Advertisement
Advertisement
Arjun Singh

ভোটের স্কিপার: বিজেপির অর্জুন লক্ষ্যভেদে পারদর্শী নন

অর্জুন সিং একজন সীমানাহীন বিজ্ঞ রাজনৈতিক। তিনি ভারতের যে কোনও সমস্যায় স্যাটাস্যাট বাংলাদেশের ইস্যু টেনে আনতে পারেন। যেমন দিল্লিবাড়ির কর্তাব্যক্তিরা সাঁ করে যে কোনও সমস্যায় নেহরু পিরিয়ড ধরে টান মারেন।

Advertisement
নিরাপদ কর
নিরাপদ কর

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ১৮:৫৬

link
নিরাপদ কর
নিরাপদ কর

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ১৮:৫৬

options
link
ভোটের স্কিপার: বিজেপির অর্জুন লক্ষ্যভেদে পারদর্শী নন zoom
ক্যারিকেচার: স্যমন্তক চট্টোপাধ্যায়

সিং আছে, তবে সিংহ নন। সিংহনিনাদ আছে অবশ্য। যখন তখন হুঙ্কার, দরকারে ছত্রাকার। তিনি কার দলে, তা অবশ্য জনগণ ভুলেটুলে যায় প্রায়শই! দুরন্ত রাজনৈতিক পেন্ডুলাম। এলাম, দেখলাম, ভয় দেখালাম, অতঃপর কী, কে জানে। বর্তমানে ঘাস পদদলিত করে পদ্মফুল শুঁকে বেড়াচ্ছেন। মন বুঝি বলেছে– ফুল ফুটুক না ফুটুক, আজ বিজেপি। অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের প্রাচীন চাহিদার কথা লাটে তুলে দিয়ে এখন পণ্য-অস্ত্র-হিন্দুস্থান গড়ে তোলার এক প্রবল হুঁশিয়ারি চলছে ভারতজুড়ে। সেসবের হোতা বিজেপি ও তাঁদের মাথারা। বেসরকারি হলে পরিষেবা ভালো হবে– গোছের আধুনিক প্রবাদবাক্য তো তাঁদেরই হেড মারফত বেরিয়েছে। এহেন বিজেপির লক্ষ্যভেদ করতে অর্জুনকে (Arjun Singh) দরকার তো বটেই। কিন্তু এই বাংলায় খামোকা সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়িয়ে কী ছাই লাভ হল তাঁর কে জানে! সম্প্রীতির ব্লিচিং সম্ভবত পাড়ায় পাড়ায় ছড়িয়ে রেখেছে বাঙালির এতকালের ইতিহাস। ফলে অর্জুন যাই বলুন, যতই চিল্লেমিল্লে পাড়া-বেপাড়া মাত করুন, মাইকে-অমাইকে রেলাদার কথা বলুন না কেন, তার ফল আসলে ডুমুর। দেখাই যায় না।

গত ডিসেম্বরেই মাথায় রক্ত চেপে গিয়েছিল অর্জুন সিংয়ের। ‘জয় বাংলা’ শুনে! তিনি বলে বসলেন, ‘জয় বাংলা বলে বাংলাদেশে দীপু দাসকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। জয় বাংলা বলে বাংলায় চন্দন দাস ও হরগোবিন্দ দাসকে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে। এই জয় বাংলা জিহাদিদের স্লোগান, বাংলাদেশি রোহিঙ্গাদের স্লোগান।’ বোঝাই যায়, অর্জুন সিং একজন সীমানাহীন বিজ্ঞ রাজনৈতিক।

কী এমন করেছেন অর্জুন সিং (Arjun Singh)? যে এতক্ষণ ধরে বেজায় ‘ভোলোভালা’ মানুষটাকে চিমটি কাটছি? বলি তবে। বাংলাদেশের হিন্দু আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় তিনি এই বঙ্গের হিন্দুদের ঘরে ঘরে অস্ত্র রাখার ফন্দি দেন। কথা হল, বাংলাদেশে হিন্দুরা সংখ্যালঘু, তাঁদের ওপর নিপীড়ন হলে, সাধারণ মানুষ কথা বলবে, প্রতিবাদ করবে, সে তো স্বাভাবিক। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এই পোড়া দেশে কিন্তু হিন্দুরা সংখ্যাগুরু। সংখ্যালঘু নন। আর দেশজুড়ে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন ও বিজেপির সদস্যদের যদি তালিকা করতে বসি এখন তাহলে এ-লেখা প্রকাশের মুখ দেখবে না নির্বাচনের আগে। ফলে সে ব্যাপারে, নিজেকেই অব্যাহতি দিচ্ছি। হিন্দুধর্ম ‘খতরেমে হ্যায়’ বলে এখানে এত লম্ফঝম্প তাই নিষ্প্রয়োজন। এমনকী, বিজেপির আইটি সেল পর্যন্ত কতবার যে বাংলাদেশের হিন্দুদের নিপীড়নের ছবি নিয়ে বসিরহাট, মুর্শিদাবাদের নাম করে আগুন ধরিয়ে দিতে চেয়েছে হিন্দু বাঙালির মনে, তা আপনারা, এই কলামের পাঠকরা নিশ্চয়ই স্মরণ করতে পারবেন। অর্জুন সিং বিজেপিতে যোগদানের পর থেকেই সংখ্যালঘুদের প্রতি নানা হেয়ো বাক্য, ঘৃণা বাক্য ছড়াতে থাকেন। সে আর কী করা যাবে। তিনি তো জলের মতো সরল। যে পাত্রে দেবেন, সে পাত্রের আকার ধারণ করবেন। শুধু বারেবারে এই বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য তাঁর নামে থানায় অভিযোগ হবে, তাতেও বা অর্জুন সিংয়ের কী? তিনি নিশানায় না-লাগলেও অবিচল!

Advertisement

একবার তিনি বলে বসলেন, মসজিদ গড়লে অসুবিধে নেই, কিন্তু বাবরি মসজিদ নাম দিলেই ভেঙে দেবেন! কী জ্বালা! বাবরি কি মহাভারতের মাছের চোখ? নাম দেওয়ার ব্যাপারে, বাংলাভাষায় সর্বাধিক জনপ্রিয় সম্ভবত রবীন্দ্রনাথ। কত মানুষই যে কবিগুরুর কাছ থেকে একটা নাম চেয়ে নিয়ে যেতেন সন্তানসন্ততির জন্য। তার পরে, অবশ্য শঙ্খ ঘোষ। কিন্তু নাম বদলে দেওয়ার ব্যাপারে একজনই ভারতে নামডাক করেছেন, তিনি যোগী আদিত্যনাথ। গোপনসূত্রে কোনও দিন এমন খবরও আসতে পারে যে, খার খেয়ে অর্জুন সিং আদিত্যনাথকে চিঠি লিখেছেন, ‘শুনুন মশাই, ভারতের সমস্ত সেলুনে বাবরি ছাঁট চলে। সত্বর এই ছাঁটের নাম বাবরি থেকে বদলে কিছু একটা করে দিন!’

তৃণমূলের কর্মীদের মতে, অর্জুন সিং ‘খোয়াব’ দেখতে ভালোবাসেন। তিনি ভারী আশাবাদী, এবার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি আসছেই! সেজন্য, এমনকী, বিহারে বসবাসকারী বাঙালিদেরও তিনি ভোটের নেমন্তন্ন করেছেন। কিন্তু কী কাণ্ড– খাস এই পশ্চিমবঙ্গেই তো লাখো লাখো মানুষ এবার ভোটের অধিকার হারিয়েছেন, তাঁদের ভোট দেওয়ার ব্যাপারে কেন অর্জুন সিং স্পিকটি নট?

গত ডিসেম্বরেই মাথায় রক্ত চেপে গিয়েছিল অর্জুন সিংয়ের। ‘জয় বাংলা’ শুনে! পুরনো দলের স্লোগান শুনলে কেউ এমন করে। প্রাক্তন প্রেমিক/প্রেমিকা তো এক-আধদিন ফোন-মেসেজ করবেই! তাতে এমন খাপ্পা হওয়ার আছেটা কী! তিনি মাঝখান থেকে বলে বসলেন, ‘জয় বাংলা বলে বাংলাদেশে দীপু দাসকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। জয় বাংলা বলে বাংলায় চন্দন দাস ও হরগোবিন্দ দাসকে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে। এই জয় বাংলা জিহাদিদের স্লোগান, বাংলাদেশি রোহিঙ্গাদের স্লোগান।’ বোঝাই যায়, অর্জুন সিং একজন সীমানাহীন বিজ্ঞ রাজনৈতিক। তিনি ভারতের যে কোনও সমস্যায় স্যাটাস্যাট বাংলাদেশের ইস্যু টেনে আনতে পারেন। যেমন দিল্লিবাড়ির কর্তাব্যক্তিরা সাঁ করে যে কোনও সমস্যায় নেহরু পিরিয়ড ধরে টান মারেন।

তৃণমূল কর্মীদের মতে, অর্জুন সিং ‘খোয়াব’ দেখতে ভালোবাসেন। তিনি ভারী আশাবাদী, এবার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি আসছেই! সেজন্য, এমনকী, বিহারে বসবাসকারী বাঙালিদেরও তিনি ভোটের নেমন্তন্ন করেছেন। কিন্তু কী কাণ্ড– খাস এই পশ্চিমবঙ্গেই তো লাখো লাখো মানুষ এবার ভোটের অধিকার হারিয়েছেন, তাঁদের ভোট দেওয়ার ব্যাপারে কেন অর্জুন সিং (Arjun Singh) স্পিকটি নট?

যাক গে, স্কিপার তো সে-ই, যিনি আশা করেন। নোয়াপাড়ায় তিনি জিতুন, হারুন কিংবা বাজিগর হন– দেখা যাবে ৪ মে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.