Advertisement
Advertisement
Bengal Election 2026

নন্দীগ্রামেই লেখা পূর্ব মেদিনীপুরের ভাগ্য, অধিকারী-গড়ে ধস নামাতে পারবেন পবিত্র কর?

নজর নন্দীগ্রামে থাকলেও এই জেলার ১৬টি বিধানসভাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬-এ একটাই প্রশ্ন, রক্ষা হবে 'অধিকারী-গড়'? নাকি আবার নন্দীগ্রাম ফিরে পাবে তৃণমূল?

Advertisement
রঞ্জন মহাপাত্র
রঞ্জন মহাপাত্র

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ২০:৫৫

link
রঞ্জন মহাপাত্র
রঞ্জন মহাপাত্র

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ২০:৫৫

options
link
নন্দীগ্রামেই লেখা পূর্ব মেদিনীপুরের ভাগ্য, অধিকারী-গড়ে ধস নামাতে পারবেন পবিত্র কর? zoom
অধিকারী-গড়ে ধস নামাতে পারবেন পবিত্র কর?

১৯৪২। ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের সময় যে জেলায় গঠিত হয়েছিল তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার, ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ‘সমান্তরাল সরকার’ চালানো হয়েছিল যে জেলায়, স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম অংশ সেই জেলায় আজ অন্য লড়াই। সেই জেলাই আবার অধুনা রাজনীতিতে বাম শাসনের অবসান ঘটাতে বড় ভূমিকা নেয়। লাল পতাকার রমরমার যুগে লক্ষণ শেঠের দাপট সবাই একবাক্যে মেনে নিতেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলায়। সেই লক্ষণ শেঠ রাজনীতির মঞ্চে এখন বিস্মৃত প্রায়। রং বদলে জেলার মাটি সবুজ হয়েছিল বটে। তবে খেলা ঘুরে যায় ২০২১-এ। নজর নন্দীগ্রামে থাকলেও এই জেলার ১৬টি বিধানসভাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬-এ একটাই প্রশ্ন, রক্ষা হবে ‘অধিকারী-গড়’? নাকি আবার নন্দীগ্রাম ফিরে পাবে তৃণমূল?

নজর নন্দীগ্রামে থাকলেও এই জেলার ১৬টি বিধানসভাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬-এ একটাই প্রশ্ন, রক্ষা হবে ‘অধিকারী-গড়’? নাকি আবার নন্দীগ্রাম ফিরে পাবে তৃণমূল?

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
সিপিএমের ৩৪ বছরের শাসনকালে বঙ্গোপসাগরের তীরের এই জেলায় দিকে দিকে উড়ত লাল পতাকা। স্থানীয়দের কথায়, সেই সময় লক্ষণ শেঠের ইশারা ছাড়া পাতাও নড়ত না। এখনও পুরনোদিনের কথা মনে পড়লে শিউরে ওঠেন এলাকার মানুষজন! তাঁদের কথায়, ‘সিপিএম আবার! ওইসব দিন আমরা এখনও ভুলিনি।’ খেঁজুরি, নন্দীগ্রাম, উত্তর কাঁথি, ভগবানপুর, পটাশপুর একটা সময় হয়ে উঠেছিল লাল সন্ত্রাসের আঁতুরঘর। ভোট এলে কারও বাড়িতে পৌঁছে যেত সাদা কাপড়, কোথাও হত চট তুলে ভোট। ভোট এলেই আতঙ্কের রাত কাটত এলাকার মানুষের। এই পরিস্থিতিতেও কাঁথি পুরসভা ছিল ডানপন্থীদের দখলে। নেতৃত্বে কাঁথির শান্তিকুঞ্জের অভিভাবক শিশির অধিকারী। দাপটের সঙ্গে পুরসভা পরিচালনা করেছেন। বাম জামানায় তাঁর হাত ধরেই কাঁথির রূপ বদলে গিয়েছিল।

Advertisement

সেই জেলায় পট পরিবর্তন হয়েছে। মেজো ছেলে শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে শান্তিকুঞ্জ এখন গেরুয়া। তবে রাজনীতিতে গুরুত্ব কমেনি পরিবারের। শুভেন্দু বিজেপিতে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক মানচিত্রও বদলাতে শুরু করে এই জেলায়। ২০১৬ সালে প্রায় সব আসনে ঘাসফুল ফুটলেও এই ৭টি বিধানসভা কেন্দ্রেই ফোটে পদ্ম। প্রথমবার কাঁথি দক্ষিণ, কাঁথি উওর, ভগবানপুর, খেঁজুরি, হলদিয়া, ময়না এবং নন্দীগ্রামে জয়ী হয় বিজেপি। স্বাভাবিকভাবেই জেলার রাজনৈতিক সমীকরণ নিমেষে বদলে যায়। সব রাজনৈতিক দলের কাছেই এখন পাখির চোখ এই জেলা।

নজরে নন্দীগ্রাম
আজ নয়, বিগত দুই-আড়াই দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে নন্দীগ্রামের নাম চর্চিত। আজও নন্দীগ্রামের পথে হাঁটলে এলাকার মানুষ আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, ‘ওই সেই তেখালি ব্রিজ।’ এখনও সেই গুলির শব্দ মন থেকে মোছেনি ওদের। সেদিন যাঁদের নেতৃত্বে নন্দীগ্রামে আন্দোলন হয়েছিল, আজ তাঁরাই দু’ভাগে বিভক্ত। শহিদবেদীতে আজ শাসক-বিরোধী আলাদা আলাদাভাবে মালা দেয়। সিপিএমকে আনার কথা হয়ত আর দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারে না তারা। তবে ব্যক্তি প্রভাবের উপরেই দাঁড়িয়ে রয়েছে এলাকার রাজনৈতিক সমীকরণ।

Bengal Election Nandigram Speaks Pabitra Kar vs Suvendu Adhikari Voters Reveal Truth Before Bengal Elections

গত বিধানসভা নির্বাচনে মাত্র ১৯০০ ভোটের ব্যবধান থাকলেও বিজেপি এই বার্তা দিতে সমর্থ হয়েছিল যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে টেক্কা দিয়েছেন শুভেন্দু। সেই ফলাফল নিয়ে আজও মামলা চলছে, তবে নন্দীগ্রামের মাটিকে যে তারা গুরুত্ব দিচ্ছে, শাসক দল সে কথা বুঝিয়ে দিয়েছে বারবার। পাঁচ বছর ধরে শুভেন্দু অধিকারী কী দিলেন নন্দীগ্রামকে? এবার আবার তাঁর সামনে অভূতপূর্ব পরীক্ষা। একসময়ের রাজনৈতিক সঙ্গী পবিত্র করের সঙ্গেই মুখোমুখি লড়াই। এই বিধানসভা কেন্দ্রের বাসিন্দাদের একাংশ বলছেন, ‘নন্দীগ্রামে অনেক কিছু করার আছে। তৃণমূল এলে যদি করতে পারে।’ আবার কারও কারও কাছে, ‘দাদা’ই শেষ কথা, কারণ নন্দীগ্রামের লড়াইয়ের অন্যতম হোতা ছিলেন শুভেন্দুই।

এবার আবার নন্দীগ্রামে প্রার্থী দিয়েছে বামেরা, প্রার্থী দিয়েছে আইএসএফও। এই কেন্দ্রে আইএসএফ চাইলেও তা ছাড়েনি বামেরা। এই কেন্দ্রে পালটা প্রার্থী দিয়েছে নওসাদের দল।ভোট কাটাকাটির পরিস্থিতি থাকলেও শুভেন্দু দাবি করেছেন, ওই কেন্দ্রে এবার তিনি জিতবেন, আর দ্বিতীয় হবে আইএসএফ।

নজরকাড়া প্রার্থী
চণ্ডীপুরের প্রার্থী হয়েছেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিক। পটাশপুরের বিধায়ককে এবার আসন পরিবর্তন করে চণ্ডীপুরে আনা হয়েছে। অভিনেতা সোহম চক্রবর্তীর ছেড়ে যাওয়া আসনে প্রার্থী করা হয়েছে তাঁকে। তাঁর বিপরীতে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন ডাঃ পীযূষ কুমার দাস। এলাকার পরিচিত মুখ। অপরদিকে রামনগরে পঞ্চমবার বিধায়ক পদের জন্য লড়াই করছেন তৃণমূল প্রার্থী অখিল গিরি। রাজ্যের মন্ত্রীও ছিলেন তিনি। শুভেন্দু বিজেপিতে যাওয়ার পর যে সব নেতাদের এই জেলায় দাপট বাড়ে, তাঁদের মধ্যে অন্যতম অখিল গিরি। তবে একাধিকবার বিতর্কে জড়িয়েছেন তিনি। কিন্তু অধিকারী গড়ে বড় একটা সংগঠন রয়েছে অখিলের। তাঁর বিপরীতে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন রামনগর রাও হাইস্কুলের শিক্ষক ড. চন্দ্রশেখর মণ্ডল। তবে বিধানসভা ভোটে নতুন মুখ তিনি।

অপরদিকে এগরা বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী হয়েছেন এলাকার বিধায়ক তরুণ কুমার মাইতি। তাঁর বিপরীতে লড়ছেন তমলুকের দু’বারের প্রাক্তন সাংসদ, দক্ষিণ কাঁথির প্রাক্তন বিধায়ক দিব্যেন্দু অধিকারী। এক বাসিন্দার কথায়, ‘এবার এখানে লড়াই সেয়ানে সেয়ানে।’ দক্ষিণ কাঁথিতে তৃণমূল প্রার্থী হয়েছেন তরুণ কুমার জানা। তিনি উত্তর কাঁথিতে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত। তবে দক্ষিণ কাঁথির রাজনীতিতে তিনি নতুন মুখ। তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপির প্রার্থী এলাকার বিধায়ক তথা কাঁথি হাইস্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক অরূপ কুমার দাস।

অপরদিকে হলদিয়া শিল্পাঞ্চলে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন বিজেপি থেকে আসা তাপসী মণ্ডল। ময়নায় বিজেপির প্রার্থী এলাকার বিধায়ক তথা ক্রিকেটার অশোক দিন্দার বিরুদ্ধে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন বিজেপি থেকে যাওয়া চন্দন মণ্ডল।

অধিকারী ফ্যাক্টর
শেঠ জমানা অস্তমিত হওয়ার পর গড় হয়ে ওঠে অধিকারীদের। বাম জমানাতেও কংগ্রেসের শিশির অধিকারীকে সবাই চিনতেন। পরে রাজনীতির ময়দানে আসেন শুভেন্দু। তারপর একে একে সৌমেন্দু অধিকারী, দিব্যেন্দু অধিকারীরাও কাঁধে নিয়ে নেন সেই অধিকারী লিগ্যাসি। দিঘা, শংকরপুর এলাকাতেও অধিকারীদের প্রভাব ছিল চর্চার বিষয়। শুভেন্দু দল পরিবর্তন করার পর অনেকেই ভেবেছিলেন বাংলার রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিকতা হারাবেন তিনি। কিন্তু নন্দীগ্রামে জয়ের পর বিরোধী দলনেতা হয়েছেন। এদিকে শিশির অধিকারী দীর্ঘদিন পর্যন্ত দলবদল না করলেও একে একে গোটা শান্তিকুঞ্জেই পদ্ম ফুটেছে। দীর্ঘদিন সাংসদ এবং বিধায়ক পদে থাকা দিব্যেন্দুকে এবার এগরায় প্রার্থী করেছে বিজেপি। তবে শুভেন্দু অধিকারীর আর এক ভাই সৌমেন্দু অধিকারী এখনও সাংসদ রয়েছেন। ২০২৪-এ জয়ী হয়ে কাঁথির সাংসদ হয়েছেন। ২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে তমলুক আসনেও জয়ী হয়েছিল বিজেপি। সাংসদ হন প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তবে সেই তমলুকেও অধিকারীদের প্রভাবেই অভিজিতের জয় বলে মনে করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ভোটের ফ্যাক্টর –
নদী, সমুদ্রে ঘেরা পূর্ব মেদিনীপুর জেলা। কিন্তু এই জেলার বেশ কিছু এলাকায় এখনও পানীয় জলের কষ্ট রয়েছে। উত্তর কাঁথির কাঁথি ৩ নম্বর ব্লকের একাধিক এলাকায় পানীয় জলের সমস্যা প্রতিবার দেখা দেয়। প্রতিবার ভোট এলে আশ্বাস মেলে। কিন্তু পূরণ হয় না। এছাড়া রসুলপুর ও খেঁজুরির বোগা খেয়াঘাটে একটি ব্রিজের দীর্ঘদিনের দাবি রয়েছে। তবে এবার পূর্ব মেদিনীপুরের নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হতে পারে দিঘার জগন্নাথ মন্দির। এই মন্দিরকে ঘিরে একদিকে যেমন পর্যটনে জোয়ার এসেছে, অন্যদিকে পূর্ব মেদিনীপুরে অর্থনীতিও ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তৈরি হয়েছে আবেগ। যার ফল ভোটবাক্সে পড়ার জোর সম্ভাবনা। এছাড়াও ভোটের আগে নন্দীগ্রামে ‘সেবাশ্রয়ে’ বহু মানুষ উপকৃত হয়েছেন। পরিস্থিতি এমন হয় যে, পালটা বিজেপিকে ক্যাম্প বসাতে হয়। কিন্তু সারসংক্ষেপ শূন্য! সকাল থেকে রাত, সেবাশ্রয়ে মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। পাশাপাশি এই জেলার মৎস্যজীবীরা বড় ফ্যাক্টর বিজেপি এবং তৃণমূলের কাছে। আর তাই এই জেলায় দাঁড়িয়ে মাছের কথা বলতে হয় মোদিকে। অন্যদিকে তৃণমূলের হাতিয়ার সরকারের উন্নয়ন।  

নজরে যেসব কেন্দ্র

নন্দীগ্রাম: ২০২১-এ প্রথম পদ্ম ফোটে নন্দীগ্রামে। উন্নয়ন নিয়ে পক্ষে ও বিপক্ষে জনমত রয়েছে। শুভেন্দু ফের বিজেপির প্রার্থী। মূল প্রতিপক্ষ তৃণমূল। তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত পবিত্র কর কে তৃণমূল ভাঙিয়ে প্রার্থী করেছে। কারণ, যে বয়াল এলাকার হিন্দু ভোট শুভেন্দুকে জিতেয়েছিল, সেই বয়াল এলাকার নেতা পবিত্রকে প্রার্থী করে বিজেপির হিন্দু ভোটে ভাগ বসানোর স্ট্র্যাটেজি নিয়েছে তৃণমূল। তাছাড়া আইএসএফ-সহ একাধিক দল প্রার্থী দিয়েছে। সেখানে মুসলিম ভোট ভাগের সম্ভাবনা রয়েছে। 

খেজুরি : ২০২১ সালে বিজেপি খেজুরি বিধানসভায় জয়ী হয়। বিধায়ক হন শান্তনু প্রামাণিক। এবার শান্তনুকে খেজুরি থেকে সরিয়ে ভগবানপুরে প্রার্থী করা হয়েছে। খেজুরিতে এবার বিজেপি প্রার্থী জেলা পরিষদ সদস্য সুব্রত পাইক। প্রার্থী নিয়ে বিজেপির ঘরে ক্ষোভ রয়েছে। তাছাড়া সিপিএমের প্রার্থী হিমাংশু দাস একসময় খেজুরির শেষ কথা ছিলেন। ২০২১সালে বামেদের ভোট রামে যায়। ফলে বিজেপির জয় আসে। কিন্তু এবার সিপিএমের ভোট ফের ঘরে ফেরার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী রবীনচন্দ্র মণ্ডল সরকারি উন্নয়ন নিয়ে বাড়িতে বাড়িতে হাজির হচ্ছেন। বিজেপি বিধায়কের ব্যর্থতা তুলে ধরছেন। ফলে সিপিএমের ভোট ঘরে ফিরলে এখানে এগিয়ে তৃণমূল।

এগরা : তৃণমূল প্রার্থী তরুণ কুমার মাইতি, বিজেপি প্রার্থী দিব্যেন্দু অধিকারী। এগরা বিধানসভা এলাকায় লোকসভা ভোটে ৮হাজারের বেশি ভোটে পিছিয়ে তৃণমূল। তারপরে এগরা পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপন নায়ক গ্রেপ্তার এই বিষয়গুলি ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে। তাছাড়া অধিকারীদের একটা দাপট রয়েছে। ফলে বিজেপি এগিয়ে থাকলেও রানিং বিধায়ক হওয়ায় খুব পিছিয়ে নেই তৃণমূল। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে।

ময়না: অশোক দিন্দাকেই এবার এই কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে বিজেপি। অন্যদিকে তাঁরই একসময়ের ছায়াসঙ্গী চন্দন মণ্ডলকে তৃণমূল প্রার্থী করেছে। ফলে ময়নায় বিজেপির একচেটিয়া ভোট ভাঙার জোড় সম্ভাবনা। এছাড়াও বিজেপির কাছে বড় ফ্যাক্টর হতে পারে অনুন্নয়ন।

রামনগর: অখিল গিরি এবারও প্রার্থী তৃণমূলের। পাঁচবারের জন্য বিধায়ক হওয়ার দৌড়ে তিনি। লোকসভায় এই কেন্দ্রে প্রায় ৯ হাজার ভোটে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। কিন্তু এখানে বিজেপি প্রার্থী চন্দ্রশেখর মণ্ডল একেবারে নতুন মুখ। সেখানে চ্যালেঞ্জ হতে পারে বিজেপির কাছে। 

চণ্ডীপুর: তৃণমূলের প্রার্থী পটাশপুরের বিদায়ি বিধায়ক উত্তম বারিক। বিজেপির প্রার্থী স্থানীয় চিকিৎসক পিয়ুষ দাস। এলাকায় তাঁর যথেষ্ট জনপ্রিয়তা আছে। অন্যদিকে সংগঠন এবং জনপ্রিয়তাতেও এগিয়ে উত্তম বারিক। ফলে লড়াই এখানে হাড্ডহাড্ডি হওয়ার সম্ভাবনা।

কাঁথি দক্ষিণ: গতবারের বিধায়ক অরূপ কুমার দাসকে এবারও প্রার্থী করেছে বিজেপি। যদিও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী তৃণমূলের প্রার্থী তরুণ কুমার জানা। উত্তর কাঁথিতে দীর্ঘদিন রাজনীতি করলেও, এই কেন্দ্রে নতুন মুখ তিনি। তরুণ কুমার জানার কথায়, মানুষের উচ্ছ্বাস যেভাবে চোখে পড়ছে তাতে খুশি। মানুষের সমর্থন এবং আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নে এই জেলার প্রত্যেক আসনেই তৃণমূল জিতবে বলে দাবি তৃণমূল নেতার। অন্যদিকে এবার পূর্ব মেদিনীপুরে আসন সংখ্যা বাড়বে পালটা দাবি বিজেপি প্রার্থী চন্দ্রশেখর মণ্ডলের।

সবমিলিয়ে জনগণমন ভাগ্য বিধাতা রাজ্যে যে দলকেই ক্ষমতায় বসাক না কেন, সেই সমীকরণের  আঁতুরঘর যে এই জেলাই, তা বলাইবাহুল্য।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.