Advertisement
Advertisement
WB Assembly Election 2026

‘ছাব্বিশের যুদ্ধে’র মুখে পুরুলিয়ায় ভেঙে যাচ্ছে আজসু! সুপ্রিমোর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে গণইস্তফা

জেলা সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া অতুল মাহাতো বলেন, "সুপ্রিমো আমাদের প্রায় সাতটা বছর নষ্ট করে দিয়েছেন। আমরা ২০২০ সাল থেকে পুরুলিয়ায় আজসুর সংগঠন বিস্তার করেছিলাম। আমাদেরকে নানান স্বপ্ন দেখিয়ে সুপ্রিমো সংগঠন বাড়িয়েছিলেন। কিন্তু আজ কী হল?

Advertisement
সুমিত বিশ্বাস
সুমিত বিশ্বাস

শেষ আপডেট: এপ্রিল ২, ২০২৬, ১৪:৪৬

link
সুমিত বিশ্বাস
সুমিত বিশ্বাস

শেষ আপডেট: এপ্রিল ২, ২০২৬, ১৪:৪৬

options
link
‘ছাব্বিশের যুদ্ধে’র মুখে পুরুলিয়ায় ভেঙে যাচ্ছে আজসু! সুপ্রিমোর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে গণইস্তফা zoom
জঙ্গলমহল পুরুলিয়ায় আজসু-র যেখানে যাঁরা, যে পদাধিকারী বা সদস্য পদ ছিলেন তাদের মধ্যে প্রায় ৩০ জন ইস্তফা দিয়েছেন।

বেলা গড়িয়ে দুপুর। দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যে। বুধবারও আজসু সুপ্রিমো চুপ। সকাল থেকে বেজে গিয়েছে তাঁর ফোন। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো নানান বার্তা সিন করেননি। স্বয়ং আজসু সুপ্রিমো তথা ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন উপ মুখ্যমন্ত্রী সুদেশ মাহাতোর এমন আচরণে শুধু দলের পুরুলিয়া জেলা সভাপতি নন। জঙ্গলমহল পুরুলিয়ায় আজসু-র যেখানে যাঁরা, যে পদাধিকারী বা সদস্য পদ ছিলেন তাদের মধ্যে প্রায় ৩০ জন ইস্তফা দিয়েছেন।

তাহলে কি পুরুলিয়ায় আজসু (অল ঝাড়খণ্ড স্টুডেন্টস ইউনিয়ন) ভেঙে যাচ্ছে? এমন ইঙ্গিত মিলেছে পদত্যাগ করা জেলা সভাপতি অতুল মাহাতোর কথায়। তিনি বলেন, “সুপ্রিমো আমাদের ভাবনাকে অবহেলা করেছেন। স্বাভিমানে আঘাত করেছেন। বারে বারে তাঁর সঙ্গে প্রার্থী নিয়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে গিয়েছি কয়েকদিন। তিনি কোনও সাড়া দেননি। আমরা যাঁরা পদত্যাগ করেছি তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ভোটের পর আমরা আলোচনা করে নতুন দল গড়ব।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

তিনি আরও বলেন, “এছাড়া আমাদের মধ্যে যাঁরা পদত্যাগ করেছেন তার মধ্যে কোনও নেতা বা সাধারণ সদস্য পুরুলিয়ার কোনও আসনে ভোটে (WB Assembly Election 2026) দাঁড়ালে আমরা তাকে সবরকম সহযোগিতা করব। যাঁরা এখনও দল থেকে ইস্তফা দেননি, তাঁরা শীঘ্রই পদত্যাগ করে আমার সঙ্গে থাকবেন। এ বিষয়ে আমার সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ফলে এই জেলায় আজসু বলে আর কিছু থাকবে না।” এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া নিতে সুপ্রিমো সুদেশ মাহাতো জানান, “সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। বৃহস্পতিবার জানাব।”

জেলার রাজনৈতিক মহল বলছে, আজসু যে একেবারে বড় শরিক বিজেপির কাছে বাঁধা হয়ে রয়েছে তা সুপ্রিমোর অদ্ভুত আচরণেই পরিষ্কার। গত সোমবার থেকে তিনি বলে আসছেন, সিদ্ধান্ত জানাবেন। কিন্তু তার ৭২ ঘণ্টার পরও বাংলার ভোট (WB Assembly Election 2026) নিয়ে কোনওরকম সিদ্ধান্তের কথা জানাতে পারেননি।

জেলা সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া অতুল মাহাতো বলেন, “সুপ্রিমো আমাদের প্রায় সাতটা বছর নষ্ট করে দিয়েছেন। আমরা ২০২০ সাল থেকে পুরুলিয়ায় আজসুর সংগঠন বিস্তার করেছিলাম। আমাদেরকে নানান স্বপ্ন দেখিয়ে সুপ্রিমো সংগঠন বাড়িয়েছিলেন। কিন্তু আজ কি হল? আমাদের পরিশ্রম যেমন নষ্ট হল। তেমন পার্টির ক্ষতি হল। উনি একেবারে বিজেপির কাছে বাঁধা।”

আজসু ছাড়া নেতা-কর্মীরা সুপ্রিমোর প্রতি যেমন ক্ষুব্ধ তেমনই এই পরিস্থিতির জন্য বিজেপিকে দায়ী করে তাদেরকেও কাঠগড়ায় তুলেছেন এই ঝাড়খণ্ডি দলের পদত্যাগ করা কার্যকর্তা ও সদস্যরা। কারণ আজসু আশাবাদী ছিল। তার চেয়েও বড় কথা সুপ্রিমো সুদেশ মাহাতো তাঁদেরকে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন বাঘমুন্ডি আসনে তারা লড়বেন। কিন্তু শেষমেষ এনডিএ জোটের বড় শরিক বিজেপি ওই আসন ছাড়লো না। ফলে দলত্যাগী আজসুরা যে এবার বিজেপির বিরুদ্ধে প্রচার চালাবেন সেটাও ক্রমশ পরিষ্কার হয়ে উঠছে জঙ্গলমহল পুরুলিয়ায়।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.