেতৃত্বে অ্যারিথমিয়া ক্লিনিক দ্রূত বাস্তবায়নে এগিয়ে আসেন৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement