Advertisement
Advertisement
Roopa Ganguly

রাম আমাদের ভোটের মুখ নয়, আমাদের মুখ নরেন্দ্র মোদি: রূপা গঙ্গোপাধ্যায়

‘মহাভারত’ সিরিয়ালের দ্রৌপদির ভূমিকায় অভিনয় করে জনপ্রিয় হয়েছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি মহিলা মোর্চার সভাপতি ছিলেন। ২০১৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে হাওড়া উত্তর কেন্দ্রে পরাজিত হন। ২০১৬ সালেই হন রাজ্যসভার সদস্য।

Advertisement
বৃষ্টি ভাণ্ডারী
বৃষ্টি ভাণ্ডারী

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ২২:২৬

link
বৃষ্টি ভাণ্ডারী
বৃষ্টি ভাণ্ডারী

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ২২:২৬

options
link
রাম আমাদের ভোটের মুখ নয়, আমাদের মুখ নরেন্দ্র মোদি: রূপা গঙ্গোপাধ্যায় zoom

আশির দশকের ‘হায়েস্ট পেড’ অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম। ‘মহাভারত’ সিরিয়ালের দ্রৌপদির ভূমিকায় অভিনয় করে জনপ্রিয় হয়েছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি মহিলা মোর্চার সভাপতি ছিলেন। ২০১৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে হাওড়া উত্তর কেন্দ্রে পরাজিত হন। ২০১৬ সালেই হন রাজ্যসভার সদস্য। তিনি বিধানসভা নির্বাচনে সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী রূপা গঙ্গোপাধ্যায় (Roopa Ganguly)।

প্রশ্ন: ১০ বছর পর বিধানসভা নির্বাচনে আপনি। একদিকে রামকে মুখ করে বিজেপির প্রচার। অন্যদিকে সোনারপুর দক্ষিণের প্রার্থী খোদ দ্রৌপদী!
উত্তর: রাম আমাদের ভোটের মুখ নয়। আমাদের জীবনে চলার আদর্শ বলা চলে। তুমি যদি চিৎকার না করে, শান্ত মনে বারকয়েক ‘জয় শ্রীরাম’ বলো, দেখবে, এক অদ্ভুত শক্তি পাবে। আমাদের ভোটের মুখ, রাজনীতির মুখ যদি বলো, তবে তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

Advertisement

“মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর কর্মপদ্ধতি দেখেই আমার রাজনীতিতে আসা। আমাদের পরিবারে কেউ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নয়। একসময় আমরা ওঁকে সমর্থন করেছি— আমার মা, পরিবারের লোক ওঁকে ভোট দিয়েছেন। কিন্তু তিনি মান রাখলেন না।”

প্রশ্ন: রাজ্যসভা থেকে বিধানসভা— ডিমোশন হয়ে গেল না?
উত্তর: ডিমোশন কেন হবে? আমি তো আগেও ইলেকশনে লড়েছি। তারপর রাজ্যসভায় পাঠানো হল। মারধর খেলাম বলে সবাই ভাবল, এ-মহিলাকে পশ্চিমবঙ্গে মেরেই দেবে! সাড়ে পাঁচ বছর আমাকে কাজ শেখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আমাকে রাজ্যসভায় যখন পাঠানো হল, অনেকে বলল, “রূপা গাঙ্গুলিকে রাজ্য রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়া হল”! এটা তো সঠিক নয়। সরকারি পরিচালনা করা কাকে বলে, কীকরে একটা কমিটি গঠন হয়, কীভাবে কমিটিগুলোর কাজ হয়, সাড়ে পাঁচ বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করা, প্রতিটি কমিটি মিটিং অ্যাটেন্ড করা, এবং সেখানে ভোকাল থাকা, তা নিয়ে পাগলের মতো পড়াশোনা করা— এই সমস্ত তো আমি শিখেছি। আর খুবই এনজয় করেছি। আমার কাছে প্রমোশন-ডিমোশন বলে কিছু নেই। বিজেপির রাজনীতিটা বুঝতে হবে, আমরা কিন্তু কিছু বুথের দায়িত্বেও আছি। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও আছেন। টিএমসি সরকারের মতো ‘একটাই পোস্ট, বাকি সবাই ল্যাম্পপোস্ট’ নয়। আমাদের দলে সবাই দায়িত্ব অনুযায়ী কাজ করে।

প্রশ্ন: আপনার ‘ল্যাম্পপোস্ট’ মন্তব্যটি নিয়ে ইতিমধ্যেই যথেষ্ট বিতর্ক হয়েছে। আপনার প্রতিপক্ষ লাভলি মৈত্র জবাবে বলেছেন, “এটা ওঁর আর ওঁর দলের কালচার”। অবশ্য তিনি আপনাকে প্রণামও জানিয়েছেন। মহিলা হয়ে মহিলাকে আক্রমণ— এ নিয়ে আপনার কী মত?
উত্তর: আমার সম্পর্কে কে কী বলল, তার সবকিছুর উত্তর আমি দেব না। এটা একেবারেই ব্যক্তিগত বিষয়। লাভলি আমার মেয়ের বয়সি। আমার বয়সের সঙ্গে আমার অভিজ্ঞতাও জুড়েছে। কাজেই বাচ্চা মেয়ে সম্পর্কে আমি কিচ্ছু বলব না। তবে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর কর্মপদ্ধতি দেখেই আমার রাজনীতিতে আসা। আমাদের পরিবারে কেউ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নয়। একসময় আমরা ওঁকে সমর্থন করেছি— আমার মা, পরিবারের লোক ওঁকে ভোট দিয়েছেন। নন্দীগ্রাম-সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় আমাদের কোম্পানির গাড়িও ওঁর কাজে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু তিনি মান রাখলেন না। পশ্চিমবঙ্গের বেহাল দশা করলেন। আমার কালচার নিয়ে অনেকেই বক্তব্য রাখতে পারে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে নারী নির্যাতনের মতো গুরুতর সমস্যা বাড়ছে, বছরে ৩৫-৩৬ হাজার ঘটনা। এসবের পর সরকার নির্বাক থাকেন, বলেন, ‘প্রেম করেছিল বলে হয়েছিল’, ‘রাত্রে কেন বেরিয়েছিল?’ অথবা ‘সাজানো ঘটনা’। ওঁর লোকেরাই করে, তাই তো কাউকে ধরিয়ে দেন না, শাস্তি দেন না। মুখ্যমন্ত্রী বলে এখনও অবধি ওঁকে ‘মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী’ বলে সম্বোধন করি। ওঁর লোকেরাই আমাকে মারল! মাটিতে ফেলে, চুল ছিঁড়ে, ব্রেন হ্যামোরেজ করে দিল! আমার জন্ম তো এই রাজ্যেই। দোষীদের উনি শাস্তি দিলেন? কেবল উনি সরকারে আছেন বলে, সম্মান করতে পারব না। আমি তো রাজনীতি কিছু পাওয়ার জন্য করতে আসিনি। ঈশ্বর আমাকে যা দিয়েছেন, তাতেই আমি যথেষ্ট খুশি।

West Bengal Assembly Election: Exclusive Interview with Roopa Ganguly

প্রশ্ন: ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর হাওড়ায় লক্ষীরতন শুক্লার কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। এবারের ফলাফল কী হতে পারে বলে মনে করেন?
উত্তর: ওসব নিয়ে ভাবি না। সবটাই মানুষের উপর ছেড়ে দিয়েছি। তাঁদের হাসিমুখ, হাত নাড়া, যাঁরা সর্বসমক্ষে হাত নাড়ছেন না, তাঁরাও জানলা খুলে নীরবে ঘাড় নাড়ছেন— এ সমস্ত ভঙ্গি আমার চেনা। ১০ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় সবার জন্যই আমি নির্বাচনী প্রচারে খেটেছি। সারা রাজ্য চষে বেরিয়েছি, ফলে ইলেকশন ক্যাম্পেনের সম্যক অভিজ্ঞতা আছে। ২০১৯-এ টানা ৫৩ দিন রাস্তায় থেকেছি। এখানের সিপিআইএমের প্রভাবশালী নেতা-নেত্রীরাও আমাকে জড়িয়ে ধরে বলেছেন, “আমরা এবার তোমাকেই জিতিয়ে আনব!” তৃণমূলের প্রচুর সমর্থক যাঁরা চুরি-চামারি করতে চাননি, সত্যিই পরিবর্তন আশা করেছিলেন, তাঁরাও আজ কিছুটা হতাশ। কোনও বাবা-মা চায় না তাদের সন্তান রাজনৈতিক আশ্রয়ে বড় হয়ে, সামান্য আয়ের জন্য গুন্ডাবৃত্তি করে সংসার চালাক। সিভিক ভলান্টিয়াররাও খুশি নয়, তারা জানে যে সারাদিনের সামান্য আয়ে সংসার চলবে না। রাতে টিএমসি পার্টি অফিসে যেতেই হবে। তৃণমূল পার্টি অফিসের প্রোগ্রাম হলে, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির শ্যুটিং বন্ধ করে সেখানে যদি যোগ না-দেওয়া হয়, তাহলে প্রোডিউসার ঝাড় খায়! মানুষ আর কতদিন সহ্য করবে? আন্দোলনের জায়গা অবশ্যই দিতে হবে। এভাবেই সুস্থ সরকার চলে।

প্রশ্ন: সোনারপুর দক্ষিণে বাম প্রার্থী পারমিতা দাশগুপ্তকে কি গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী হিসেবে দেখছেন, নাকি কাউন্ট করছেন না?
উত্তর: কেন কাউন্ট করব না? তিনি তাঁর কাজ করছেন।
প্রশ্ন: নতুন দল গড়ে বিরোধী হচ্ছেন রাজন্যা হালদার। এ বিষয়ে কী মত?
উত্তর: ভারী মিষ্টি দেখতে বাচ্চা মেয়ে। সেদিন দেখা হল, হাত নাড়ল। ঠিক আছে, সবাই নিজের মতো করে কাজ করছে।

“যে-এলাকায় যাবো, সেখানে আগে টিএমসি প্রচার করে গিয়েছে। তারপর থেকেই রাস্তা খোঁড়া শুরু। ইট ফেলে রেখেছে, টোটো পর্যন্ত ঢুকছে না। রাস্তাগুলোও তো সরু। প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় কোটি কোটি টাকা পেয়েও এই কাজ করেছে। মানুষ তো জানে সমস্যাটা! ড্রেন, জল, মশা, অপরিচ্ছন্ন বাজার— সাধারণ মানুষকে থাকতে হচ্ছে এর মধ্যে। এবারে আর কেউ সহ্য করতে রাজি নয়।”

প্রশ্ন: শাসকদলের অভিযোগ, বিজেপি ক্রমাগত মহিলা প্রার্থীদের কটাক্ষ করে। এই পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার অভিযোগ নিয়ে কী বলবেন?
উত্তর: বিজেপিকে নিয়ে অনেক অভিযোগ তোলা হচ্ছে, বেশিরভাগই বানানো। বলা হচ্ছে, বিজেপি নাকি মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ করে দেবে। এসব বোকা বোকা অভিযোগের কোনও মানে নেই। সরকার তো আমরা চালাব, আমরা কি মাছ-মাংস ছাড়া থাকতে পারি? মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ সপ্তাহে একদিন হলেও মাংস-ভাত খাওয়ার চেষ্টা করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাবছেন, সাধারণ মানুষ এগুলো বিশ্বাস করবে। আসলে সবাই মিম বানাচ্ছে, হাসছে। তার মধ্যেই উনি বেঁচে আছেন। নেতৃত্ব যাই বলুক, যার বাড়ির সামনের ড্রেনটায় থিকথিক করছে মশা… আমি জিগ্যেস করেছি স্থানীয়দের, গত তিন বছরে একবারও সেই ড্রেন পরিষ্কার করতে লোক এসেছে কিনা। মিউনিসিপাল কর্পোরেশন, পঞ্চায়েত সবই তো আপনারা জিতে আছেন। মানুষ বলেছে, কেউ আসেনি! যে এলাকায় যাব, সেখানে আগে টিএমসি প্রচার করে গিয়েছে। তারপর থেকেই রাস্তা খোঁড়া শুরু। ড্রেন, জল, মশা, অপরিচ্ছন্ন বাজার— সাধারণ মানুষকে থাকতে হচ্ছে এর মধ্যে। তারা খুব ভালো জানে। এবারে আর কেউ সহ্য করতে রাজি নয়।

প্রশ্ন: কঙ্গনা রানাউত কলকাতায় এলেন বিজেপির প্রচারে। স্ট্র্যাটেজি হিসেবে নিঃসন্দেহে দারুণ, কী বলেন?
উত্তর: সারা দেশে বিজেপির এত বড় নেতা-নেত্রী আছেন। এতে সবার খুব ভালো নাও লাগতে পারে। কিন্তু সারা দেশে যখন বিজেপি এতগুলো রাজ্য পরিচালনা করে, তখন স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন জায়গা থেকে নেতৃত্ব উঠে আসবে।
প্রশ্ন: বলা হচ্ছে, এসআইআরের উদ্দেশ্য ঠিক আছে, তবে কিছু পদ্ধতিগত ত্রুটি রয়েছে। তার ফলে সাধারণ মানুষও ভুক্তভোগী হয়ে পড়ছেন।
উত্তর: এই রাজ্যে তো এসআইআরের পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করেছেন রাজ্য সরকারের কর্মচারীরাই— বিএলও থেকে ডিএম পর্যন্ত। ভুলের জন্য তারাই দায়ী, অথচ আন্দোলনও তারাই করল। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী প্রথমদিন থেকে বলেছিলেন, হতে দেব না। পরে প্রক্রিয়া শুরু হলে আবার বললেন, ঠিক করে হতে দেব না। আবার পোস্টারে লেখা দেখা গেল, ‘ন্যায্য মানুষের ভোটাধিকার যেন না বাদ যায়।’ অন্যায্য লোকেদের তো আপনিই ঢুকিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গে! যা-কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়েছে, তার জন্য প্রত্যক্ষভাবে দায়ী রাজ্য সরকারের অফিসারেরা।

প্রশ্ন: সম্প্রতি দিলীপ ঘোষের একটি মন্তব্য ঘিরে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। তবে এই ধরনের বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছেই।
উত্তর: আমি মন্তব্যটা জানি না, তাই সে নিয়ে কোনও কথা বলব না।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.