Advertisement
Advertisement
West Bengal Assembly Election

‘আমাদের নিয়ে ছেলেখেলা করছে কেন্দ্রীয় সরকার,’ এসআইআরে নাম বাদ পড়ায় ফুঁসছে ডোমজুড়ের মতুয়ামহল্লা

ডোমজুড় বিধানসভা কেন্দ্রের জগদীশপুরে ৮৭ ও ৭৫ নম্বর পার্টে তাঁতিপাড়া কাছারিবাগানে প্রায় ১৫০ জন মতুয়ার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ হয়ে গিয়েছে।

Advertisement
অরিজিৎ গুপ্ত
অরিজিৎ গুপ্ত

শেষ আপডেট: এপ্রিল ৪, ২০২৬, ২০:০০

link
অরিজিৎ গুপ্ত
অরিজিৎ গুপ্ত

শেষ আপডেট: এপ্রিল ৪, ২০২৬, ২০:০০

options
link
‘আমাদের নিয়ে ছেলেখেলা করছে কেন্দ্রীয় সরকার,’ এসআইআরে নাম বাদ পড়ায় ফুঁসছে ডোমজুড়ের মতুয়ামহল্লা zoom
ফাইল ছবি।

চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ পেয়েছে গত ফেব্রুয়ারি মাসে। এরপর ধাপে ধাপে প্রকাশিত হতে চলেছে অতিরিক্ত ভোটার তালিকায়। আর সেই তালিকায় বনগাঁ-সহ একাধিক এলাকায় বহু মতুয়া ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। যা নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক-উদ্বেগ। আর সেই আশঙ্কা হাওড়ার জগদীশপুরের মতুয়া মহল্লায়। প্রায় অর্ধশতক আগে ওপার বাংলায় ধর্মীয় উৎপীড়নের কারণে এদেশে পা রাখা বহু মতুয়া পরিবার বর্তমানে রয়েছেন ডোমজুড় বিধানসভা কেন্দ্রের জগদীশপুরে। জগদীশপুরে দুটি পার্টে প্রায় ৯০০ জন মতুয়া ভোটারের মধ্যে ১৫০ জনের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ চলে যাওয়ায় এবার ক্ষোভ প্রকাশ করলেন তাঁরা। ১৫০ জন মতুয়া ভোটারের নাম বাদ গেলেও অনেক ভোটারকেই বিবেচনাধীনের তালিকায় রেখে তাঁদের শুনানিতে ডেকে হয়রানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তবে এঁদের মধ্যে অনেকের নাম উঠলেও বাদ চলে গিয়েছে ১৫০ জন ভোটারের নাম।

ডোমজুড় বিধানসভা কেন্দ্রের জগদীশপুরে ৮৭ ও ৭৫ নম্বর পার্টে তাঁতিপাড়া কাছারিবাগানে প্রায় ১৫০ জন মতুয়ার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ হয়ে গিয়েছে। স্বপন শিকদার নামে এলাকার এক বাসিন্দা বললেন, ‘‘আমাদের মতুয়া মহল্লার বাসিন্দারা প্রায় ৯৫ সাল থেকে ভোট দিয়ে আসছি। সমস্তরকম নথি আমাদের কাছে থাকা সত্ত্বেও রবীন বারুই, কানন বারুই, ললিতা বারুইদের মতো মতুয়া ভোটারদের নাম প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে।’’ জগদীশপুরের মতুয়া মহল্লায় মতুয়াদের বক্তব্য, ‘‘কখনও এনআরসি, কখনও এসআইআর- এসব ইস্যু তুলে আমাদের জীবন নিয়ে ছেলেখেলা করছে কেন্দ্রীয় সরকার।’’ ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় ক্ষোভ উগড়ে দেন এখানকার মতুয়া সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা। পুস্প রায় নামে এক মহিলা বাসিন্দা বললেন, ‘‘আমরা জন্মেছি এখানেই। ওপার বাংলার গল্প শুধু শুনেছি। এখন কীভাবে আমরা ‘অবৈধ’ হয়ে গেলাম?’’ জগদীশপুরের একপ্রান্তে নবনির্মীয়মাণ হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে প্রবীণ ভারতী বর বললেন, ‘‘বাম আমলে নাম তোলার জন্য বহুবার আবেদন করেছি, লাভ হয়নি। পাট্টাও পাইনি। দিদি আসার পরই সব সুবিধে পেলাম। এখন এই মাটি ছেড়ে কোথায় যাব?’’ স্থানীয়দের দাবি, রাজ্যে শাসক বদলের পর রাস্তাঘাট, পানীয় জল, আলো- সবই উন্নত হয়েছে। অনেকে জমির পাট্টাও পেয়েছেন। কিন্তু বিজেপি নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে বারবার তাঁদের বিভ্রান্ত করেছে। ‘‘বিজেপি ভোটের আগে বড় বড় কথা বলে, পরে খোঁজই নেয় না’’- অভিযোগ বাসিন্দাদের।

Advertisement

স্থানীয়দের দাবি, রাজ্যে শাসক বদলের পর রাস্তাঘাট, পানীয় জল, আলো- সবই উন্নত হয়েছে। অনেকে জমির পাট্টাও পেয়েছেন। কিন্তু বিজেপি নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে বারবার তাঁদের বিভ্রান্ত করেছে। ‘‘বিজেপি ভোটের আগে বড় বড় কথা বলে, পরে খোঁজই নেয় না’’- অভিযোগ বাসিন্দাদের।

প্রসঙ্গত, ডোমজুড় বিধানসভার জগদীশপুর পঞ্চায়েতের বিশেষত ৮৭ এবং ৭৫ নম্বর পার্টে মতুয়া পরিবারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ৮৭ নম্বর পার্টের ৮৩৪ ভোটারের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই মতুয়া। অন্য পার্টেও সংখ্যা প্রায় ৩০০-র বেশী। তাঁতিপাড়া, কাছারিবাগান, কুন্ডুর মাঠ, বাঙালপাড়া- এই চার এলাকাকে ধরলে পঞ্চায়েতে মতুয়া বাড়ির সংখ্যা হাজার ছুঁইছুঁই। এদের মধ্যে অধিকাংশই ১৯৭৩ সালের পর এখানে আশ্রয় নেন। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২১ বিধানসভা ও ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে এই দুই পার্টেই বিজেপি বড় লিড পেয়েছিল। এই প্রসঙ্গে ডোমজুড়ের তৃণমূল প্রার্থী তাপস মাইতি বললেন, ‘‘যাদের ভরসা করে মতুয়ারা ভোট দিয়েছিলেন, সেই বিজেপিই আজ তাদের অধিকার নিয়ে খেলছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের জন্য লড়াই করছেন। তাই আতঙ্কের কারণ নেই।’’

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.