Advertisement
Advertisement
Bengal Election 2026

খেতে মজুরি না খাটলে হাঁড়ি চড়ে না! প্রচারে বেরলে সংসারের কী হবে? দুশ্চিন্তায় সিপিএম প্রার্থী

একসময় বামজমানায় বর্ধমান ছিল সিপিএমের লালদুর্গ। ভোটে ক্রমাগত হারে দলে ক্রমাগত রক্তক্ষরণ। পুরনো জমি ফেরাতে মরিয়া আলিমুদ্দিন। এবার বর্ধমানের খণ্ডঘোষ বিধানসভা কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী করেছে রামজীবন রায়কে। প্রচারে বেরলেও দুশ্চিন্তায় বামপ্রার্থী। জেতা-হারার বিষয় নয়, প্রচারে বেরলে কাজের ক্ষতি হবে।

Advertisement
অর্ক দে
অর্ক দে

শেষ আপডেট: মার্চ ২২, ২০২৬, ২১:২২

link
অর্ক দে
অর্ক দে

শেষ আপডেট: মার্চ ২২, ২০২৬, ২১:২২

options
link
খেতে মজুরি না খাটলে হাঁড়ি চড়ে না! প্রচারে বেরলে সংসারের কী হবে? দুশ্চিন্তায় সিপিএম প্রার্থী zoom
খণ্ডকোষ বিধানসভা কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী রামজীবন রায়।

একসময় বামজমানায় বর্ধমান ছিল সিপিএমের লালদুর্গ। ভোটে ক্রমাগত হারে দলে ক্রমাগত রক্তক্ষরণ। পুরনো জমি ফেরাতে মরিয়া আলিমুদ্দিন। এবার বর্ধমানের খণ্ডঘোষ বিধানসভা কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী করেছে রামজীবন রায়কে। প্রচারে বেরলেও দুশ্চিন্তায় বামপ্রার্থী। জেতা-হারার বিষয় নয়, প্রচারে বেরলে কাজের ক্ষতি হবে। আর কাজ না করলে সংসারে হাঁড়ি চড়বে না। এমনই আশঙ্কা তাঁর।

রামজীবন পেশায় খেতমজুর। দৈনিক মজুরির মাধ্যমেই তাঁর সংসার চলে। খণ্ডঘোষ থানার বেরুগ্রাম চণ্ডীপুর এলাকার দীর্ঘদিনের বাসিন্দা তিনি। সংসারে বৃদ্ধ বাবা-মা ছাড়াও আছেন স্ত্রী ও দুই সন্তান। ছেলে কলেজে পড়ে। কন্যাসন্তান বয়সে অনেকটাই ছোট। গত ২৫ বছর আগে তিনি দলের সদস্যপদ পেয়েছিলেন। লালঝান্ডা কাঁধে নিয়েই তাঁর দীর্ঘ লড়াই। সংসারে অনটন থাকলেও পরিবার, বিশেষ করে স্ত্রী বরাবরই পাশে থেকেছেন। এবার দল তাঁর ওই কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে। নির্বাচনী লড়াইয়ের ময়দানে স্ত্রী তাঁর পাশে আছে বলেই রামজীবন জানিয়েছেন। কিন্তু সংসার চালানোর দুশ্চিন্তা তাঁর রয়েছে।  

Advertisement

নির্দিষ্ট সময় মাঠে মজুরের কাজ করতে যান তিনি। মজুরির টাকা দিয়েই দিন আনা দিন খাওয়া। এদিকে দলের প্রচার শুরু হয়ে গিয়েছে। কাজের সময় কাটছাঁট করেই প্রচারে বেরতে হচ্ছে। জানা গিয়েছে, রোজই সকালে কিছুটা সময় মাঠের কাজ সেরে রামজীবন প্রচারে বেরচ্ছেন।

নির্দিষ্ট সময় মাঠে মজুরের কাজ করতে যান তিনি। মজুরির টাকা দিয়েই দিন আনা দিন খাওয়া। এদিকে দলের প্রচার শুরু হয়ে গিয়েছে। কাজের সময় কাটছাঁট করেই প্রচারে বেরতে হচ্ছে। জানা গিয়েছে, রোজই সকালে কিছুটা সময় মাঠের কাজ সেরে রামজীবন প্রচারে বেরচ্ছেন। কিন্তু নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসবে, ততই প্রচারের সময় বাড়বে। তখন কাজ কীভাবে হবে? দীর্ঘক্ষণ ধারাবাহিক প্রচারে গেলে কাজে সেসময় কামাই হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এদিকে কাজে না গেলে উপার্জন কার্যত বন্ধ! তাহলে কীভাবে সংসার চলবে? সংসারের আর পাঁচটা পেটে ওই দিনগুলোতে খাবার জোগাবেন কীভাবে? জানা গিয়েছে, রামজীবনের স্ত্রী লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পান। প্রতি মাসে টাকাও ঢোকে।

নিজেদের বাড়ি থাকলেও সম্পত্তিতে শরিকিভাগ আছে। মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করে বইপত্রের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হয়েছিল। সংসারে দায়িত্ব কাঁধে এসে পড়ায় কাজ শুরু করতে হয়েছিল রামজীবনকে। সেই গুরুদায়িত্ব থেকে কোনওদিনই পিঠটান দেননি তিনি। তাঁর লড়াইকে সামনে এনেই প্রচারে ঝড় তুলতে চাইছেন স্থানীয় সিপিএম নেতৃত্ব। সিপিএমের কৃষকসভার রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিনোদ ঘোষ বলেন,”প্রান্তিক শ্রেণির মানুষের দাবিদাওয়া একজন প্রান্তিক শ্রেণির মানুষ সব থেকে বেশি উপলদ্ধি করতে পারে। সেই কারণে তাঁদের প্রতিনিধিকেই প্রার্থী করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “দলের তরফে কোনও সুবিধা পাইয়ে দেওয়াতে বিশ্বাস করে না সিপিএম। কাজেই রামজীবন রায় নিজের লড়াই নিজেই চালিয়ে যাচ্ছেন। খেতমজুর প্রতিনিধি হয়ে আগামী দিনে বিধানসভায় গিয়ে তাঁদের দাবি তুলে ধরবেন।” 

মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করে বইপত্রের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হয়েছিল। সংসারে দায়িত্ব কাঁধে এসে পড়ায় কাজ শুরু করতে হয়েছিল রামজীবনকে। সেই গুরুদায়িত্ব থেকে কোনওদিনই পিঠটান দেননি তিনি। তাঁর লড়াইকে সামনে এনেই প্রচারে ঝড় তুলতে চাইছেন স্থানীয় সিপিএম নেতৃত্ব।

তৃণমূলের আদিবাসী রাজ্যে সমন্বয় কমিটির সদস্য দেবু টুডু বলেন, “তৃণমূল সরকার সকল শ্রেণির মানুষের জন্য চিন্তা করে। বাম আমলে প্রান্তিক শ্রেণির মানুষ উপেক্ষিত থেকে গিয়েছে। চাষিদের জন্য উপযুক্ত ফসলের দাম, বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা, কৃষকদের ভাতা সবই চালু করেছে তৃণমূল সরকার। সম্প্রতি খেতমজুরদের জন্যেও প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে। প্রান্তিক শ্রেণির মানুষের অর্থ সামাজিক উন্নতি হয়েছে। সিপিএম দলের পক্ষ থেকে প্রার্থী নির্বাচনের বিষয়ে তৃণমূলের কোনও মন্তব্য নেই। তবে, বাংলার মানুষ সিপিএমকে আগেই পরিত্যাগ করেছে।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.