ad
ad

উত্তর মেরুর কাছে সর্বজনীন দুর্গাপুজো প্রবাসী বঙ্গসন্তানদের

মানে কৈলাস থেকে মা যাবেন আরও উত্তর দিকে।

Bengalis celebrate Durga Puja in Sweden
Published by: Monishankar Choudhury
  • Posted:October 18, 2018 9:32 am
  • Updated:June 1, 2022 7:46 pm

মনোজ চক্রবর্তী ও শীর্ষেন্দু সেন, হেলসিংবর্গ: সুইডেন। দেশটির নাম শুনলেই আম বাঙালির দুটো জিনিস মাথায় আসে। এক, হাড়হিম করা ঠান্ডা এবং নোবেল পুরস্কার। ফুটবল পাগল বাঙালি অবশ্য সুইডেন মানে এখন বোঝে, তারকা ফুটবলার ইব্রাহিমোভিচকে। এ হেন সুইডেনে হচ্ছে দুর্গাপুজো। মানে কৈলাস থেকে মা যাবেন আরও উত্তর দিকে, সুইডেনে। একেবারে উত্তর মেরুর কাছে। আসলে সুইডেনে কয়েকটা দুর্গাপুজো হয়। তার মধ্যে হেলসিংবর্গে একটা। উদ্যোক্তা আমাদের মতো বেশ কয়েকজন বাঙালি তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, যাঁরা পেশাগত কারণে কয়েক বছর ধরে দক্ষিণ সুইডেনে এই শহরের বাসিন্দা। রাজধানী স্টকহোম থেকে ৫৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণে উত্তর সাগর ও বালটিক সাগরের সংযোগস্থলের তীরে এই শহর। হিমশীতল উত্তর মেরুর খুব কাছে এটি অন্যতম বড় সর্বজনীন দুর্গাপুজো।

[পুজোয় হাওড়া-শিয়ালদহে ফুড প্লাজায় ষোলো আনা বাঙালিয়ানা, মেনুতে রকমারি পদ]

পুজোর উদ্যোক্তা আমাদের ‘বেঙ্গলি কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন অফ সাউথ সুইডেন’। গত বছর থেকে আমাদের পথচলা শুরু। এবার দ্বিতীয় বছরে পা রাখল আমাদের মাতৃ আরাধনা। প্রথামাফিক চাঁদা তুলে সাড়ম্বরে হয় আমাদের পুজো। পুজোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল নাটকীয়ভাবে। আসলে গত বছর জুন মাসে সহকর্মী, বন্ধুদের মধ্যে আড্ডা ও নানা কথায় প্রস্তাব নেওয়া হয় পুজো করার। কিন্তু এখানকার প্রতিকূল আবহাওয়া এবং সরকারি অনুমতি নিয়ে সমস্যা, দুর্গাপুজোর ঝকমারি, এসব কথা ভেবে সবাই পিছিয়ে আসেন। কাজটা খুবই কঠিন ছিল। কারণ এখানে সব সময় তীব্র ঠান্ডা আর বিদেশ বিভুঁইয়ে কাজের দিনে ‘পুজোর ছুটি’ পাওয়া মুশকিল। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বড় হলঘর ছাড়া পুজো, যজ্ঞ, আরতি, ভোগ রান্না ইত্যাদি করা অসম্ভব। গত বছর শেষ মুহূর্তে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কলকাতা থেকে অনেক কষ্টে ঠাকুর আনানো হয়।

প্রতিমা সংরক্ষণের মতো পাকা ব্যবস্থা না থাকলে আমাদের এখানে প্রতি বছর কলকাতা থেকে ঠাকুর আনিয়ে পুজো করা খুব খরচসাপেক্ষ। তাই ফাইবারের ঠাকুর আনিয়ে তা সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তার উপর ভাড়া করা হলঘরে লোক সংখ্যা হতে হবে সীমিত। সরকারি নির্দেশ মেনে বেশি লোক আনা যাবে না। তাপমাত্রা রাখতে হবে নিয়ন্ত্রণে। বাইরে যখন তীব্র শৈত্যপ্রবাহ, তখন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হলঘরে পঞ্চপ্রদীপ ও ধুনো জ্বালিয়ে হয় মায়ের আরতি। তবুও দুই দিনের পুজোয় উপস্থিত থাকেন অন্তত দুই হাজারেরও বেশি মানুষ। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন স্থানীয় সুইডিশ নাগরিকরা এবং অবাঙালি প্রবাসী ভারতীয়রাও। মালমো, গোথেনবার্গ, স্টকহোম থেকে প্রচুর বাঙালি এবং ভারতীয়রা ঠাকুর দেখতে আসেন। তবে চার দিন নয়, পুজো হয় দু’দিনের। তাই বাংলা পাঁজি দেখে দেবীপক্ষ মেনে কিন্তু ‘উইক এন্ডে’ শনি ও রবিবার দেখেই আমাদের পুজো করতে হয়। প্রথম দিন হয় মহাসপ্তমী ও মহাষ্টমীর পুজো। শেষ দিনটিতে একসঙ্গে পালিত হয় মহানবমী ও দশমী। কারণ উইকএন্ডে না করলে সবাই অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। সবাই অংশ নিতে না পারলে পুজো সর্বজনীন হয়ে উঠবে না। তাই এ বছর পশ্চিমবঙ্গে যেদিন একাদশী ও দ্বাদশী, সেদিন অর্থাৎ ২০ ও ২১ অক্টোবর আমরা ঘটা করে পুজোয় মাতব। প্রকাশিত হবে আমাদের পূজাবার্ষিকী ‘শুঁয়োপোকা’। পুষ্পাঞ্জলি, সন্ধিপুজো, ভোগ খাওয়ানো থেকে সিঁদুর খেলা, সবই হয় নিষ্ঠা সহকারে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাচ, গান, জমিয়ে আড্ডা বাদ যায় না কিছুই। স্থানীয় পুরোহিত মশায়ের সঙ্গে গলা মিলিয়ে মন্ত্রোচ্চারণ করেন উপস্থিত নারী—পুরুষ নির্বিশেষে পশ্চিমবঙ্গের নানা জেলা থেকে আসা বঙ্গসন্তানরা। আসলে এখানে বছরের বেশিরভাগ সময়েই সূর্যের মুখ দেখা যায় না। আধো অন্ধকার থাকে। সঙ্গে প্রবল কনকনে ঠান্ডা। গরমের মরশুমেও তাপমাত্রা থাকে ১০ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেনন্টিগ্রেড। তাই দুই দিনের পুজো আমাদের কাছে এক মহা মিলনোৎসব। এই দু’দিনেই সারা বছরের বঁাচার রসদ খুঁজে নিই আমরা। আমাদের পুজোর তথ্য ও ছবি বিস্তারিত পাবেন https://www.bcsofss.com ওয়েবসাইটে।

(দুই প্রতিবেদক বহুজাতিক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে সুইডেনে কর্মরত)।

[ক্যাটারিং সংস্থাকে অগ্রিম দিয়েও ভোগ এল না শহরের বহু আবাসনে!]

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ