Advertisement
Advertisement
WB Assembly Election 2026

প্রিসাইডিং অফিসার পদে অধ্যাপকদের নিয়োগ নয়, বিজ্ঞপ্তি খারিজে হাই কোর্টে ধাক্কা কমিশনের

অধ্যাপকদের পোলিং অফিসার হিসাবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। তার বিরোধিতায় পালটা কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের হয়। মামলাকারীদের দাবি, কেন তাদের এই নির্বাচনে অপরিহার্য বলে মনে করছে কমিশন সেই কারণ দেখানো হয়নি।

Advertisement
গোবিন্দ রায়
গোবিন্দ রায়

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ১৪:৩২

link
গোবিন্দ রায়
গোবিন্দ রায়

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ১৪:৩২

options
link
প্রিসাইডিং অফিসার পদে অধ্যাপকদের নিয়োগ নয়, বিজ্ঞপ্তি খারিজে হাই কোর্টে ধাক্কা কমিশনের zoom
প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগ নিয়ে হাই কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ কমিশনের

প্রিসাইডিং অফিসার পদে অধ্যাপকদের নিয়োগ নয়, নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি খারিজ করে জানালেন কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। আদালতের বক্তব্য, ঠিক কী কারণে অধ্যাপকদের বুথে পাঠানো হচ্ছে সে ব্যাপারে বারবার কমিশনের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা সদুত্তর দিতে পারেনি। সে কারণে অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি খারিজ করা হল। বিচারপতির বক্তব্য, অধ্যাপকদের বেতন ও পদের কথা মাথায় রেখে যদি তাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাহলেই তাঁরা ভোটের (WB Assembly Election 2026) কাজে যোগ দেবেন। তবে ইতিমধ্যে একদল অধ্যাপক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন কিংবা নিচ্ছেন। তাঁরা স্বেচ্ছায় কাজ করতে চাইলে করতেই পারেন।

অধ্যাপকদের পোলিং অফিসার হিসাবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। তার বিরোধিতায় পালটা কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের হয়। মামলাকারীদের দাবি, কেন তাদের এই নির্বাচনে অপরিহার্য বলে মনে করছে কমিশন সেই কারণ দেখানো হয়নি। এবং তাদের পদমর্যাদা ও পে-স্কেল অনুযায়ী দ্বায়িত্ব বণ্টন হয়নি। বৃহস্পতিবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে মামলার শুনানি হয়। কমিশনের উদ্দেশে বিচারপতির প্রশ্ন, “আপনারা যখন যেমন খুশি বিজ্ঞপ্তি দেবেন? আমি কোনও রসিকতা করছি না। আপনাদের বিজ্ঞপ্তি যা বলছে, তাতে এবার বিচারপতিদের পোলিং অফিসার হিসাবে নিয়োগ করুন। আপনারা তো বিচারপতিদেরও নিয়োগের ব্যবস্থা রেখেছেন। কোনও অসুবিধা নেই। আমাদের নিয়োগ করুন। আমরা পোলিং অফিসার হিসেবে বুথে ডিউটি করতে যাব। আপনারা নিজেদের যখন খুশি নিয়ম বদল করছেন। আর আপনাদের নিজেদের নথি গড়মিলে ভরা।” কমিশনের যুক্তি, “একেবারে ভোটের মুখে মামলা করা হয়েছে। এখন নতুন করে লোক নিয়োগ করে ট্রেনিং দিয়ে ভোট করানো সম্ভব নয়।”

Advertisement

তা শুনে চরম ক্ষোভপ্রকাশ করেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। তিনি বলেন, “এটা কোনো যুক্তি হতে পারে না। তাহলে আপনাদের নিজেদের কাজের স্বপক্ষে যথাযথ যুক্তি দিতে হবে। তারা যদি ভোটের (WB Assembly Election 2026) পরে মামলা করেন, তখন আদালত কী করবে! ফলে নিজেদের কাজের যুক্তি কমিশনকেই দিতে হবে। আপনাদের এইসব দেখেও যদি আদালত চোখ বন্ধ করে থাকে তাহলে অনিয়ম চলবে।” কমিশনের পালটা যুক্তি, “এখন এই বিজ্ঞপ্তিতে হস্তক্ষেপ করলে ২৩টি জেলাতেই আমাদের নতুন করে নিয়োগ করতে হবে। এসআইআর-এর কাজে জুডিশিয়াল অফিসারদের নিয়োগ করা হয়েছে। এই অবস্থায় এখানে আদালত হস্তক্ষেপ করলে গোটা নির্বাচন বন্ধ করে দিতে হবে।” বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, “তার মানে আপনারা অযৌক্তিক বিজ্ঞপ্তি দেবেন। সেটাকেই মান্যতা দিতে হবে? তাহলে এই মামলা সুপ্রিম কোর্টে পাঠিয়ে দিচ্ছি, সেখানে গিয়ে কমিশন এই যুক্তি দিক। বিচারকদের এসআইআর-এর কাজে নিয়োগ করা হয়েছে। এখানেও সেটা কাজে লাগানো হোক। চলে যান সুপ্রিম কোর্টে।” বিচারপতির নির্দেশমতো শুক্রবার নিজেদের বিজ্ঞপ্তির ব্যাখ্যা দেওয়ার কথা ছিল কমিশনের। তবে তাতে সদুত্তর পাওয়া যায়নি। সে কারণে প্রিসাইডিং অফিসার পদে অধ্যাপকদের নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি খারিজ করে দেয় হাই কোর্ট।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.