দুই রাজ্যের জনতাকে স্যালুট মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের
নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত জানিয়েছেন, ১৬ জেলা থেকে দিনভর তেমন কোনও বড় অশান্তির খবর নেই। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা থাকলেও গত ভোটগুলির তুলনায় তা অত্যন্ত নগণ্য। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কমিশনের নির্দেশ মতোই বুথে বুথে টহলদারি চালিয়েছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। কমিশনের নজরদারিতে বাংলা ও তামিলনাড়ুর শান্তিপূর্ণ ভোট মিটতেই দুই রাজ্যের জনতাকে স্যালুট জানালেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।
সর্বকালের রেকর্ড ভাঙল ছাব্বিশের প্রথম দফা
সর্বকালের রেকর্ড ভাঙল ছাব্বিশের প্রথম দফা। সন্ধে ৬টা পর্যন্ত ভোটদান ৯১.৭৪ শতাংশ। হিসেব বলছে, আলিপুরদুয়ারে ৯০.৪৫ শতাংশ, বাঁকুড়ায় ৯১.৪৩ শতাংশ, বীরভূমে ৯৩.৬১ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছেন। এদিকে কোচবিহারে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত ভোটদানের হার ৯৪.৪৭ শতাংশ এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে ৯৪.৮০ শতাংশ। দার্জিলিং ও কালিম্পঙে ভোটদানের হার তুলনামূলক কম। সন্ধে ৬টা পর্যন্ত দুই জেলায় ভোট পড়েছে যথাক্রমে ৮৮.০১ শতাংশ এবং ৮২.৯৪ শতাংশ। জলপাইগুড়িতে ভোট পড়েছে ৯৩.০৮%। ঝাড়গ্রামে ৯১.৭৮ শতাংশ, মালদহে ৯২.৩০ শতাংশ, মুর্শিদাবাদে ৯২.৯০ শতাংশ, পশ্চিম বর্ধমানে ৮৯.১৮ শতাংশ, পশ্চিম মেদিনীপুরে ৯১.৮১ শতাংশ, পূর্ব মেদিনীপুরে ৯০.৩২ শতাংশ, পুরুলিয়ায় ৮৯.৪৯ শতাংশ এবং উত্তর দিনাজপুরে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৯২.২০ শতাংশ।
ইভিএমে ক্ষোভ বাহিনীর সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ
প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে ইভিএম মেশিনে গন্ডগোলের জেরে ভোট বন্ধ। অভিযোগ, ইভিএমে তৃণমূলের প্রার্থীর জন্য নির্দিষ্ট বোতামে চাপ দিলে বিজেপির পক্ষে ভোট পড়ছে। এই অভিযোগে ভোট বন্ধ করে বিক্ষোভ, এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ বেধে গেল দুবরাজপুর বিধানসভার খয়রাশোল ব্লকের বুধপুর গ্রামের ৬৫ নম্বর বুথে।
এবার ২৩০ আসন: অনুব্রত
বৃহস্পতিবার মেয়ে সুকন্যা মণ্ডলকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দিতে যান বীরভূমের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডল।
তৃণমূলের জয়ের প্রসঙ্গে আত্মবিশ্বাসী অনুব্রত বলেন, “এবার ২৩০ আসন পাবে তৃণমূল। বীরভূমের সব আসন তৃণমূলের দখলে থাকবে।” তাঁর সংযোজন, “মমতা-বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের যেমন চেয়েছিলেন, তেমনই শান্তিপূর্ণ ভোট চলছে।”
দাঁতনে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ
দাঁতনে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ। জখম ছয়। ঘটনাটি ঘটেছে কেশিয়াড়ি বিধানসভার অন্তর্গত দাঁতন ১ নম্বর ব্লকের ২৩৩ নম্বর বেলমুলা বুথে।
বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে ঢুকে ভোটারদের প্রভাবিত করছিল। সেই সময় বিজেপি কর্মীরা বাধা দিতে গেলে তাঁদের উপর হামলা চালানো হয়। ঘটনায় বিজেপির অন্তত দুই কর্মী আহত হন।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি, বিজেপি নেতারাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছিল। প্রতিবাদ করতে গেলে বিজেপি কর্মীরাই তৃণমূল সমর্থকদের উপর হামলা চালায়। এই ঘটনায় তৃণমূলের প্রায় চারজন কর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন বলে দাবি। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশ। বর্তমানে এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
ইভিএমে কালো টেপ!
মাথাভাঙায় ইভিএম মেশিনে নিশীথ প্রামাণিকের নামের জায়গায় কালো টেপ লাগিয়ে রাখার অভিযোগ। ছবিরুন্নেসা নিম্ন বুনিয়াদি বালিকা বিদ্যালয় ২৬১ নং বুথের ঘটনা। চাঞ্চল্যকর অভিযোগটি তুলেছেন ওই বুথের বিজেপির পোলিং এজেন্ট কৌশিক ভদ্র। তাঁর অভিযোগ, ইভিএমে নিশীথ প্রামাণিকের নামের জায়গায় কালো টেপ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রিসাইডিং অফিসারকে জানানোর পরেও তিনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। অবশেষে কেন্দ্রীয় বাহিনীর তৎপরতায় বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়। ওই বুথে রি-পোলিংয়ের দাবি জানিয়েছে বিজেপির পোলিং এজেন্ট।
প্রথম দফায় বঙ্গে বেনজির ভোট!
প্রথম দফায় বঙ্গে বেনজির ভোট! ১টা পর্যন্ত ৬২.১৮ শতাংশ মতদান। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, বেলা ১টা পর্যন্ত মুর্শিদাবাদে ভোট পড়েছে ৬২.৭১ শতাংশ। মালদহে ৫৮.৪৫ শতাংশ। পশ্চিম মেদিনীপুরে সবথেকে বেশি ভোট পড়েছে ৬৫.৭৭ শতাংশ। ঝাড়গ্রামে ৬৫ শতাংশ। বীরভূম ৬৪ শতাংশ। কোচবিহার ৬০ শতাংশ।
ভোট দিতে পারলেন না পুরসভার কর্মীরা
আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার পুরসভার কর্মীদের অভিযোগ, ভোটের ডিউটির প্রথম প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময় তাদের ব্যালট পেপারে ভোটের জন্য ফর্ম জমা করিয়েছিলো নির্বাচন কমিশন। কিন্তু পরে আর দ্বিতীয় প্রশিক্ষণ হয়নি। এমনকি ভোটের ডিউটিও দেওয়া হয়নি। ভোটের ডিউটি থেকে নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। ফলে তাঁরা ভেবেছিলেন যেহেতু তাদের নাম ভোটের ডিউটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে ফলে তারা নিজের বুথেই ইভিএমে ভোট দিতে পারবেন।
কিন্তু সকালে নিজের বুথে ভোট দিতে গিয়ে দেখেন তাদের নামের পাশে ই ডি ভোট অর্থাৎ ইলেকশন ডিউটি ভোট লেখা রয়েছে। ফলে বুথে তারা ভোট দিতে পারেননি। বুথ থেকে ফিরে তারা সোজা জেলা শাসকের দপ্তর ডুয়ার্স কন্যাতে এসে তাদের ব্যালট পেপার দাবি করেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় তাদের ব্যালট পেপার এখন আর দেওয়া যাবে না। সেই সময় শেষ। ফলে আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার পুরসভার বেশ কিছু কর্মী এবার ভোট দিতে পারলেন না। এই ঘটনায় পুরকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ছড়িয়েছে।
ভোট দিতে পারলেন না নন্দলাল বসুর নাতি
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও ভোট দিতে পারলেন না নন্দলাল বসুর নাতি সুপ্রবুদ্ধ সেন এবং তাঁর স্ত্রী দীপা সেন। জানা গিয়েছে, বুথের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক জানান, ভোটার তালিকায় দু’জনেরই নাম নেই। বৃদ্ধ দম্পতি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের অংশটি দেখালে সেটির মুদ্রিত অংশ দিতে বলা হয়।
কমিশনকে 'সার্টিফিকেট' অধীরের
নির্বাচন কমিশনকে 'সার্টিফিকেট' দিলেন অধীর চৌধুরী। বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী বলেন, "এবার বহুস্তরীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে ঢুকে গিয়ে ছাপ্পা দেওয়া, বুথ দখল করা, এসব এবাj হবে না। বাইরে থেকে বা দূর থেকে ভয় দেখানোর চেষ্টা এখনও করছে। কিন্তু বুথে এসে ভোটারদের ধাক্কা মেরে বার করে দেওয়ার যে সব ছবি অন্যান্য বার দেখা যায়, তা এ বার করতে পারবে না।”
মালদহ, সিউড়িতে মৃত ২
ভোট দিতে যাওয়ার পথে স্ট্রোকে মৃত্যু হল এক প্রৌঢ়ার। ঘটনাটি ঘটেছে সিউড়ির ১০ নম্বর ওয়ার্ডে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম অসীম রায় (৬৪)। তিনি সিউড়ি ডাঙ্গালপাড়ার বাসিন্দা। এদিন পায়ে হেঁটে বাড়ি থেকে ভোট দিতে রওনা হন তিনি৷ কিন্তু যাওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। এদিকে, মালদহের মালতীপুরে মৃত্যু হয়েছে এক প্রৌঢ়ার।
ভোটের লাইনে মৃত ২
মর্মান্তিক ঘটনা পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরে। ভোটের লাইনে মৃত্যু সিমাগেরিয়া এলাকার বাসিন্দা ইসরাতন বিবির। তিনি সরিষাখোলা অঞ্চলের ২২৫ নম্বর বুথে ভোট দিতে গিয়েছিলেন। সেখানে হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে মৃত্যু হয় তাঁর। পটাশপুরেও ভোটের লাইনে প্রাণ হারালেন এক বৃদ্ধ। তাঁর নাম নৃপেন্দ্র দাস (৫৮)।
সামার স্পেশাল ট্রেনে বিজেপির দুষ্কৃতী: মলয় ঘটক
প্রথম দফায় ভোট দিলেন আসানসোল উত্তরের তৃণমূল প্রার্থী তথা রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী মলয় ঘটক। আসানসোল উত্তরের আপার চেলিডাঙা কার্নানি প্রাইমেরি স্কুলে ভোট দেন তিনি। ভোট দিয়ে বেরিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ তোলেন মলয় ঘটক। তাঁর অভিযোগ, "গুজরাট থেকে একাধিক ট্রেনে দুষ্কৃতী ঢুকিয়েছে বিজেপি। সামার স্পেশাল ট্রেনের নাম করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুষ্কৃতী ঢোকানো হয়েছে।" অনেকে সরকারি বুথ স্লিপ পাননি বলে অভিযোগ মলয় ঘটকের।
সস্ত্রীক ভোট দিলেন মানস ভুঁইয়া
বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে আজ প্রথম দফার ভোটগ্রহণ রাজ্যের ১৬ জেলায়। প্রথম দফায় যেসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে, সেইসব কেন্দ্রে একাধিক বিদায়ী মন্ত্রী এবং হেভিওয়েট প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মানস ভুঁইয়া তাঁদের মধ্যে অন্যতম। সবং কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। প্রথম দফায় সস্ত্রীক ভোট দিলেন রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী। ২০২১ সালেও সবং থেকেই তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হয়ে বিধায়কের হন মানস ভুঁইয়া।
হুমায়ুনকে চোর স্লোগান
মুর্শিদাবাদের নওদায় হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে বিক্ষোভ। আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নেতাকে ঘিরে ওঠে চোর চোর স্লোগান। ওঠে গোব্যাক স্লোগানও। তৃণমূল কর্মীদের দিকে তেড়ে যান হুমায়ুন। জানা গিয়েছে, নওদা থানা এলাকার শিবনগর গ্রামের ১৭৩ নম্বর বুথে হুমায়ুনকে ঘিরে গোব্যাক স্লোগান তোলেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা। ওই এলাকায় তৃণমূলের ব্লক সভাপতি হাবিব শেখের নেতৃত্বে চলছে বিক্ষোভ। হুমায়ুনকে ‘বিজেপির দালাল’ বলেও স্লোগান তুলছেন অনেকে। হুমায়ুনের গাড়ি ঘিরে রেখে বিক্ষোভ চলছে। ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা।
মহিলা বিএলওকে সতর্কবার্তা শুভেন্দুর
ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের মধ্যে BLO ফোন ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করছেন! এমন অভিযোগ পেয়ে সটান বুথে শুভেন্দু। সতর্ক করলেন মহিলা বিএলওকে। জানা গিয়েছে, আজ সকালে শুভেন্দু অধিকারী তার নিজের বুথ নন্দনায়কবাড়ে ভোট দেন। তারপরেই নন্দীগ্রামের ব্রজমোহন তিওয়ারি হাইস্কুলে পৌঁছন। অভিযোগ ছিল ওই ভোট কেন্দ্রের মহিলা BLO বুথ কেন্দ্রের মধ্যে ফোন ব্যবহার করছেন। এবং ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। বুথে পৌঁছে মহিলা বিএলওকে সতর্ক করলেন শুভেন্দু।
ময়নায় তৃণমূলের প্রার্থীকে চোর স্লোগান
ময়নায় গোড়ামাহাল ২৩৪ নম্বর বুথে তৃণমূলের প্রার্থী চন্দন মন্ডল পৌঁছতেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠেন এলাকার বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। চন্দন মন্ডলকে লক্ষ্য করে দেওয়া হয় চোর চোর স্লোগান। বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণভাবেই ভোট হচ্ছিল। চন্দন মন্ডল সেখানে সাধারণ মানুষদের প্রভাবিত করছিলেন এবং তৃণমূলে ভোট দেওয়ার কথা বলছিলেন। যার ফলে সাধারণ মানুষ একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ দেখায়। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।
পুলিশের 'পক্ষপাতিত্বে' সরব তৃণমূল
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেসের। ঘাসফুল শিবিরের অভিযোগ, হলদিয়া এবং নন্দীগ্রামে সেই সব পুলিশ আধিকারিকদের রাখা হয়েছে, যাঁদের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর সম্পর্ক ভালো। তাঁরা বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে কাজ করছেন। এদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার ওসির অপসারণের দাবি তুললেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “ভাল ভোট হচ্ছে। বেটার। শুধু পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার ওসি চিন্ময় প্রামাণিক ভীষণ গুন্ডামি করেছেন। এখনও করছেন। ওঁর সাসপেনশন দাবি করছি।”
কোচবিহারে ৬টি বুথে বন্ধ ভোটগ্রহণ
কোচবিহার উত্তর বিধানসভার ৬টি বুথে ভোটগ্রহণ সাময়িক বন্ধ। কোথায় ভোটিং মেশিনের কন্ট্রোল ইউনিট বিকল আবার কোথাও ভিভিপ্যাট লক হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের অপ্রস্তুতি চোখে পড়ার মতো। এরকমই একটি বুথ হলো আঙ্গারকাটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বুথ কেন্দ্র- ৩/১৫৪। এই কেন্দ্রে ভিভিপ্যাট লকড। সেই বুথে গিয়ে প্রিসাইডিং-সহ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বললেন কোচবিহার উত্তরের তৃণমূল প্রার্থী পার্থপ্রতিম রায়। নতুন ভিভিপ্যাট ইতিমধ্যে চলে এসেছে বলে খবর।
ডোমকলের ঘটনায় রিপোর্ট তলব কমিশনের
ডোমকলে তৃণমূল এবং সিপিএমের মধ্যে গোলমালের ঘটনায় এ বার রিপোর্ট তলব করল নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাতে তৃণমূল এবং সিপিআইএমের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে অশান্তির ঘটনা ঘটে। প্রথমে বচসা পরে তা ভয়ংকর আকার নেয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বোমাবাজি করা হয় বলেও অভিযোগ। ঘটনায় গুরুতর জখম সিপিআইএম সমর্থকের নাম রাকিবুল আনসারী (২৮) ও তাঁর বাবা মহবুল আনসারী (৫৫), অন্যদিকে জখম দুই তৃণমূল কর্মীর নাম আমিরউদ্দিন মন্ডল (৫২) ও পুত্র আলামিন মন্ডল (২৩)। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। সংঘর্ষে জখম চার জনকেই মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দ্রুত ভর্তি করা হয়েছে।
ভোট দিলেন মৌসম, ঈশা, গৌতম দেব
ভোট দিলেন মালদহের মালতীপুর আসনের কংগ্রেস প্রার্থী মৌসম বেনজির নুর। ভোট দিলেন কংগ্রেস সাংসদ ঈশা খান চৌধুরীও। অন্যদিকে, শিলিগুড়িতে ১৭৩ নম্বর বুথে ভোট দিলেন তৃণমূল প্রার্থী গৌতম দেব।তিনি বলেন, “গতকাল রাত পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বিভিন্ন জায়গায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে । তাদের শিলিগুড়ি বিধানসভা বা তার পার্শ্ববর্তী বিধানসভা এলাকায় নিয়োগ করা হলেও রাতারাতি আলিপুরদুয়ার পাঠিয়ে দেওয়া হয়। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কমিশন যে জুমলাবাজি শুরু করেছে তার বিরুদ্ধে মানুষ এবার ভোট দেবে।”
লোডশেডিংয়ে শঙ্কিত অগ্নিমিত্রা!
ভোট দিলেন আসানসোল দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল। সকাল ৮টা নাগাদ আসানসোল উত্তর বিধানসভার এলআইসি অফিসের ২৪৩ বুথে ভোট দেন তিনি। রাতে আসানসোলে লোডশেডিং হয়েছিল। ভোট চলাকালীন বার বার লোডশেডিং হয়ে ওয়েবকাস্টিং বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তৃণমূল এই কারসাজি করতে পারে বলে তাঁর অভিযোগ।
নওদায় বোমাবাজি, রিপোর্ট তলব কমিশনের
বুধবার রাতে নওদা বিধানসভার শিবনগর এলাকায় রাস্তার উপর বোমাবাজি। হুমায়ুন কবিরের আমজনতা উন্নয়ন পার্টির আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেন তৃণমূল সাংসদ আবু তাহের খান। বোমাবাজির ঘটনায় এক মহিলা আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থল থেকে ৫০ মিটারের মধ্যেই শিবনগর প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটগ্রহণ কেন্দ্র রয়েছে। সেই ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে কেন্দ্রীয় বাহিনীও রয়েছে। রাত্রের অন্ধকারে এলাকার মানুষকে আতঙ্কিত করার জন্য বোমবাজি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তৃণমূল সাংসদ। ঘটনাস্থলে নওদা থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছেছে। ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছে তীব্র প্রতিবাদ করেছেন তৃণমূল সাংসদ আবু তাহের খান। ঘটনার কিছুটা দূরেই ছিলেন নওদা বিধানসভা তৃণমূল প্রার্থী সাহিনা মমতাজ খান। তবে তিনি অক্ষত রয়েছেন। ঘটনায় রিপোর্ট তলব কমিশনের।
কমিশনে খুশি শুভেন্দু!
নির্বাচন কমিশনের কাজে খুশি শুভেন্দু অধিকারী। শান্তিকুঞ্জের বাড়ি থেকে ভোট দিতে বেরোনোর সময় বলেন, “পরিবর্তন আনুন। বিজেপির হাতে দায়িত্ব দিন। শান্তিপূর্ণ ভোটের প্রার্থনা করুন। খুব একটা উৎপাত করতে পারেনি। পারবেও না। প্রাথমিক ভাবে ভোটের আগের রাতটা খুব গুরুত্বপূর্ণ থাকে। প্রাথমিক ভাবে নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় আধাসেনা বাহিনীকে ধন্যবাদ দেওয়া যেতেই পারে।”
ভোট দিলেন শুভেন্দু, অগ্নিমিত্রা পল
ভোট দিলেন নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের নন্দনায়েকবাড় ৭৯ নম্বর বুথে ভোট দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল। আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এলআইসির ৪৩ নম্বর বুথে। আমি আসানসোল উত্তর বিধানসভার ভোটার।
ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে বেরোলেন দুর্গাপুর পূর্বে তৃণমূল প্রার্থী
দুর্গাপুরের ভিড়িঙ্গি শ্মশান কালী মন্দিরে পুজো দিয়ে ভোট কেন্দ্র পরিদর্শনে বেরোলেন দুর্গাপুর পূর্বে তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ মজুমদার। তিনি দাবি করেন, "এখনও পর্যন্ত কোথাও কোনো সমস্যা হয়নি। আমিও দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভার বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাব। ভোটারদের সাথে কথা বলবো। তাদের যদি কোনও সমস্যা হয় সেই নিয়েও প্রতিবাদ করব।"
ইভিএমে গোলযোগ, স্থগিত ভোটদান
ইভিএম খারাপ থাকায় স্থগিত ভোটদান পর্ব। বড়ঞা বিধানসভার ১৫৬ নম্বর বুথ, পারসালিকা মদনমোহন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আপাতত থমকে ভোটগ্রহণ। শমসেরগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের ২১২ নম্বর বুথেও ইভিএম ত্রুটির অভিযোগ উঠে আসছে। সময়ে ভোটগ্রহণ শুরু হয়নি। মুর্শিদাবাদের কান্দি বিধানসভার ১৩০ নং বুথে ভোটগ্রহণ শুরু হতে দেরি হচ্ছে। নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের বিরুলিয়ায় ইভিএম বিভ্রাট। ইভিএম খারাপ থাকায় ঘন্টাখানেক বন্ধ থাকলো কুচবিহার টাউন হাই স্কুলের ২২৯ নম্বর বুথে।
সকাল থেকে বুথে বুথে লাইন, ভোট দিলেন তৃণমূলের স্বপ্না
বৃহস্পতিবার শুরু প্রথম দফার ভোট। মোক পোলের পর বুথে বুথে লাইন পড়েছে ভোটারদের। সকাল সকাল ভোট। বাড়ির সামনে বুথে দিনের প্রথম ভোটার হিসেবে ভোট দিয়ে দিন শুরু করলেন জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ বিধানসভা আসনের তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্না বর্মন। এশিয়াডে সোনা জয়ী স্বপ্না এই আসনের তৃণমূল প্রার্থী। বাড়ির সামনে পাতকাটা ঘোষপাড়া বিএফপি স্কুলের ১৮/১৯৭ নম্বর বুথে মা-কে নিয়ে সপরিবারে ভোট দিলেন স্বপ্না বর্মন। ৭২০ জন ভোটার রয়েছেন এই বুথে। সকাল সকাল ভোট দিতে বুথে উপস্থিত হয়ে ছিলেন সোনার মেয়ে তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্না। মাকে সঙ্গে নিয়ে বুথের প্রথম ভোটটিই দিলেন স্বপ্না বর্মন।
বঙ্গভোটের প্রথম দফায় ২৪০৭ কোম্পানি বাহিনী
উত্তরবঙ্গ-সহ ১৫২টি আসনে ভোট রয়েছে। সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে এবার নজিরবিহীন একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে কমিশন। মোতায়েন হচ্ছে ২৪০০ কোম্পানি বাহিনী। এর মধ্যে সবথেকে বেশি বাহিনী মোতায়েন হচ্ছে পূর্ব মেদিনীপুরে।
কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব মেদিনীপুরে মোতায়েন করা হয়েছে ২৭৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। বাহিনী মোতায়েনের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর। এই জেলায় মোট ২৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এরপরেই রয়েছে মুর্শিদাবাদ। এই জেলায় মোতায়েন হয়েছে ২৪০ কোম্পানি বাহিনী। বাঁকুড়ায় মোতায়েন হচ্ছে ১৯৩ কোম্পানি, বীরভূমে ১৭৬ কোম্পানি, মালদহে ১৭২ কোম্পানি, পুরুলিয়া ১৫১ কোম্পানি, আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটে ১২৫ কোম্পানি, পুরুলিয়া ১৫১ কোম্পানি, কোচবিহারে ১৪৬ কোম্পানি মোতায়েন হচ্ছে।
প্রথম দফার খুঁটিনাটি
প্রথম দফায় ১৫২ আসনে ভোট। ৪৪ হাজারের বেশি বুথে প্রস্তুতি কমিশনের। মহিলা পরিচালিত ৫,৬৪৪ বুথ। ১০০% ওয়েবকাস্টিং।
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় আগামী আজ বৃহস্পতিবার ১৬টি জেলায় ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম দফায় মোট ৪৪ হাজার ৩৭৬টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র খোলা হচ্ছে, যার মধ্যে ২,৯৫৮টি অক্সিলিয়ারি বুথ। শহরাঞ্চলে থাকছে ৫,৪৮৭টি এবং গ্রামাঞ্চলে ৩৫,৯৩১টি বুথ।
মোট বুথের মধ্যে ৫,৬৪৪টি সম্পূর্ণ মহিলা পরিচালিত। পাশাপাশি ২০৭টি মডেল বুথ তৈরি করা হচ্ছে। বালুরঘাট ও আসানসোল উত্তর— এই দুই কেন্দ্রে একটি করে মোট দু’টি বুথ বিশেষভাবে স্বক্ষম কর্মীদের দ্বারা পরিচালিত হবে। সবকটি বুথেই ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।
এই দফায় মোট ১,৪৭৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে ১৬৭ জন মহিলা। প্রার্থীর সংখ্যার নিরিখে কোচবিহার দক্ষিণ, করণদীঘি ও ইটাহারে সর্বাধিক ১৫ জন করে প্রার্থী রয়েছেন। অন্য দিকে, সবচেয়ে কম প্রার্থী রয়েছে চন্দ্রকোনা কেন্দ্রে— মাত্র ৫ জন।
ভোটার পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ১০০ বছরের বেশি বয়সী ভোটারের সংখ্যা ৪,০২৫। ৮৫ বছরের বেশি বয়সী ভোটার রয়েছেন ২ লক্ষ ৪ হাজার ৬১৮ জন। PwD ভোটারের সংখ্যা ২ লক্ষ ৫৩ হাজার ২৪৪।
বিধানসভা কেন্দ্রের আয়তনের নিরিখে সবচেয়ে ছোট শিলিগুড়ি (৪১.৯ বর্গ কিলোমিটার) এবং সবচেয়ে বড় কালিম্পং। ভোটারের সংখ্যার নিরিখে সবচেয়ে ছোট কেন্দ্র মুর্শিদাবাদের সামসেরগঞ্জ (প্রায় ১ লক্ষ ৬১ হাজার ভোটার) এবং সবচেয়ে বড় পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর (প্রায় ২ লক্ষ ৯৬ হাজারের বেশি ভোটার)।
নিবেদিত


