অভিজিৎ চক্রবর্তী, কালনা: সেই সোনার কাঠিই বা কই, আর সেই শীতলপাটিই বা কই! আজ আর গ্রামের পটপটি গাছ থেকে তৈরি হাতে বোনা মাদুরের চল নেই বললেই চলে৷ কারণ আজকের দিনে মাদুর বলতে লোকে সিন্থেটিক মাদুরই বোঝে৷ কিন্তু প্রত্যন্ত গ্রামে এখনও হাতে বোনা মাদুরের কদর রয়েছে৷ কিন্তু স্বল্প এই চাহিদায় অস্তিত্ব সংকটের মুখে এই কুটির শিল্পটি৷
কারণ হাতে বোনা মাদুরের শিল্পীরা আজ বাড়ন্ত৷ বাজারের অভাবে এই পেশা ছেড়ে মাদুর শিল্পীরা আজ অন্য পেশায় ঢুকে পড়ছেন৷ অথচ পূর্বস্থলির দু’নম্বর ব্লকের কাষ্ঠশালী দাসপাড়ার ৩০টি পরিবার আজও মাদুর শিল্পকে কেন্দ্র করেই পেট চালাচ্ছেন৷ তবে মাদুর শিল্পীদের অভিমান, প্রাচীন এই শিল্পকে বাঁচাতে প্রশাসনের তরফেও মিলছে না কোনও সাহায্য৷
তিন দশক আগে পূর্বস্থলি অঞ্চলের মোট ১৫০টি পরিবার এই খোসলা মাদুর তৈরি করতেন৷ এঁদের মধ্যে অনেকেই আজ আর এই পেশায় নেই৷ পূর্বস্থলির প্রত্যন্ত গ্রামগুলোয় খোসলা মাদুর বেশ জনপ্রিয়৷ খালবিলের ধারে পটপটি গাছ কেটে এই মাদুর তৈরি হয়৷ আয়ুর্বেদ চিকিৎসকদের মতে এই মাদুর স্বাস্থ্যসম্মত ও বেশ আরামদায়ক৷ এতে ঘুমও ভাল হয়৷
বর্তমানে পুর্বস্থলির কাষ্ঠশালী দাসপাড়ায় কয়েকঘর শিল্পী খোসলা মাদুর তৈরি করেন৷ মাদুর শিল্পী হারু দাস, বাপী দাস, মায়ারানি দাসদের কথায় শুধুই ঝরে পড়ে আফশোস৷ এই শিল্পীদের অভিযোগ, “সিন্থেটিক মাদুর ও দক্ষিণ ভারতের কাঠির মাদুরের চাপে খোসলা মাদুর বাজার হারাচ্ছে৷ অথচ ওগুলোর দামও বেশি৷ ওগুলোতে ঘুমোলে শরীরের অপকারও বেশি৷ নতুন প্রজন্ম তো এই মাদুরের ব্যাপারে কিছুই জানে না৷ শিল্পটাকে বাঁচিয়ে রাখার অনেক সমস্যা থাকলেও পুরনো এই পেশাকেই জীবিকা করে নিয়েছি আমরা৷”
স্থানীয় দাসপাড়ার এক মাদুর শিল্পী রতন দাস বললেন, “আগে আমার দাদু এই মাদুর তৈরি করে বিভিন্ন শহরে বিক্রি করতেন৷ আজ এই মাদুর শহরের মানুষ কিনতে চান না৷ ফলে এই পেশা ছেড়ে অনেকেই বেরিয়ে আসছে৷”
মূলত বর্ষাকালই খোসলা মাদুর তৈরির উপযুক্ত সময়৷ বর্ষার জল কমতে শুরু করলেই মাদুর শিল্পীরা কাঁচি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন৷ বর্ধমানের খণ্ডঘোষ, কেতুগ্রাম, হুগলির বলাগড়, জিরাট প্রভৃতি এলাকায় বড় জলাশয়ের ধারে পটপটি গাছ গজিয়ে ওঠে৷ ফাঁপা এই গাছ কেটে সেগুলো শিল্পীরা সংগ্রহ করে এনে কয়েকদিন রোদে শুকিয়ে নেন৷ শেষে বঁটি দিয়ে চিরে জাঁতাকলে বোনা হয় খোসলা মাদুর৷ মাদুর বুনতে পুরুষদের সঙ্গে মহিলারাও হাত লাগান৷
কার্তিক থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত এই মাদুর বিক্রির সময়৷ একেকটা খোসলা মাদুরের দাম ৫০ টাকা৷ মাদুরের মরশুম যখন থাকে না, তখন শিল্পীরা দিনমজুরির কাজ করেন৷ প্রাচীন এই কুটির শিল্পকে বাঁচাতে মাদুর বুনতে বুনতেই একরাশ অভিমান ও যন্ত্রণা নিয়ে অনিশ্চয়তার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন শিল্পীরা৷ সমস্যার সমাধান নেই কারও কাছে৷
সর্বশেষ খবর
-
সমাজকে আদর্শের আয়না দেখায় ‘গোর্কির মা’, কেমন হল? পড়ুন রিভিউ
-
‘কলাকুশলীরা বেশি ভুগেছেন…’, স্বরূপের গ্রেপ্তারিতে কী বলছেন ‘বাজিগর’ অনির্বাণ?
-
তামিলনাড়ুতে বিজেপিতে মহাভাঙন! আন্নামলাই, নাগার্জুনের পর দল ছাড়লেন সুমতি
-
অস্তাচলে তৃণমূলের সূর্য! ২৮ বছর পর ‘ছুটি’ পেলেন মমতার ‘বক্সীদা’
-
সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে যাচ্ছেন রোহিত, ইংল্যান্ড সিরিজেও কোহলিকে নিয়ে অনিশ্চয়তা