Advertisement
Advertisement
Lovely Maitra

মানুষের জন্য কাজ করেছি, অসত্য বলার দরকার পড়ে না: লাভলি মৈত্র

বিরোধীদের অভিযোগ, তিনি জনসংযোগে দুর্বল! সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক লাভলি মৈত্র কিন্তু দাবি করেন, ৩৬৫ দিনের ২৪ ঘন্টাই সাধারণ মানুষের সমস্যা শোনার জন্য উপস্থিত থাকেন তিনি।

Advertisement
বৃষ্টি ভাণ্ডারী
বৃষ্টি ভাণ্ডারী

শেষ আপডেট: এপ্রিল ৬, ২০২৬, ১৯:২৩

link
বৃষ্টি ভাণ্ডারী
বৃষ্টি ভাণ্ডারী

শেষ আপডেট: এপ্রিল ৬, ২০২৬, ১৯:২৩

options
link
মানুষের জন্য কাজ করেছি, অসত্য বলার দরকার পড়ে না: লাভলি মৈত্র zoom

রাজনৈতিক লড়াইয়ে মজেছে সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র। বিজেপি প্রার্থী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের বিপক্ষে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অরুন্ধতি মৈত্র, যিনি লাভলি মৈত্র (Lovely Maitra) হিসেবেই বেশি পরিচিত। সংবাদ প্রতিদিন ডট ইন-এর সঙ্গে কথোপকথনে ধরা দিলেন সোনারপুর দক্ষিণের বিদায়ী বিধায়ক।

প্রশ্ন: প্রতিপক্ষ রুপা গঙ্গোপাধ্যায়, কীভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন?
উত্তর: প্রতিপক্ষে যেই থাকুন, গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমাদের লড়াই করার মূল হাতিয়ার উন্নয়ন। উন্নয়ন সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে চলেছি। ফলে বিচলিত হওয়ার কারণ নেই।
প্রশ্ন: বিরোধীদের অভিযোগ, লাভলি মৈত্রের জনসংযোগ দুর্বল। সে কারণেই প্রাথমিকভাবে কেন্দ্র বদলের জল্পনা শোনা যাচ্ছিল।
উত্তর: বিরোধীরা তো সারা বছর মানুষের পাশে থাকেন না! সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভায় কী হচ্ছে, হচ্ছে না, সেসবের খোঁজখবরও রাখেন না। আমার সঙ্গে সাধারণ মানুষের সংযোগ ২৪ ঘন্টা ৩৬৫ দিনের। সারা বছর, সারা মাস আমি পাড়ায় পাড়ায়, প্রত্যেকটা এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলতে যাই, তাদের খোঁজখবর রাখি। আমার বিধানসভায় এমন কোনও পাড়া নেই, যেখানের মানুষ বলতে পারবেন যে, বিধায়ককে তাঁরা কোনওদিন দেখতে পাননি। মানুষের সমস্যার কথা আমি নিজে শুনে, সমাধান করার চেষ্টা করেছি। ১০০ শতাংশ না পারলেও পাঁচ বছরে যতটা সম্ভব করেছি। বিরোধীরা কী বলছে, তা আমার জানা নেই। আমার কাছে কেন্দ্র বদলের কোনও খবর ছিল না।

Advertisement

West Bengal Assembly Election: Exclusive Interview with Lovely Maitra

প্রশ্ন: অনেকের মতে, এই এলাকায় উন্নয়নের বেহাল দশা। আপনিও কি তা মনে করেন?
উত্তর: গত পাঁচ বছরে দিদির উন্নয়নকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। তার একটা রিপোর্ট কার্ড তৈরি করেছি। এবং মাথা উঁচু করে প্রত্যেকটা বাড়ির মানুষের হাতে সেই রিপোর্ট কার্ড তুলে দিয়েছি। মানুষ নিজেরাই দেখে নেবেন, তাঁর এলাকায় কী কী কাজ হয়েছে, কোন কোন সরকারি পরিষেবা দেওয়া হয়েছে। সারা বছর কাজ করি বলেই সম্মান নিয়ে মানুষের কাছে যেতে পারি। অসত্য কথা বলার দরকার হয় না। ‘উন্নয়নের বেহাল দশা’ যারা বলছে, সারা বছর কাজের সময় তাদের দেখতে পাওয়া যায় না। তারা ভোটের সময় ভোটপাখির মতো আসে। মানুষের মধ্যে কুৎসা, অপপ্রচার ছড়ানোর চেষ্টা করে। কিন্তু আমার বিশ্বাস, সোনারপুর দক্ষিণের মানুষ এত বোকা নয়। তারা যা চোখে দেখছে, সেই হিসেবেই শেষ সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।

“আমি ব্যক্তি-আক্রমণে বিশ্বাসী নই। যেকোনও মানুষ ভোটে দাঁড়াতে পারেন। যেকোনও দল থেকে প্রার্থী হতে পারেন। সেটা তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার। রূপা গঙ্গোপাধ্যায় আমার থেকে সিনিয়র। অবশ্যই ওঁর প্রতি আমার শ্রদ্ধা-সম্মান থাকবে। আমাদের লড়াই রাজনৈতিক। গণতান্ত্রিকভাবে সেই লড়াই লড়ব।”

প্রশ্ন: আগামিদিনে কী কী উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা রয়েছে?
উত্তর: আমি মনে করি, কাজ করার ইচ্ছে থাকলে, কাজের কোনও শেষ হয় না। প্রত্যেকদিনই এলাকার মানুষের জন্য নতুন কিছু করার ভাবনাচিন্তা করা যায়। দিদির আনা নতুন প্রকল্পগুলো মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। আমার স্বপ্ন ছিল নিজের এলাকায় একটা ভালো হাসপাতাল তৈরি করা। এখানে কেবলমাত্র একটা রুরাল হসপিটাল ছিল এতদিন। এবার স্টেট জেনারেল হাসপাতাল তৈরির জন্য ফান্ড চলে এসেছে। কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের জন্যও এমন বেশ কিছু স্বপ্ন রয়েছে, যা পূরণ করার আশা রাখি।

প্রশ্ন: আপনার প্রতিপক্ষ রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। সম্প্রতি আপনাকে নিয়ে জিজ্ঞেস করায় তিনি বলেন, “উনিও একজন মহিলা, ওনাকে নিয়ে কোনও খারাপ কথা বলব না।” বিরোধীপক্ষ মানেই যে আক্রমণাত্মক কথা বলার প্রবণতা, সে চিত্র খানিক হলেও পালটেছে?
উত্তর: আমি কখনওই ব্যক্তি-আক্রমণে বিশ্বাসী নই। যেকোনও মানুষ ভোটে দাঁড়াতে পারেন। যেকোনও দল থেকে প্রার্থী হতে পারেন। সেটা তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার। যাঁরা আমার বিপক্ষে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের সকলকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। রূপা গঙ্গোপাধ্যায় আমার থেকে সিনিয়র। অবশ্যই ওঁর প্রতি আমার শ্রদ্ধা-সম্মান থাকবে। আমাদের লড়াই রাজনৈতিক। গণতান্ত্রিকভাবে সেই লড়াই লড়ব।

“বিজেপি মহিলাবিদ্বেষী দল। মহিলারা যে আত্মনির্ভর হতে পারে, তাদের নিজস্ব পরিচয় থাকতে পারে, এটা ওরা মানতেই পছন্দ করে না। আমি গত চোদ্দ বছর টেলিভিশনে কাজ করছি। বিধায়ক হিসেবেও মানুষের সমর্থন-ভালোবাসা পেয়েছি। আমার বরের পেশাগত পরিচয় আমার একমাত্র পরিচয় পারে না।”

প্রশ্ন: একদিকে যুযুধান দুই পক্ষ শ্রেয়া পাণ্ডে ও তাপস রায় পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে রূপা গঙ্গোপাধ্যায় এবং লাভলি মৈত্রও (Lovely Maitra) সৌজন্যের কথা বলছেন। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে এক ব্যক্তিক্রমী রাজনৈতিক সৌজন্যের ছবি দেখছি, এমন কি বলতে পারি?
উত্তর: একে অপরের প্রতি সৌজন্য-ভদ্রতা সবসময় থাকা উচিত বলে মনে করি আমি। কারণ সকলেই রক্তমাংসের মানুষ। প্রত্যেকের আত্মসম্মান রয়েছে। সত্যি বলতে, শেষ কয়েক বছরেই ব্যক্তি-আক্রমণ বিষয়টা তীব্রতর হয়েছে। বিরোধীপক্ষের দিক থেকে তা প্রায়শই হতে দেখা যায়। বিজেপির একাধিক নেতা মহিলাদের অসম্মান করে কথা বলেন। এটা বাংলার সংস্কৃতি নয়।
প্রশ্ন: সোনারপুর দক্ষিণ এলাকার গোষ্ঠিদ্বন্দ্ব নিয়ে কী বলবেন?
উত্তর: এখানে গোষ্ঠিদ্বন্দ্ব নেই। আমার কেন্দ্রবদলের জল্পনাটিও মতোই ভুয়ো খবর। তৃণমূল কংগ্রেস অনেক বড় পরিবার। পরিবার বড় হলে মান-অভিমান-ঝগড়াঝাটি হয়েই থাকে। কিন্তু দিনের শেষে লড়াই যখন পরিবার রক্ষার, তখন সব ভুলে সকলে মিলেমিশে এক হয়ে যায় সকলে। 

প্রশ্ন: রাজন্যা হালদার একসময় আপনার সতীর্থ ছিলেন। এখন নিজস্ব দল তৈরি করেছেন। আজ তিনি আপনার বিরোধীপক্ষ।
উত্তর: এ নিয়ে কোনও কথা বলতে চাই না। সকলকে নিয়ে আমি মন্তব্য করা পছন্দ করি না।
প্রশ্ন: বিরোধীপক্ষের অভিযোগ, স্বামী পুলিশ আধিকারিক বলে অনেক রকমের সুযোগসুবিধা পান। কী জবাব দেবেন?
উত্তর: বিজেপির কথা বলছেন? ওদের স্বভাবই হল, মহিলাদের ‘ডমিনেট’ করা। ওরা মহিলাবিদ্বেষী দল, পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব নিয়ে চলে। মহিলারা যে আত্মনির্ভর হতে পারে, তাদের নিজস্ব পরিচয় থাকতে পারে, এটা ওরা মানতেই পছন্দ করে না। সকলকেই কারও বউ, মেয়ে, মা— এসব তকমা লাগিয়ে দিতে পছন্দ করে। আমি নিজে গত চোদ্দ বছর টেলিভিশনে কাজ করছি। বিধায়ক হিসেবেও মানুষের সমর্থন-ভালোবাসা পেয়েছি। নিজের পরিচিতি তৈরি করতে পেরেছি। আমার বরের পেশাগত পরিচয় তো আমার একমাত্র পরিচয় হতে পারে না।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.