ছিলেন বিচারপতি। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁর একের পর এক রায় আলোড়ন ফেলেছিল। হঠাৎই বিচারকক্ষ ছেড়ে বিজেপির টিকিটে সাংসদ হয়ে যান তিনি। জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতাচ্যুত করতেই তাঁর রাজনীতিতে আসা। কিন্তু কোথায় কী? ছাব্বিশের ভোটে (West Bengal Assembly Election) অদ্ভুতভাবে ‘নিখোঁজ’ তিনি। নিজের নির্বাচনী ক্ষেত্র তমলুকের কোনও বিধানসভাতেও প্রচারে দেখা যাচ্ছে না। পূর্ব পাঁশকুড়া বিধানসভায় ‘মিসিং পোস্টার’ পড়েছে। তাতে লেখা ‘মিসিং বিজেপি এমপি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Abhijit Ganguly), এমপি তমলুক লোকসভা’। হ্যাঁ, তমলুকের বিজেপি সাংসদ তথা প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের কথা হচ্ছে।
এই বিষয়ে আরও খবর
ভোটপ্রচারে তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে নানান জল্পনা পল্লবিত। একটা মহল বলছে, তিনি অসুস্থ। অন্য ব্যাখ্যা, বিপজ্জনক ও ঝুঁকির মনে করেই অভিজিৎবাবুকে প্রচারের বৃত্তের বাইরে রেখেছে গেরুয়া শিবির। কেন অভিজিৎবাবু হঠাৎ ব্রাত্য? নেটিজেনদের মধ্যে হরেক জল্পনা। অভিজিৎবাবুর প্রসঙ্গ টেনে কেউ কেউ আবার ‘অভয়ার মা’-কে সাবধান করেছেন। বলেছেন, ‘‘ভালো শিক্ষিত মানুষের ঠাঁই হয় না বিজেপিতে। আপনিও অভিজিৎবাবুর পথের যাত্রী। আপনাকেও অভিজিৎবাবুর মতো একদিন পস্তাতে হবে।’’ যদিও পূর্ব পাঁশকুড়া বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী সুব্রত মাইতির দাবি, অভিজিৎবাবু হলদিয়াতে প্রধানমন্ত্রীর সভায় এসেছিলেন। তাঁর পাশেই বসেছিলেন। সেই সময় জানিয়েছিলেন যে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ।
এখন প্রশ্ন হল, অসুস্থ হলে নিদেনপক্ষে ভিডিও বার্তায় বিজেপিকে জেতানোর ডাক দিতে পারতেন। সমাজমাধ্যমে কিছু পোস্ট করতে পারতেন। কিন্তু তা হয়নি। ছাব্বিশের ভোটে মাটি কামড়ে বাংলায় পড়ে আছেন প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিজেপি শাসিত একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রচারে এসেছেন। এই পরিস্থিতিতে অভিজিৎবাবুর অনুপস্থিতি চোখে পড়েছে সবারই। কয়েকদিন আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও জানিয়েছেন, অভিজিৎবাবুকে তাঁরা প্রার্থী হিসাবে চাননি।
রাজনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ, গত নভেম্বরে অভিজিৎবাবু হিন্দিভাষী নেতাদের এনে ভোটপ্রচারের তীব্র বিরোধিতা করে মন্তব্য করেন। যা বিজেপির হাইকমান্ডকে তীব্র অস্বস্তিতে ফেলে দেয়। অভিজিৎবাবু জানিয়েছিলেন, “হিন্দি বলয় থেকে নেতা এনে এখানে ভোট করানো যাবে না। কারণ পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মন, মেজাজ, তাদের অভিমান, এসব দিল্লিওয়ালা নেতারা বোঝেন না। পশ্চিমবঙ্গ সম্পূর্ণ একটি অন্য জায়গা। এখানকার মানুষ, তাদের চিন্তাভাবনা, তা বাকি ভারত বিশেষ করে উত্তর ভারতের সঙ্গে একদমই মিলবে না। তাই সেখান থেকে নেতা পাঠিয়ে, ভোট করিয়ে, জিতিয়ে বেরিয়ে যাব, এটা অবাস্তব চিন্তাভাবনা।’’ এটা বলার জন্যই কি ‘ক্লোজ’ করা হয়েছে অভিজিৎবাবুকে?
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
-
প্রথমবার নেহরু টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন, হকিতে ভারত জয় পুরুলিয়া সৈনিক স্কুলের
-
হকার উচ্ছেদ ঘিরে কৃষ্ণনগর স্টেশনে ধুন্ধুমার! পুলিশের সঙ্গে বচসা, হাতাহাতি সিটু, এসইউসিআই কর্মীদের
-
‘ভারতীয়দেরও প্রাণ গিয়েছে’, জি-৭ বৈঠকে ট্রাম্পের সামনেই নাবিকদের মৃত্যু নিয়ে উষ্মা মোদির
-
সরকারি কাজেই আধারের অপব্যবহার? এবার কেন্দ্র ও UIDAI-কে নোটিস সুপ্রিম কোর্টের
-
ভাঙছে আরও একটি পুর বোর্ড! ইস্তফা দিলেন দমদম পুরসভার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান
নিবেদিত






