ভোটের (West Bengal Assembly Election) দামামা বেজে উঠতেই রাজনৈতিক ময়দান নতুন করে সজীব। কিন্তু বড় দলগুলির প্রচারের ঝলকানির মাঝেই নীরবে ধারাবাহিকভাবে নিজেদের সংগঠন পুনর্গঠনের কাজে নেমেছে সিপিএম। লক্ষ্য স্পষ্ট-হারিয়ে যাওয়া জমি পুনরুদ্ধার করা। এই মুহূর্তে জেলার গ্রামাঞ্চলে গেলে চোখে পড়ছে ভিন্ন এক চিত্র। বড় সভা-সমাবেশের বাইরে, ছোট ছোট বৈঠক, ঘরোয়া আলোচনা, পুরনো পরিচিত মুখদের সঙ্গে যোগাযোগ এই সবকিছুর মধ্য দিয়েই সংগঠনকে ফের জাগিয়ে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে বাম শিবির।
এই বিষয়ে আরও খবর
দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, নির্বাচনকে (West Bengal Assembly Election) সামনে রেখে জেলাস্তর থেকে শুরু করে ব্লক এবং বুথস্তর পর্যন্ত পৃথক নির্বাচন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিগুলির অন্যতম প্রধান কাজই হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকা কর্মীদের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপন করা। এই যোগাযোগের পরিধি শুধু বর্তমান কর্মীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। একসময় সিপিএমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কিন্তু নানা কারণে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে গিয়েছেন-এমন বহু মানুষের কাছেও পৌঁছনোর চেষ্টা চলছে। আবার যাঁরা দল ছেড়ে অন্য রাজনৈতিক দলে চলে গিয়েছেন, তাঁদের মধ্যেও যাঁরা কোনও পদে নেই, সেই বুথস্তরের কর্মীদের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সিপিএমের এক জেলা নেতার কথায়, “রাজনীতির লড়াই শেষ পর্যন্ত বুথেই হয়। উপরের স্তরে যতই কৌশল নেওয়া হোক, নিচুতলার সংগঠন শক্তিশালী না হলে কোনও লাভ নেই। তাই সেই জায়গাটাকেই ফের মজবুত করার চেষ্টা করছি।” দলীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, নির্বাচনী কমিটির সদস্যরাই এই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন। তাঁরা প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে পুরনো কর্মীদের সঙ্গে দেখা করছেন, তাঁদের অভিমান ভাঙানোর চেষ্টা করছেন এবং আবার সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার আবেদন জানাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কারণে রাজনীতি থেকে দূরে থাকা মানুষজনও আবার আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য দীপঙ্কর চক্রবর্তী এই প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা কোনও মানুষকে বাদ দিতে চাই না। অনেকে বিভিন্ন কারণে দূরে সরে গিয়েছেন, কিন্তু তাঁদের অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক চেতনা এখনও মূল্যবান। তাই তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তাঁরা যাতে আবার সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারেন।” তিনি স্পষ্ট করে দেন, “যাঁরা অন্য দলে গিয়ে পদে রয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রশ্ন নেই। কিন্তু সাধারণ কর্মীদের বাদ দেওয়ার কোনও যুক্তি নেই।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৩৪ বছর শাসনের সময়ে গ্রামবাংলায় যে শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তুলেছিল সিপিএম, তার অনেকটাই সময়ের সঙ্গে শিথিল হয়েছে। সেই সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করাই এখন লক্ষ্য।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
-
ফের রক্তাক্ত নানুর! দুই গোষ্ঠীর লড়াইয়ে চলল গুলি, মৃত ১, গ্রামে মোতায়েন পুলিশ
-
‘ভয়ংকর রকম কমে গিয়েছে’, ভারতের জন্মহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ মাস্কের
-
সিএবিতে ‘দাদাগিরি’, প্রভাব খাটিয়ে জেলা কোচিং কমিটির চেয়ারম্যান! গ্রেপ্তার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক
-
এবার গরমের ছুটি! বর্ষার আগেই ঝেঁপে বৃষ্টি দক্ষিণবঙ্গে, কলকাতায় কালবৈশাখীর সতর্কতা
-
স্ট্যালিন আউট, বিজয় ইন! ইন্ডিয়া জোটে চমকের সম্ভাবনা, কংগ্রেসের অস্বস্তি বাড়িয়ে পত্রবোমা সিপিএমের
নিবেদিত






