Advertisement
Advertisement
Rudranil Ghosh

‘ভবানীপুরে মমতার বিরুদ্ধে শুভেন্দু বিজেপির মোক্ষম চাল,’ দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে কী বললেন রুদ্রনীল?

"দু-তিনটে প্রেম হলেই কি সবাই চরিত্রহীন হয়ে যায়?" দল বদলালেই তাঁকে 'দল-বদলু' বলা যায় না, দাবি রুদ্রনীলের। অকপট উত্তর দিলেন এমন আরও নানা প্রশ্নের।

Advertisement
বৃষ্টি ভাণ্ডারী
বৃষ্টি ভাণ্ডারী

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ১৯:৩৬

link
বৃষ্টি ভাণ্ডারী
বৃষ্টি ভাণ্ডারী

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ১৯:৩৬

options
link
‘ভবানীপুরে মমতার বিরুদ্ধে শুভেন্দু বিজেপির মোক্ষম চাল,’ দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে কী বললেন রুদ্রনীল? zoom

হাওড়া শিবপুর কেন্দ্রে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী রুদ্রনীল ঘোষ (Rudranil Ghosh)। বিপক্ষে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী রানা চট্টোপাধ্যায়। রুদ্রনীল এক সময় ছিলেন তৃণমূলে, যে-কারণে কটাক্ষের মুখোমুখি হতে হয় আজও। সংবাদ প্রতিদিন ডট ইন-এর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তারকা প্রার্থী।

প্রশ্ন: আপনার তো প্রথম থেকেই ইচ্ছে ছিল হাওড়া কেন্দ্রে দাঁড়ানোর?
উত্তর: নিজের শিকড়ের আলাদা গন্ধ, আরাম আছে। যতই বৈভব, যতই সাফল্য আসুক, নিজের বাড়ির যে আন্তরিকতা, ছোটবেলার স্মৃতি নতুন করে জাগিয়ে তোলে। দল-মত নির্বিশেষে মানুষ ফোন করছেন, যে ‘তুই এখান থেকেই লড়, এখান থেকেই জেত, আমাদের আশীর্বাদ আছে’! তারা কিন্তু আমার যুযুধান পক্ষ। কেউ তৃণমূল, কেউ বাম সমর্থক।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

প্রশ্ন: ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে, ভবানীপুর কেন্দ্রে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের কাছে প্রায় ২৯ হাজার ভোটে হেরেছিলেন। এবার আপনার প্রতিপক্ষ রানা চট্টোপাধ্যায়, অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিদ্বন্দ্বী। দুশ্চিন্তা কি কিছুটা লাঘব হল?
উত্তর: তা নয়। দলকে ধন্যবাদ জানাব যে ভবানীপুরের মতো কঠিন আসনে প্রার্থী হিসেবে আমাকে বিবেচনা করেছিলেন তাঁরা। সে সময়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করার আঁতুড়ঘর ছিল ভবানীপুর। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর গড়। ফিল্মস্টারেরা যখন প্রার্থী হন, রাত্তিরবেলাতেও সানগ্লাস লাগিয়ে ঘোরেন। কিন্তু তাঁরা কেবল নিজের আর্থিক সাফল্যটুকু বুঝলেন, সাধারণ মানুষের পরিস্থিতিটা বুঝলেন না। বিশেষত গরিব ও নিম্ন-মধ্যবিত্তদের যে-সমাজ, তার সঙ্গে মিশলাম না! অতিগলির ভিতরে কোথায় ড্রেনে জল জমে, কোথায় অসুখ-বিসুখ হয়, সেখানে মানুষের তাদের দুর্গতি কী হতে পারে, জানি না। আমি নিজে যেহেতু একটা চকচকে জীবনে থাকি, তাই ওখান থেকে নাকে রুমাল দিয়ে সরে গেলাম, এরকম প্রচুর প্রার্থীকে তৃণমূল ক্রমাগত গুঁজত। শিল্পজগত থেকে মানুষ অবশ্যই রাজনীতিতে যাবেন, কিন্তু এমন মানুষ কেন, যারা সানগ্লাস ছাড়া মিছিলে নামেন না? এ জন্যই আজ তাঁরা প্রত্যাখ্যাত। আমার উপর শাসকদল তিনবার এমন অ্যাটাক করল কেন যেখানে আমাকে প্রায় মেরে ফেলা হল? তার মানেই তো লড়াই কঠিন ছিল! বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো দুঁদে রাজনীতিবিদ নিজের মাটি ছেড়ে নন্দীগ্রামে চলে যেতে চাইলেন কেন?

প্রশ্ন: একটু বাধা দিয়ে পুনরায় মূল প্রশ্নে ফিরছি, রানা চট্টোপাধ্যায় তুলনায় দুর্বল প্রতিদ্বন্দ্বী। তাতে কি বাড়তি সুবিধা হচ্ছে?
উত্তর: না, তৃণমূল নিজেরাই এখন যথেষ্ট দুর্বল। শিবপুরের জেতা বিধায়ক ছিলেন মনোজ তিওয়ারি। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি আর গুন্ডামির এত অভিযোগ, যে দল তাকে আর টিকিট দেওয়ার সাহস পায়নি। শিবপুরের মানুষের মনে তৃণমূল বিধায়ক যে ক্ষত তৈরি করেছেন, সেখানে মলম দেওয়ার জন্য এখন একজন ডাক্তারবাবুকে (রানা চট্টোপাধ্যায়) পাঠানো হয়েছে। কিন্তু তিনি কি নতুন? না! তিনি তো পাশের বিধানসভা বালির বিধায়ক ছিলেন। সেখানেও এমন একটা অবস্থা তৈরি করেছেন যে, বালিতে দাঁড়ানো মুশকিল হয়ে গিয়েছে। এখন শিবপুরে যদি কোনওরকমে একটা ঠেকনো দেওয়া যায়, সেই আশায় বালির ওই ফেলিওর বিধায়ককে এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। কাউন্সিলরদের দিয়ে পুকুর ভরাট চলছে। তোলাবাজি সমানে বেড়ে চলেছে। কিছুদিন আগে হাওড়া গোলাবাড়িতে প্রকাশ্যে গুলি চলল, আর যারা গুলি চালাল সেই দুষ্কৃতীদের দেখা গেল, বিধায়কের বাইকে চড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। হাওড়াবাসী এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চাইছে। রানাবাবু আমার কাছে অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রার্থী কি না, সেটা এই সামগ্রিক আলোচনার মধ্যেই চলে আসছে।

শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা যখন বিক্ষোভ করতে যাচ্ছে, তখন সে হিন্দু হোক বা মুসলমান, বিকাশ ভবনের সামনের রাজপথে তৃণমূলের আপরাধিরা তাদের মেরে রাজপথ রক্তাক্ত করেছে। সেখানে তো কেবল হিন্দু বাড়ির শান্তনু চক্রবর্তীর রক্ত ছিল না, মুসলমান ভাই সামিউল ইসলামের রক্তও পড়েছে!

প্রশ্ন: বিজেপির বিরুদ্ধে ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতির অভিযোগ। কীভাবে মোকাবিলা করবেন? শিবপুরে যথেষ্ট সংখ্যায় সংখ্যালঘু ভোটার রয়েছেন।
উত্তর: আপনাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, ‘আপনি কে?’ যদি গর্বের সঙ্গে উত্তর দেন, ‘আমি হিন্দু’, তাহলেই আপনি সাম্প্রদায়িক হয়ে যান নাকি? নিজের সম্প্রদায়কে সম্মান করা ও তুলে ধরা তো সকলেরই বেসিক দায়িত্ব। আজকে পশ্চিমবঙ্গে এত অভাব, এত দুর্নীতি! অথচ যতক্ষণ না লোক-জানাজানি হয়েছে, সরকারিভাবে কোনও ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। মাস্টার ডিগ্রি, এমটেক-বিটেক-এমএসসি-এমকম করা ছেলেমেয়েরা যখন চাকরির জন্য চোখের জল নিয়ে লাইনে দাঁড়াচ্ছে, তখন শাসকদল উল্লাস করে বলছে, ‘এতজনকে আমরা বেকার ভাতা দিচ্ছি’! চাকরির আন্দোলনে হিন্দু-মুসলিম সকলের রক্ত ঝরেছে! আমি হিন্দুদের হয়ে কথা বলছি কারণ হিন্দুদের হোমল্যান্ড হিসেবেই তো পশ্চিমবঙ্গের জন্ম হয়েছিল। যারা এই ইতিহাস ভোলাতে চাইছে তারা শয়তানি করছে। শিক্ষাদপ্তরের দুর্নীতির জন্য ২৬ হাজারের চাকরি চলে গেল, ৮ হাজার সরকারি স্কুল বন্ধ হয়ে গেল। হিন্দু দেবদেবীদের গলা কেটে ফেলা হচ্ছে, মা কালীকে প্রিজন ভ্যানে তোলা হচ্ছে। স্কুল-কলেজে হিন্দু মুসলিম ছাত্রছাত্রীরা একসঙ্গে মিলে সরস্বতী পুজো করত, এটাই বাংলার সংস্কৃতি। এখন সরস্বতী পুজো বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। আজও আমার ৩০-৪০ শতাংশ মুসলমান বন্ধু আছে। সিপিএম-এর পুরনো সিলেবাস আঁকড়ে ধরে যারা হিন্দু ধর্মকে অস্বীকার করাকেই সেকুলারিজম মনে করে, তাদের মতো চরম শয়তানি আর কেউ করে না। হাওড়ার একটা অংশে মুসলমানরা রয়েছেন। তাদের সঙ্গে তো আমি পড়াশোনা করে বড় হয়েছি। আমি যখন হাওড়ার প্রার্থী হলাম, হিন্দুদের পাশাপাশি মুসলিমরাও বাড়ি আসার নিমন্ত্রণ জানিয়েছেন। হাতে কাজ না-থাকা কিছু উগ্রবাদী মুসলমান যুবক যেমন শওকত মোল্লা, জাহাঙ্গির, শেখ শাজাহানের মতো নেতাদের হাতে বন্দুক-বোমা তুলে দিয়েছে শাসকদল। তারাই অশান্তি তৈরি করে। বাকি মুসলমান সমাজ কিন্তু ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার-সাংবাদিক হতে চাইছে। কেন্দ্রের একটাও এমন প্রকল্প রয়েছে, যা কেবলমাত্র হিন্দুদের জন্য? মুসলমান সম্প্রদায়ের জন্য কিন্তু বেশি সুবিধাজনক ব্যবস্থা রয়েছে, যা এর আগে কংগ্রেস সরকার করেনি। ভোটের জন্য এই বিভাজন সৃষ্টি করা হচ্ছে। 

West Bengal Assembly Election: Exclusive Interview with Rudranil Ghosh

প্রশ্ন: বিরোধীরা কিন্তু ইতিমধ্যেই বলছেন, এবারেও ধরাশায়ী বিজেপি!
উত্তর: বিরোধী কে? বামপন্থীরা তো নিজেরাই নিজেদের বিরোধী। ওরা সেক্যুলারিজম সম্পর্কে মিথ্যে কথা বলেছে। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি, মেঘনাদ সাহার মতো মানুষের জন্য পশ্চিমবঙ্গ ‘হিন্দুদের হোমল্যান্ড’ হয়ে উঠতে পেরেছিল। সিপিএম-এর ভোটার নেই, শুধু কয়েকটা নেতা বেঁচে আছে! সাধারণ মানুষ জানে সিপিআইএম ফিরবে না, তারা বিজেপিকে ভোট দেয়। তৃণমূল প্রথম দিকে ঠিকঠাক কাজ শুরু করলেও পরে চুরিতে মত্ত হয়ে গেল। রোজ চুরি করতে তোমায় কে বলেছে? রবিবার দিন অন্তত বৌ-বাচ্চার সঙ্গে থাকো! তা নয়, সারাক্ষণ মাথায় প্যাঁচ! মাননীয়া প্রথমে বললেন, এসআইআর করতে দেব না। কীসের আতঙ্ক তাঁর? দলের লোক প্রচার করল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উকিল হয়ে গেছেন। ড্রামা ভালো, ওভারড্রামা খারাপ। এমন লাফালাফি করলেন, সুপ্রিম কোর্টের সন্দেহ হয়ে গেল। বিচারকদের বললেন, জুডিশিয়াল অফিসার হয়ে ৬০ লক্ষের মধ্যে যোগ্য-অযোগ্য বিচার করতে। তাদের বিরুদ্ধেও রাজ্যসভায় গেলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মেনকা গুরুস্বামী। সুপ্রিম কোর্ট তাদের বাড়ি পাঠিয়ে দিল। আইনের থাপ্পড় খেয়ে কেউ সেটাকে জয় বলে? তৃণমূলের নির্দেশে এক টেবিলে বসে পুলিশ ও অপরাধীরা চা খায়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তৃণমূলের ভিতর এমন এক পরিবেশ তৈরি হয়েছে যে, দলের দুজনের কথা বাদে বাকি সব নেতা-নেত্রী যেন গরু-ছাগল। বিএলও-দের থ্রেট দেওয়া হল, একটাও নাম যেন কাটা না-যায়! ফলে প্রাণভয়ে বিএলও-রা যা করলেন তাতে দেখা গেল, ২২০০ বুথে এমন তালিকা তৈরি হয়েছে যেখানে গত ২৩-২৫ বছরে কেউ নাকি মারাই যায়নি! কারও বয়স ১৫০-২০০ হয়ে গিয়েছে!

প্রশ্ন: দলের ভিতরেই একাধিক গোষ্ঠী। শিবপুরের প্রার্থী নিয়েও অনেকে না-খুশ। দলীয় কোন্দল আটকাতে পারবেন, কী মনে হয়?
উত্তর: ভারতীয় জনতা পার্টির দলীয় কোন্দল কোনওদিনই তৃণমূল বা সিপিআইএম-এর স্তরে যেতে পারবে না। বিজেপিতে তো তৃণমূলের মতো এককভাবে কেউ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। ভারতবর্ষের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বিজেপি, তারা কমিটি গঠন করে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। সম্মানীয় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, সম্মানীয় রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য, প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ডঃ সুকান্ত মজুমদার কিংবা দিলীপ ঘোষ— প্রত্যেকের কাজ ও দায়িত্ব আলাদা।

দু-তিনটে প্রেম হলেই কি সবাই চরিত্রহীন হয়ে যায়? নয় তো? আমি আমার মতামত পালটে দেখতে পেয়েছি কোন দল বেটার। কারা পাবলিকের জন্য সত্যি কথা বলছে, বা কাজ করছে। আমি তো রাতারাতি এক দল থেকে অন্য দলে যাইনি। মিনিমাম চার-পাঁচ বছর গ্যাপ গিয়েছে!

প্রশ্ন: বিজেপি কি বাঙালিদের কাছের হয়ে উঠতে পেরেছে? অনেকের মতে, এখনও হিন্দি আগ্রাসন জারি রয়েছে।
উত্তর: আমি জানতে চাই, এই হিন্দি আগ্রাসন ঠিক কী? হিন্দি আগ্রাসনে বিজেপি কখনওই তৃণমূলকে ছাপিয়ে যেতে পারবে না। তারা উত্তরপ্রদেশের রাজীব কুমার বা মেনকা গুরুস্বামীর মতো অবাঙালিদের রাজ্যসভায় পাঠিয়েছে। শিবপুরে মনোজ তিওয়ারি, আসানসোলে শত্রুঘ্ন সিনহা বা মুর্শিদাবাদে ইউসুফ পাঠান— রাসবিহারী বোস বা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো গাঢ় বাঙালি নাকি? বিজেপি কোনওদিনই এই বিষয়টাকে আমল দেয় না। তৃণমূল গোয়ায় প্রচার করতে গিয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। ওরা রামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দ, মা সারদাকে তৃণমূল বলে বাঙালির অস্মিতাকে ছোট করে। ইউসুফ পাঠানকে নিয়ে আমরা কোনও অসম্মানজনক কথা বলব না। কিন্তু তিনি মুর্শিদাবাদের কিছু জানেন না, কারণ এখানে থাকেন না। বাংলাদেশিরা বাংলা ভাষায় কথা বলে ব’লে তৃণমূল তাদের ভোটার বানিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দিয়েছিল। এদেরকে তাড়ানো হচ্ছে বলেই সবাই বলছে ‘বাঙালি তাড়াচ্ছে’! না, বাংলাদেশিদের তাড়াচ্ছে, বেশ করছে! বনেদী বাঙালি মুসলমানরাও বাংলাদেশি মুসলমানদের তাড়িয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ কি ধর্মশালা নাকি? বাংলাদেশ লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গের যে-বর্ডার, সেখানে জমি চেয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জমি দেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই বলেছিলেন যে এখান দিয়ে জঙ্গি ঢুকিয়েছে সিপিআইএম। এখন উনি নিজেই জামাতের লোক ঢোকালেন। রেশনের চাল-ডাল যারা চুরি করেছে, তাদেরই ওরা প্রার্থী করেছে। আবার নন্দীগ্রামের প্রার্থীর নামে বোধহয় মার্ডার কেস রয়েছে।

প্রশ্ন: ‘মাছে-ভাতে’ বাঙালির খাদ্যাভ্যাসে বিজেপি নেতারা ফতোয়া জারি করেছেন স্থানবিশেষে। সে নিয়ে আপনার বক্তব্য কী?
উত্তর: মাছ-ভাত ছাড়া তো বাঙালি থাকতেই পারবে না। আমাদের রাজ্য সভাপতি সম্মানীয় শমিক ভট্টাচার্য বলেই দিয়েছেন যে মাছ ভাত না হলে মারামারি লেগে যাবে। বেশি করে মাছ খাওয়াতে হবে। যতগুলি রাজনৈতিক কর্মসূচি হয়, এই যেমন ‘পরিবর্তন যাত্রা’য় বিভিন্ন জায়গায় ঘুরলাম। আমি বলেছি, চিকেন হলে টান মেরে ছুড়ে ফেলে দেব, যদি মাছ না নয়! কিন্তু তৃণমূল বাঙালির ইকোনমি যে-জায়গায় নিয়ে এসেছে, বাঙালি কাতলা মাছ কিনে খেতে পারছে না। 

প্রশ্ন: বাজেট অধিবেশনে বঙ্কিমচন্দ্রের মতো মনীষীদের নাম ভুল উচ্চারণ কি বাঙালির অস্মিতায় আঘাত নয়?
উত্তর: ‘বঙ্কিমদা’ বলা অপমান কীকরে হতে পারে? ‘রবীন্দ্র-নজরুল সন্ধ্যা’ বলে কি আমরা অপমান করি?
প্রশ্ন: কিন্তু এ ঘটনার পর তো আপনার দলের নেতারাও অনেকেই বলেছিলেন যে, এমনটা ভুল। সেক্ষেত্রে?
উত্তর: যে বলেছে, সে নিজে ভুল করেছে।

প্রশ্ন: শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর— দুই কেন্দ্র থেকেই লড়ছেন। এ কি বিজেপির মোক্ষম চাল, নাকি যোগ্য প্রার্থীর অভাব?
উত্তর: নিঃসন্দেহে মোক্ষম চাল! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে হেরেছেন। শুভেন্দু অধিকারীর মতো জনপ্রিয় নেতা যখন প্রার্থী হিসেবে তাঁর বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তখন এক মুহূর্তের জন্যও তিনি শান্তি পেয়েছেন বলে মনে হয় না। মমতা যে ভবানীপুরে দাঁড়াবেন, তা কখন ঠিক হল? শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পরে। যার কাছে তিনি আগে হেরেছেন, এমন ধারণা রয়েছেই মানুষের মনে। এমনিতেও ক্ষমতা থেকে চলে গেলে তিন মাসের মধ্যে তৃণমূলের আর কিছু থাকবে না। তৃণমূলের কোনও আদর্শ নেই। ‘মা মাটি মানুষ’ স্লোগানটিও তো বাংলাদেশের খালেদা জিয়ার।

প্রশ্ন: জাতীয় নির্বাচন কমিশন আপনাদের অঙ্গুলিহেলনে চলছে, এমনটা অভিযোগ উঠছে।
উত্তর: অভিযোগ করতেই পারে। তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে যারাই কথা বলেছেন, যখনই তৃণমূলের ক্রিমিনালদের শাস্তি দেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গের যেকোনও সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমেছে, সেমিনার করেছে, তাদের ‘বিজেপির দালাল’ বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। ধর্মতলায় মুখ্যমন্ত্রীর যে ধর্নামঞ্চ, পর্দা উঠছে-নামছে, নাচগান হচ্ছে, কবিতা বলছে, যেন সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা! কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, যার কাজ সংবিধানের ধারা মেনে চলা। ৩০-৪০ জনের একটা কমিটি এই কাজ করে। ব্যাস, শেষ। এখানে কেন আমাদের দলের হস্তক্ষেপ থাকবে?

প্রশ্ন: ভোট পার্বণে নতুন কবিতা লিখছেন?
উত্তর: এখনও লিখিনি, ডেফিনেটলি লিখব, “রানি আছেন টেনশনে, কখন কী হয় কে জানে!/ ভেজাল দিয়ে আর চলে না, তাল কেটে যায় সব গানে,/ মহারানী আছেন টেনশনে।”
প্রশ্ন: অনুব্রত মণ্ডলকে কী বলবেন?
উত্তর: তাকে তারামণ্ডলের মতো সাজাতে চেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে ‘বাঘের বাচ্চা’ বলেছিলেন ববি হাকিম। আমার কখনও মনে হয়নি যে তাঁর বাবা-মা কখনও লুকিয়ে জঙ্গলে গিয়েছিল, তারপর এই পরিণতি হয়েছে। আমার তাঁকে দেখে রক্তমাংসের মানুষই মনে হয়। যিনি দলের টাকা তোলার জন্য অপরাধ করেছেন। কিছু টাকা নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন। আপাতত তিনি জামিনে রয়েছেন। তিনি শারীরিক ও মানসিক দিক থেকে সেরে যান। 

প্রশ্ন: মমতা বন্দোপাধ্যায় নাকি রুদ্রনীল ঘোষ (Rudranil Ghosh), ভালো কবি কে?
উত্তর: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভালো কবি। উনি আগে জন্মালে রবীন্দ্রনাথ-নজরুল পেন ভেঙে ফেলতেন। ‘এপাং ওপাং ঝপাং, আমরা সবাই ড্যাং ড্যাং’ –এমন কে-ই লিখতে পারে?
প্রশ্ন: ‘দল-বদলু’, ‘গিরগিটি’— নানা তকমা লেগেছে আপনার গায়ে।
উত্তর: দু-তিনটে প্রেম হলেই কি সবাই চরিত্রহীন হয়ে যায়? নয় তো? আমি আমার মতামত পালটে দেখতে পেয়েছি কোন দল বেটার। কারা পাবলিকের জন্য সত্যি কথা বলছে, বা কাজ করছে। আমি তো রাতারাতি এক দল থেকে অন্য দলে যাইনি। মিনিমাম চার-পাঁচ বছর গ্যাপ গিয়েছে!

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.