BREAKING NEWS

১২ আশ্বিন  ১৪২৭  মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

সংকটে পূর্বস্থলির খোসলা মাদুরের অস্তিত্ব

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: August 20, 2016 3:54 pm|    Updated: August 20, 2016 3:54 pm

An Images

অভিজিৎ চক্রবর্তী, কালনা: সেই সোনার কাঠিই বা কই, আর সেই শীতলপাটিই বা কই! আজ আর গ্রামের পটপটি গাছ থেকে তৈরি হাতে বোনা মাদুরের চল নেই বললেই চলে৷ কারণ আজকের দিনে মাদুর বলতে লোকে সিন্থেটিক মাদুরই বোঝে৷ কিন্তু প্রত্যন্ত গ্রামে এখনও হাতে বোনা মাদুরের কদর রয়েছে৷ কিন্তু স্বল্প এই চাহিদায় অস্তিত্ব সংকটের মুখে এই কুটির শিল্পটি৷

কারণ হাতে বোনা মাদুরের শিল্পীরা আজ বাড়ন্ত৷  বাজারের অভাবে এই পেশা ছেড়ে মাদুর শিল্পীরা আজ অন্য পেশায় ঢুকে পড়ছেন৷ অথচ পূর্বস্থলির দু’নম্বর ব্লকের কাষ্ঠশালী দাসপাড়ার ৩০টি পরিবার আজও মাদুর শিল্পকে কেন্দ্র করেই পেট চালাচ্ছেন৷ তবে মাদুর শিল্পীদের অভিমান, প্রাচীন এই শিল্পকে বাঁচাতে প্রশাসনের তরফেও মিলছে না কোনও সাহায্য৷

তিন দশক আগে পূর্বস্থলি অঞ্চলের মোট ১৫০টি পরিবার এই খোসলা মাদুর তৈরি করতেন৷ এঁদের মধ্যে অনেকেই আজ আর এই পেশায় নেই৷ পূর্বস্থলির প্রত্যন্ত গ্রামগুলোয় খোসলা মাদুর বেশ জনপ্রিয়৷ খালবিলের ধারে পটপটি গাছ কেটে এই মাদুর তৈরি হয়৷ আয়ুর্বেদ চিকিৎসকদের মতে এই মাদুর স্বাস্থ্যসম্মত ও বেশ আরামদায়ক৷ এতে ঘুমও ভাল হয়৷

বর্তমানে পুর্বস্থলির কাষ্ঠশালী দাসপাড়ায় কয়েকঘর শিল্পী খোসলা মাদুর তৈরি করেন৷ মাদুর শিল্পী হারু দাস, বাপী দাস, মায়ারানি দাসদের কথায় শুধুই ঝরে পড়ে আফশোস৷ এই শিল্পীদের অভিযোগ, “সিন্থেটিক মাদুর ও দক্ষিণ ভারতের কাঠির মাদুরের চাপে খোসলা মাদুর বাজার হারাচ্ছে৷ অথচ ওগুলোর দামও বেশি৷ ওগুলোতে ঘুমোলে শরীরের অপকারও বেশি৷ নতুন প্রজন্ম তো এই মাদুরের ব্যাপারে কিছুই জানে না৷ শিল্পটাকে বাঁচিয়ে রাখার অনেক সমস্যা থাকলেও পুরনো এই পেশাকেই জীবিকা করে নিয়েছি আমরা৷”

স্থানীয় দাসপাড়ার এক মাদুর শিল্পী রতন দাস বললেন, “আগে আমার দাদু এই মাদুর তৈরি করে বিভিন্ন শহরে বিক্রি করতেন৷ আজ এই মাদুর শহরের মানুষ কিনতে চান না৷ ফলে এই পেশা ছেড়ে অনেকেই বেরিয়ে আসছে৷”

মূলত বর্ষাকালই খোসলা মাদুর তৈরির উপযুক্ত সময়৷ বর্ষার জল কমতে শুরু করলেই মাদুর শিল্পীরা কাঁচি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন৷ বর্ধমানের খণ্ডঘোষ, কেতুগ্রাম, হুগলির বলাগড়, জিরাট প্রভৃতি এলাকায় বড় জলাশয়ের ধারে পটপটি গাছ গজিয়ে ওঠে৷ ফাঁপা এই গাছ কেটে সেগুলো শিল্পীরা সংগ্রহ করে এনে কয়েকদিন রোদে শুকিয়ে নেন৷ শেষে বঁটি দিয়ে চিরে জাঁতাকলে বোনা হয় খোসলা মাদুর৷ মাদুর বুনতে পুরুষদের সঙ্গে মহিলারাও হাত লাগান৷

কার্তিক থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত এই মাদুর বিক্রির সময়৷ একেকটা খোসলা মাদুরের দাম ৫০ টাকা৷ মাদুরের মরশুম যখন থাকে না, তখন শিল্পীরা দিনমজুরির কাজ করেন৷ প্রাচীন এই কুটির শিল্পকে বাঁচাতে মাদুর বুনতে বুনতেই একরাশ অভিমান ও যন্ত্রণা নিয়ে অনিশ্চয়তার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন শিল্পীরা৷ সমস্যার সমাধান নেই কারও কাছে৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement