১২ আশ্বিন  ১৪২৭  বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

কংগ্রেস ছাড়ার ইঙ্গিত অভিমানী মানসের

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: July 30, 2016 9:53 am|    Updated: July 30, 2016 9:53 am

An Images

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা ও নিজস্ব সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: বামপন্থী রাজনীতি থেকে এসেছেন অধীর চৌধুরি৷ ফলে কংগ্রেসের সংস্কৃতির সঙ্গে তিনি অভ্যস্ত নন৷ তিনি আসার পর রাজ্য কংগ্রেসের নিজস্ব সংস্কৃতিও হারিয়ে গিয়েছে৷ শুক্রবার এভাবেই প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতিকে চড়া সুরে আক্রমণ করলেন মানস ভুঁইয়া৷ সেইসঙ্গে রাজ্য সভাপতি হিসাবে অধীরের সাংগঠনিক যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিলেন সবংয়ের এই কংগ্রেস বিধায়ক৷ এদিন মানসবাবু প্রদেশ সভাপতি ও বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে যেভাবে সুর সপ্তমে চড়িয়েছেন, তা দল ছাড়ার প্রাথমিক ইঙ্গিত বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷ কারণ মানস বলেছেন, “সম্মান না পেলে দলে কাজ করা কঠিন৷”

অধিবেশন শুরুর দিনে বিধানসভায় কংগ্রেসের পরিষদীয় দলের বৈঠকে অধীর বলেছিলেন, “বামাকরণ যেন না হয়৷” এবার তাঁর বক্তব্যকেই হাতিয়ার করে অধীরকে বিঁধলেন মানস ভুঁইয়া৷ বললেন, “বর্তমান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বামফ্রন্ট থেকে কংগ্রেসে এসেছেন ১৯৯১ সালে৷ উনি বাম রাজনীতির লোক৷ ফলে কংগ্রেসের সংস্কৃতির সঙ্গে একাত্ম নন৷”

এতদিন ধরে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান পদ নিয়ে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগের পালা চলছিল অধীর, মান্নান ও মানসের মধ্যে৷ কিন্তু কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর এই লড়াই উচ্চগ্রামে পৌঁছল এদিন৷ বিধানসভার গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে অধীরের বিরুদ্ধে শুধু তোপ দাগাই নয়, মানসবাবু বুঝিয়ে দিলেন, দলের রাজ্য সভাপতি যেভাবে দল চালাচ্ছেন তা ভয়ংকর৷ কংগ্রেসের সংস্কৃতি ও নীতি থেকে সরে যাচ্ছেন প্রদেশ নেতৃত্ব৷ বামপন্থী রাজনীতির খারাপ দিকগুলি গ্রাস করছে তাঁদের৷  মানসের বক্তব্য, “রাজ্য কংগ্রেসে কংগ্রেস কালচার নেই৷ রাজ্য সভাপতি কংগ্রেস কালচার থেকে আলাদা৷ কংগ্রেস কর্মীরা দুঃখে আছেন৷” এও বললেন, “ইন্দিরা গান্ধী বলতেন, কংগ্রেস একটা মঞ্চ৷ কিন্তু বঙ্গ কংগ্রেসে শ্রদ্ধা-ভালবাসা-সম্মান-মর্যাদা কর্পূরের মতো উবে গিয়েছে৷ ঘৃণার বিষ চাষ হচ্ছে৷”

দলের বিরু‌দ্ধে এভাবে মুখ খোলায় কড়া শাস্তি নেমে আসতে পারে, তাতেও বিন্দুমাত্র বিচলিত নন এই বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা৷ মানসবাবুর বক্তব্য, “আমাকে কী করে ওরা (অধীর-মান্নান) তাড়াবে, তা নিয়েই তো সারাদিন বিশ্লেষণ চলছে৷ তবে এখনই দল ছাড়ছি না৷ আমার পরিবার কংগ্রেসি৷ আমি সংস্কারপন্থী৷ একবার দেখতে চাই শুভবুদ্ধির উদয় হয় কি না৷ তার পর ভাবব৷” প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতিকে সরানোর দাবি করছেন কি না, সেই প্রশ্ন এড়িয়ে মানসের জবাব, “একজন সাংসদ ছোটাছুটি করছেন দেখেই তাঁকে সভাপতি করেছে এআইসিসি৷ সরাতে হলে দলের শীর্ষ নেতৃত্বই সিদ্ধান্ত নেবে৷

অন্যদিকে পিএসসি মিটিংয়ে কংগ্রেস এবং বাম বিধায়কদের অনুপস্থিত থাকার ঘটনায় বিচলিত কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব৷ জানা গিয়েছে এআইসিসির তরফ থেকে এই সমস্যা সমাধানের জন্য প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement