৯ আশ্বিন  ১৪২৭  মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

অপহৃত শিক্ষিকা উদ্ধার সোনারপুর থেকে, ধৃত তিন

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: July 16, 2016 9:49 am|    Updated: July 16, 2016 9:49 am

An Images

স্টাফ রিপোর্টার: স্কুলের কাছ থেকেই ‘অপহৃত’ হলেন এক শিক্ষিকা৷ দক্ষিণ কলকাতার সাদার্ন অ্যাভিনিউ থেকে গাড়ি করে অপহরণ করে তাঁকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ৷ মোবাইলের সূত্র ধরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে সোনারপুরের একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার করল টালিগঞ্জ থানার পুলিশ৷ অপহরণের অভিযোগে অর্পিতা কোলে (৩৩) ও তনুশ্রী পাল (২৭) নামে দুই মহিলা ও প্রসেনজিত্‍ রায় নামে এক গাড়ির চালককে গ্রেফতার করা হয়েছে৷ ধৃতরা নন্দিতা ঘোষ নামে ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে পুলিশকে অভিযোগ জানিয়েছেন যে, ওই শিক্ষিকা অর্পিতাকে চাকরি দেওয়ার নামে ঠকিয়েছেন৷ ওই শিক্ষিকার কাছ থেকে তাঁরা টাকা পেতেন৷ ধৃতদের দাবি, নন্দিতাকে অপহরণ করা হয়নি৷ কথা বলতেই তাঁকে সোনারপুরে তনুশ্রী ও অমিত পালের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়৷ এই তথ্য পুলিশ যাচাই করছে৷
পুলিশ জানিয়েছে, টালিগঞ্জের একটি স্কুলের শিক্ষিকা নন্দিতা ঘোষের বাড়ি মানিকতলায়৷ দু’বছর আগে অর্পিতার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়৷ অর্পিতার ভাই অমিত পাল কেবলের ব্যবসা করেন৷ অভিযোগ উঠেছে, শিক্ষিকার চাকরি দেওয়ার নাম করে নন্দিতা অর্পিতার কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা নেন৷ কিন্তু চাকরি না পেয়ে অর্পিতা সেই টাকা ফেরত চান৷ তখন নন্দিতা তাঁকে বলেন, ওই টাকা তিনি ঋণ হিসাবে নিলেন৷ নন্দিতা ওই টাকার উপর সুদ দেন অর্পিতাকে৷ মোট ৮০ হাজার টাকা ফেরত দেন৷ কিছুদিন আগে থেকেই অর্পিতা, তাঁর ভাই অমিত পাল ও ভাইয়ের স্ত্রী তনুশ্রী তাঁকে বাকি ৭০ হাজার টাকার জন্য চাপ দেন৷ এই বিষয়ে আলোচনা করতেই এদিন অমিত, অর্পিতা ও তনুশ্রী প্রসেনজিতের গাড়ি করে সাদার্ন অ্যাভিনিউয়ে আসেন৷ তখন বাড়ি থেকে স্কুলের পথে যাচ্ছিলেন নন্দিতা৷ তিনজনই তাঁকে ওই টাকার জন্য চাপ দেন৷ ধৃতদের দাবি, তাঁরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে আলোচনার বদলে মানিকতলায় নন্দিতার বাড়িতে গিয়ে আলোচনা করতে চান৷ নন্দিতা এতে রাজি হননি৷ তখন তাঁরা নন্দিতাকে বলেন, তাঁদের গাড়িতে উঠে অমিতের বাড়িতে যেতে৷ সেখানেই তাঁরা কথা বলবেন৷ এর পর নন্দিতাকে তাঁরা গাড়িতে তুলে নেন৷
যদিও পুলিশের কাছে ওই স্কুলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, শিক্ষিকা স্কুলে আসার সময়ই স্কুলের কাছ থেকে তাঁকে গাড়িতে করে অপহরণ করা হয়৷ তাঁকে গাড়িটিতে করে কোনও অজ্ঞাত জায়গায় নিয়ে গিয়েছে দুষ্কৃতীরা৷ টালিগঞ্জ থানায় এই অভিযোগ করামাত্রই পুলিশ তদন্ত শুরু করে৷ দেখা যায়, নন্দিতার মোবাইল খোলাই রয়েছে৷ সেই মোবাইলের সূত্র ধরেই সোনারপুরে পুলিশ তল্লাশি চালায়৷ অমিত পালের বাড়ি থেকেই শিক্ষিকাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়৷ গাড়িচালক প্রসেনজিৎ, অর্পিতা ও তনুশ্রীকে টালিগঞ্জ থানায় নিয়ে আসা হয়৷ সন্ধ্যায় তিনজনকেই গ্রেফতার করা হয়৷ অমিত এখনও পলাতক৷
এদিকে, বিভিন্ন সূত্রে পুলিশ জেনেছে, বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে শুরু করে কাবুলিওয়ালা, অনেকের কাছ থেকেই ঋণ করতেন ওই শিক্ষিকা৷ কিন্তু অনেক সময়ই টাকা ফেরত দিতে পারতেন না৷ তাই বিভিন্ন সময়ে তাঁকে তাগাদা দিত ‘রিকভারি এজেন্ট’রা৷ স্কুলের অন্যান্য শিক্ষিকারা পুলিশকে জানান, এর আগে স্কুলে একাধিক ব্যাঙ্ক থেকে লোকেরা এসে শিক্ষিকাকে ডেকে টাকার তাগাদা দিয়েছে৷ বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্যও ছড়ায়৷ এমনকী, তাঁর বিরুদ্ধে স্কুলের কিছু নথিও জাল করার অভিযোগ ওঠে৷ বিষয়টি পুলিশকে মৌখিকভাবে স্কুলের পক্ষ থেকে জানানো হলেও কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি৷ বরং স্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁকে সতর্ক করে ছেড়ে দেয়৷ ওই অভিযোগগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement