Advertisement
Advertisement
Nawsad Siddique

ভোটের স্কিপার: সেক্যু বংশের একমাত্র সলতে!

ফেবুমহলে সেকুমাকু নামের একটি রাজনৈতিক মুখখারাপের ভাষা আমদানি হয়েছে গত কয়েক বছরে। নওশাদ সিদ্দিকী সেই প্রথা ভেঙে সেকুলার হয়েছেন, বামপন্থী হননি। ভাঙড় তাঁকে সাদরে গ্রহণ করেছে। কিন্তু পথ চলা ঢের বাকি।

Advertisement
নিরাপদ কর
নিরাপদ কর

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ১৮:৫৫

link
নিরাপদ কর
নিরাপদ কর

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ১৮:৫৫

options
link
ভোটের স্কিপার: সেক্যু বংশের একমাত্র সলতে! zoom
ক্যারিকেচার: স্যমন্তক চট্টোপাধ্যায়

তিনি নওশাদ সিদ্দিকি (Nawsad Siddique)। খ্যাতনামা দলে-টলে নেই। বিজেপি-তৃণমূল-বামপন্থীদের কূটকচালে নেই, তিনি একলা চলো রে-তে বিশ্বাসী। কিন্তু কতদূর তাঁর একলা চলা? বামফ্রন্ট-কংগ্রেস এবং ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট জোটের প্রার্থী হিসেবে জয়ী একমাত্র বিধায়ক তো তিনিই। তিনি প্রার্থী ভাঙড়ের। গতবার সেখান থেকে জিতেই তিনি বিধায়ক। এবারেও তিনি এই এলাকারই টিকিট পাওয়া প্রার্থী।

মাত্র দু’দিন আগেই চলে গেল ভীমরাও রামজি আম্বেদকরের জন্মদিন। ভারতীয় খসড়া সংবিধান তো তাঁরই হাতে। ভারতে বসবাসকারী শুভবুদ্ধির মানুষদের কি করুণা হয় না ভাবলে যে সংবিধান থেকে আমরা ক্রমশই দূরে সরে যাচ্ছি? তবে শেষ দু-দেড় বছরে প্রবল কেন্দ্রীয় ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমরা দেখেছি সংবিধান হাতে নিয়ে তাঁকেই প্রায় বর্ম করে তুলেছেন রাহুল গান্ধী। এমনকী, কমেডিয়ান কুণাল কামরাও নিজের বর্ম হিসেবে, বাকস্বাধীনতার দলিল হিসেবে দেখিয়েছিলেন এই সংবিধানকেই। সেই সংবিধানেই ‘সেক্যুলার’ শব্দটি স্থির ও দৃঢ়প্রত্যয়ে রয়েছে। নামের মধ্যেই সেক্যুলার রয়েছে এমন রাজনৈতিক দল এই একমাত্র আইএসএফ। কিন্তু কে না জানে, যে কোনও সোনাতেই খাদ মিশে থাকে। ফলে তালেগোলে একদিন যদি ভেঙেচুরে যায় এই সেক্যুলার স্বপ্ন, তাহলে কাকেই বা দোষ দেওয়া যায়?

Advertisement

বয়সে ও অভিজ্ঞতায় নবীন, তাঁর রাজনীতি যদিও ‘সেকুলার’, পরনে ধর্মের ছাপ খুব স্পষ্টই। সেকুলার হয়ে তাঁর দলীয় প্রচার কোথাও এই জায়গায় এসে দ্বন্দের সৃষ্টি করে না কি? নওশাদের প্রতি অভিযোগ, অনেকে অবশ্য ষড়যন্ত্রও বলেছেন যে, এক মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে তাঁর ওপর।

আশ্বাসের কথা, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে, ’২১ সালের নির্বাচনের আগে আত্মপ্রকাশ করেছিল আইএসএফ। আব্বাস সিদ্দিকি এই দল প্রতিষ্ঠা করলেও, নেতৃত্বের দায়িত্বে চিরকালই তাঁর ছোটভাই নওশাদ। এই ভোটের আগে, তিনি সাফ জানিয়েছেন যে-বারুদের গন্ধ মিশে ছিল ভাঙড়ের বাতাসে, সেই গন্ধ আর পাওয়া যায় না। এখন শান্তির ঘুম ঘুমোতে পারেন ভাঙড়ের মানুষরা। ’২১ সালের বিধানসভা ভোটের কথা স্মরণে আনলে ভাঙড়ের অশান্ত পরিস্থিতি বারবারই মনে পড়বে। এমনকী, পঞ্চায়েত ভোটের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা বদলে যায়নি মোটেই। এই ভয়াবহ পরিবেশেই কিন্তু বিধায়ক হিসেবে ভারপ্রাপ্ত হয়েছিলেন আইএসএফ-এর নওশাদ সিদ্দিকি। কাজের কাজ কতটুকু হয়েছে, ভাঙড়ের রাস্তাঘাট কতটা উন্নত হয়েছে, স্বাস্থ্য পরিষেবার কী হাল, সেসব নিশ্চয়ই মানুষরা বলবেন– কিন্তু যা বলার, ভাঙড়ের অন্তর্লীন যে রক্তপাতের ইতিহাসের উত্তরাধিকার, তা বোধহয় বিরতি নিয়েছে। যদিও নওশাদের বলা ‘নিশ্চিন্তে ঘুম’ দিচ্ছে ভাঙড়বাসী– একথা নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। কারণ সদ্য হওয়া এসআইআর-এ ভাঙড়বাসীদের পরিস্থিতি খুব সহজ-সাবলীল নয়। তবে? পুরোটাই কি রাজনৈতিক রুমাল চোখে বেঁধে দেওয়ার চেষ্টা? নওশাদ (Nawsad Siddique) কী মনে করেন? সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, তাঁর লড়াই তৃণমূল-বিজেপির বিরুদ্ধে। এবং সে-লড়াই তিনি করে যাচ্ছেন। তিনি জানেন তাঁর কাছে কর্পোরেট ফান্ড নেই কোনও, তা সত্ত্বেও মানুষ তাঁর পাশে আছে, এ-ও তিনি জানেন।

গত বছরের আগস্টে, কলকাতা পুলিশের কোনও অনুমতি ছাড়াই তিনি ধর্মতলায় ধর্নামঞ্চ খাড়া করেছিলেন। পুলিশের সঙ্গে প্রবল ধ্বস্তাধ্বস্তি হয়, নওশাদ আটকও হন! এসআইআর-ওয়াকফের বিরুদ্ধে তিনি আন্দোলন করছিলেন, তা বেশ করছিলেন, কিন্তু আন্দোলনেরও তো রাজনৈতিক ব্যাকরণ থাকে– তা কি তিনি অনভিজ্ঞ বলে জানেন না?

বয়সে ও অভিজ্ঞতায় নবীন, তাঁর রাজনীতি যদিও ‘সেক্যুলার’, পরনে ধর্মের ছাপ খুব স্পষ্টই। সেক্যুলার হয়ে তাঁর দলীয় প্রচার কোথাও এই জায়গায় এসে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করে না কি? নওশাদের প্রতি অভিযোগ, অনেকে অবশ্য ষড়যন্ত্রও বলেছেন যে, এক মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে তাঁর উপর। এমনকী, সেই মহিলাই যে নওশাদের স্ত্রী– এহেন দাবিও করেছেন তিনি। নওশাদের সঙ্গে অবশ্য বারবারই নানা অনভিপ্রেত ঘটনার যোগ রয়েইছি। গত বছরের আগস্টে, কলকাতা পুলিশের কোনও অনুমতি ছাড়াই তিনি ধর্মতলায় ধর্নামঞ্চ খাড়া করেছিলেন। পুলিশের সঙ্গে প্রবল ধ্বস্তাধ্বস্তি হয়, নওশাদ আটকও হন! এসআইআর-ওয়াকফের বিরুদ্ধে তিনি আন্দোলন করছিলেন, তা বেশ করছিলেন, কিন্তু আন্দোলনেরও তো রাজনৈতিক ব্যাকরণ থাকে– তা কি তিনি অনভিজ্ঞ বলে জানেন না? নাকি তা স্বেচ্ছায়?

নওশাদ পরিপক্ব হন। আরও গভীরে গিয়ে বুঝুন, কাকে ‘সেক্যুলার’ বলে। তা কেবলমাত্র বামপন্থীদের কাছ থেকে শিখে নিতে হবে, বা তৃণমূলের কাছ থেকে, তা নয়। এ দেশের সংবিধান, এ দেশের ইতিহাসই সেই পাঠ দেবে তাঁকে। আমরা তো দিনের শেষে এমন এক স্কিপারই চাই, যা দেশের সংবিধানকে রক্ষা করবে। কিন্তু নওশাদ কি সেই বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছেন? অন্তত ছোট বৃত্তে?

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.