সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের পবিত্র গর্ভগৃহে প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল ওড়িশা সরকার। জগন্নাথ মন্দিরের প্রশাসনিক বিভাগের আইনি কমিটি এই নির্দেশিকার কথা জানিয়েছে। শুধু সাধারণ মানুষ নন, ভিভিআইপিদের ক্ষেত্রেও এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে। এখন থেকে সাধারণ মানুষ আর গর্ভগৃহে গিয়ে দেবতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন না। এই নির্দেশ অমান্য করে কেউ গর্ভগৃহে প্রবেশ করলে তাঁকে মোটা অঙ্কের টাকা জরিমানা দিতে হবে বলে কমিটি জানিয়েছে। এই নির্দেশ রূপায়ণ করতে পুরীর জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছে কমিটি।
[মাঝ সমুদ্রে জালে উঠল ধাতব যন্ত্রাংশ, চাঞ্চল্য দিঘায়]
জানা গিয়েছে, মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষা করার জন্যই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনেক সময়ই অভিযোগ ওঠে, আমিষ খাবার খেয়ে, স্নান না করে গর্ভগৃহে ঢুকে পড়েন দর্শনার্থীরা। মন্দিরের ‘ভিত্তর কাঠা’ পর্যন্ত ভিড় সামলানোর দায়িত্বে থাকা কর্মীদের অভিযোগ, ভিভিআইপিদের ক্ষেত্রে অনেক ছাড় দেওয়া হয়। কিন্তু এখন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় পড়বেন তাঁরাও। বিগ্রহের ‘সেবা’ চলাকালীন এখমাত্র সেবকরাই গর্ভগৃহে প্রবেশএর অনুমতি পাবেন। এছাড়া বাইরের কাউকে গর্ভগৃহে প্রবেশের অনুমতি নেই। গর্ভগৃহে ‘পরামানিক দর্শন’-এর ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয়েছে। দ্বাদশ শতাব্দীর এই প্রাচীন স্থাপত্যের ঐতিহ্য ও পবিত্রতা রক্ষার জন্য বিচারপতি বিপি দাসের তত্বাবধানে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটিই ওড়িশা সরকারকে রিপোর্ট দেয়। তার ভিত্তিতে এমন সিদ্ধান্ত প্রশাসনের।
[গুজরাটে ভরাডুবি হবে দলের, অনুমান খোদ বিজেপি সাংসদেরই]
প্রসঙ্গত, গতবছর একটি বিষয় নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। যে কোনও মুহূর্তেই নাকি ভেঙে পড়তে পারে শতাব্দী প্রাচীণ পুরীর জগন্নাথ মন্দির। এমনই একটা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। কারণ ফাটল দেখা দিয়েছিল প্রায় নয় শতাব্দী পুরনো এই দেবদেউলে৷ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রযুক্তিগত সুপারিশ গ্রাহ্য না হওয়ায় তখন ইস্তফা দেন দেশের পুরাতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণের কর্তা অধ্যাপক গোপালচন্দ্র মিত্র৷ পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের প্রধানত দু’টি অংশ– জগমোহন এবং বিমান৷ নাটমন্দির বা জগমোহন মন্দিরের সেই অংশ যেখানে প্রধানত উপাসনার উদ্দেশ্যে সকলে জমায়েত হয়ে থাকেন৷ দ্বিতীয় অংশ হল মন্দিরের গর্ভগৃহের উপরিভাগ বা মন্দির চূড়া যা বিমান নামে পরিচিত৷
[পৌষে শীতের আগমনী, রবিবার মরশুমের শীতলতম দিন]
১০৭৮ সাল থেকে ১১৪৮ সালের মধ্যে তৈরি জগমোহন অংশটির বয়স প্রায় ন’শো বছর৷ ঐতিহাসিক এই মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণে ইতিমধ্যেই পুরাতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে৷ তৈরি করা হয়েছে বিশেষ কমিটি৷ সমুদ্রের কাছাকাছি থাকাটাই মন্দিরের ফাটলের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা৷ মন্দিরের প্রধান কাঠামো তৈরি হয়েছে স্যান্ড স্টোনে৷ ফলে তার উপর বালুর ঘর্ষণজনিত ক্ষয়ও অতি স্বাভাবিক ঘটনা৷ তাই রক্ষণাবেক্ষণের কাজ নিয়মমাফিক চলতে থাকলেও বায়ুজনিত ক্ষয় হয়েছে মন্দির গাত্রের৷
[৭১-এর যুদ্ধের বদলা, কাশ্মীরকে মুক্ত করার হুঁশিয়ারি হাফিজ সইদের]
সর্বশেষ খবর
-
বাংলাদেশিদের ভুয়ো নথির জোগান! দিল্লির অভিশপ্ত সেই হোটেল মালিক সম্পর্কে বিস্ফোরক তথ্য
-
‘শুধু দেব নয় অনেকেই মন খুলে কথা বলছেন’, স্বরূপের গ্রেপ্তারিকে ‘রঘু’র সমর্থনে কী বললেন রূপা?
-
রাজস্থানে পাড়ি দিল মালদহের লিচু, আয়ের নতুন পথ খুলতেই মুখে হাসি চাষিদের
-
মাতলা নদীর চর দখল করে ক্যাফে! শওকত-পুত্রকে নোটিস প্রশাসনের, ভাঙা হবে ‘অরণ্যের কূলে’?
-
জ্বালানি সংকটের মাঝেই আন্দামানে প্রাকৃতিক গ্যাস ভাণ্ডার! ‘সমুদ্র মন্থনে’ বিরাট সাফল্য