ঝুলিতে থাকা বাম ভোট হাতছাড়া করতে চাইছে না বিজেপি। কারণ, বামেদের ভোটেই তাদের ফুলেফেঁপে ওঠা বাংলায়। তাই ছাব্বিশের ভোটে (Assembly Elections 2026) বাম ভোটারদের টার্গেট করছে বিজেপি। সিপিএমের সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের একটা বড় অংশের ভোট বিজেপির ঝুলিতে চলে গিয়েছিল একুশ সালের বিধানসভা ভোটে। ৫ থেকে ৬ শতাংশে নেমে গিয়েছে সিপিএমের প্রাপ্ত ভোট শতাংশ। সিপিএমের সেই ভোট এবারও ভরসা বিজেপির। বুথে বুথে বাম ভোটারদের চিহ্নিত করে তাদের বাড়িতে যাওয়া, ফোন করা শুরু হয়েছে। সিপিএমের ভোট কাটতে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে গেরুয়া শিবির। নিচুতলা থেকে বামেদের কাছে এমন রিপোর্টও আসছে।
এই বিষয়ে আরও খবর
বাম কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে তাঁদের ভোট গেরুয়া বাক্সে আনতে কৌশল নিয়েছে পদ্মশিবির। বুথে বুথে নিষ্ক্রিয় বাম সমর্থক, বামপন্থী মনোভাবাপন্ন মানুষদের কাছে গিয়ে স্থানীয় বিজেপির তরফে তাদের সমর্থনের জন্য আবেদন করা হচ্ছে।
বামেদের গেরুয়া পতাকাতলে আসার জন্য একাধিকবার বার্তা দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সম্প্রতি দলের পরিবর্তন যাত্রাতেও বামেদের অংশ নেওয়ার আবেদন করেছিলেন শমীক। বিজেপিই বিকল্প একথা বলে বাম কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে তাঁদের ভোট গেরুয়া বাক্সে আনতে কৌশল নিয়েছে পদ্মশিবির। বুথে বুথে নিষ্ক্রিয় বাম সমর্থক, বামপন্থী মনোভাবাপন্ন মানুষদের কাছে গিয়ে স্থানীয় বিজেপির তরফে তাদের সমর্থনের জন্য আবেদন করা হচ্ছে। ভোটার লিস্ট মিলিয়ে দেখে পদ্মশিবির থেকে ফোনও যাচ্ছে বাম সমর্থকদের কাছে। ২০১৯-এর লোকসভা ভোটেও বিজেপির
নজরকাড়া ফলাফলের পিছনে বামেদের বড় অবদান রয়েছে। এবারের বিধানসভা নির্বাচনেও বিজেপি তাই সেই লালপার্টির ভোটকেই ‘ঢাল’ করতে চাইছে। সিপিএমের ভোটকে টানতে প্রতিটি বুথের নির্দিষ্ট কয়েকজন করে বিজেপি নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। প্রতিটি বুথের বাম ভোটারদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি নাম ধরে ধরে তালিকা তৈরি করছে তারা। ফোন নম্বরও জোগাড় করেছে। এছাড়া, বাম সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাঁদের মগজ ধোলাইও করা হচ্ছে। বাম বা সিপিএমের কাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে পদ্মশিবির? বাম শিবিরে যারা সেভাবে গুরুত্ব পায় না, এককথায় বঞ্চিত।
এছাড়া, দেখা হচ্ছে সিপিএমের স্থানীয় নেতৃত্বের উপর ক্ষোভ কোন কোন বাম সমর্থকের রয়েছে। তাঁদের সঙ্গেও যোগাযোগ করছেন বিজেপি কর্মীরা। হাওড়া, হুগলি, বর্ধমানে একাধিক বাম কর্মী-সমর্থকদের দলে চলে আসার আহ্বান জানিয়েছে বিজেপি। বলা হচ্ছে, বিজেপিতে এলে সংগঠনে গুরুদায়িত্ব দেওয়া হবে। শুধু ওই বাম কর্মী-সমর্থকদের নয়, পরিবারকেও বোঝানোর চেষ্টা হচ্ছে বিজেপিকে কেন ভোট দিতে হবে। শমীক ভট্টাচার্য আগেই বলেছেন, “আমরা মনে করি মতাদর্শকে বুকে রেখে, ঝান্ডাকে আপাতত সরিয়ে রেখে সকলের এগিয়ে আসা উচিত।” এমন বহু বাম নেতা আছেন যাঁরা বিজেপিতে এসে খাপ খাইয়ে নিয়েছেন। সিপিএম থেকে এসেছেন মালদহের খগেন মুর্মু, শিলিগুড়ির শংকর ঘোষরা। এখন খগেন মুর্মু সাংসদ। পরিষদীয় দলেই রয়েছেন বাম সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী বঙ্কিম ঘোষ। শংকর ও বঙ্কিম ফের বিজেপির প্রার্থী।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
-
বিশ্বজয়ের ৩ মাসের মধ্যে অধিনায়কত্ব যাচ্ছে সূর্যকুমারের, নেতৃত্বের দৌড়ে আপাতত ৩
-
দিল্লির পর বিহার, বিধ্বংসী আগুন হাসপাতালে, ঝলসে মৃত অন্তত ৪
-
কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা প্রত্যাহার হুমায়ুনের, অধীর, নওশাদের উদাহরণ তুলে আদালতে যাচ্ছেন এজেইউপি নেতা
-
সাতসকালে শওকত মোল্লার বাড়িতে এনআইএ হানা, তল্লাশির আগেই ‘পলাতক’ তৃণমূল নেতা
-
৪ জুন ২০২৬: মীন রাশির আজকের দিন
নিবেদিত






