Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৯ আগস্ট ২০২৬

জীবন বাজি রেখে কিং কোবরার ছোবল থেকে পড়ুয়াদের বাঁচালেন এই শিক্ষক

এই ঘটনা যেন সিনেমাকেও হার মানায়!

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৯, ১২:২৫

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৯, ১২:২৫

options
link
জীবন বাজি রেখে কিং কোবরার ছোবল থেকে পড়ুয়াদের বাঁচালেন এই শিক্ষক zoom
Advertisement

শান্তনু কর, জলপাইগুড়ি: জঙ্গল লাগোয়া প্রাথমিক স্কুল। রোজকার মতোই জনা চল্লিশেক পড়ুয়ার ক্লাস নিচ্ছিলেন শিক্ষক বিশ্বজিৎ দাস। কিন্তু, ক্লাসে কিছুতেই মন বসাতে পারছিল না পড়ুয়ারা। বাইরে তখন তুমুল চিৎকার জুড়ে দিয়েছে কুকুরের দল। স্বাভাবিক কৌতূহলেই জানালার কাছে যেতেই চক্ষু চড়ক গাছ শিক্ষকের! জানালা দিয়ে উঁকি মারছে প্রায় ১৪ ফুট লম্বা একটি কিং কোবরা! সাপটি যদি শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়ে, তাহলে পড়ুয়াদের জীবন বিপন্ন হতে পারে। তাই নিজের জীবনের পরোয়া না করেই সাপটিকে ধরতে ঝাঁপিয়ে পড়লেন শিক্ষক। একসময়ে ধরেও ফেললেন। কোনও সিনেমার চিত্রনাট্য নয়, বাস্তবে এমনই ঘটনা ঘটেছে ডুয়ার্সের জঙ্গল লগোয়া পানঝোড়া ফরেস্ট ভিলেজ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। অসীম সাহসিকতার জন্য শিক্ষক বিশ্বজিৎ দাসকে সংবর্ধনা দিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

[বন্দি শিশুকে ‘মুক্তি’ দিতে স্বেচ্ছামৃত্যু চাইছেন দম্পতি]

Advertisement

পাহাড়, জঙ্গলে ঘেরা সুন্দরী ডুয়ার্স। সেখানকার চামরামারি জঙ্গলের খুব কাছেই এই পানঝোড়া ফরেস্ট ভিলেজ প্রাথমিক বিদ্যালয়। এর আগে হাতি হানায় স্কুলের মিড-ডে মিলের ঘর ভেঙেছিল। কিন্তু, শুক্রবার স্কুলে যা ঘটল, তা ভাবলে এখনও শিউরে উঠছেন অনেকেই। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শিক্ষক বিশ্বজিৎ দাস যদি নিজের বিপন্ন করে রক্ষা না করতেন, তাহলে নির্ঘাত প্রাণ যেত খুদে পড়ুয়াদের। শনিবার স্কুল চত্বরে সাহসী ও ছাত্রদরদি শিক্ষককে সংবর্ধনাও দিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

[ইন্টার লকিং সিস্টেম বদল খড়গপুরে, দুর্ভোগের আশঙ্কা দক্ষিণ-পূর্ব রেলে]

কিন্তু, শুক্রবার কী ঘটেছিল পানঝোড়া ফরেস্ট ভিলেজ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে?  প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, দুপুরে তৃতীয় শ্রেণির পড়ুয়াদের ক্লাস নিচ্ছিলেন শিক্ষক বিশ্বজিৎ দাস। কিন্তু, কুকুরদের চিল চিৎকারে পঠনপাঠনে ব্যাঘাত ঘটছিল। কেন কুকুরগুলি এত চিৎকার করছে, তা দেখার জন্য জানালার কাছে গিয়েছিলেন বিশ্বজিৎ। তখনই তিনি দেখতে পান, জানালা দিকে উঁকি মারছে কিং কোবরা। বাকিরা ভয়ে পালিয়ে গেলেও, পড়ুয়াদের কথা ভেবে সাপটিকে ধরতে যান বিশ্বজিৎ। একসময়ে ধরেও ফেলেন তিনি। পরে বনদপ্তরের কর্মীরা এসে সাপটি উদ্ধার করে নিয়ে যান। বনদপ্তর সূত্র খবর, সাপটি প্রায় ১৪ ফুট লম্বা।

[কানের পর্দা ফুটো, সামান্য পরিকাঠামোয় রোগ সারালেন চিকিসৎকরা]

প্রসঙ্গত, বিশ্বের বিষধর সাপদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে কিং কোবরা। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই বিষধর সাপের ছোবলে মুর্হুতের মধ্যে মৃত্যু হতে পারে একটি পূর্ণবয়স্ক হাতির। কিন্তু, পড়ুয়াদের জন্য নিজের জীবনেরও পরোয়া করেননি শিক্ষক বিশ্বজিৎ দাস। খালি হাতেই কিং কোবরার মতো বিষধর সাপ ধরেছেন তিনি। তাঁকে কুর্নিশ জানিয়েছেন সকলেই।

[শ্রীকৃষ্ণের রাসলীলা কীভাবে সর্বজনের হল? উৎসবের মাহাত্ম্য কী?]

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.