তিনি স্রেফ নাগরিক নন, মহানাগরিক।
ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। কলকাতার মেয়র। কলকাতা বন্দর কেন্দ্রে এবার তিনি প্রার্থী। একবার নয়, মেয়রের কুর্সিতে পরপর আসীন হয়েছেন দু’বার। তৃণমূল কংগ্রেসের বহুকালের হন্তদন্ত সৈনিক। কলকাতার কাণ্ডজ্ঞান হারালে তিনিই সামলান। ঝড় থেকে লোডশেডিং, তেড়ে বৃষ্টি থেকে জলজমা– কলকাতাকে নানা কেলোর কীর্তি থেকে উদ্ধার করার ভার তাঁরই ওপরে। হ্যাঁ, সবসময় যে ফাইভ-জি গতিতে কর্মসিদ্ধি হয়েছে, তা নয়। পুজোর আগেই, গত বছর বৃষ্টির দাপটে জলমগ্ন ছিল কলকাতা। হাঁটু থেকে কোমর নানা উচ্চতায়– জলের সমধর্মিতা কলকাতায় খাটেনি। কন্ট্রোল রুমে উপস্থিত ছিলেন আমাদের ‘ববিদা’। উদ্বেগে ছিলেন সারারাত। সে ভিডিও-ছবি নিশ্চয়ই সংবাদমাধ্যমের কল্যাণে দেখেছেন।
আরও পড়ুন:
মজার ব্যাপার, ফিরহাদ হাকিমের নিজস্ব একখানা ইউটিউব চ্যানেল পর্যন্ত আছে! সেখানকার একটা কনটেন্ট দেখে নাগরিকেরা থ মেরে যাবেন! তা হল ‘মোস্ট গুগলড কোয়েশ্চেন’! সাধারণত বড়পর্দা-ছোটপর্দার নানা সেলেব্রিটি বিভিন্ন শো-তে এই কাণ্ড করে থাকেন। কিন্তু একজন রাজনীতিবিদ?
আরও পড়ুন:
সংবাদমাধ্যমেই দেখেছেন– বারবারই বিজেপির তীব্র ব্যক্তিগত আক্রমণের মুখে পড়েছেন তিনি। তার একটা বড় কারণ যতটা না তিনি ক্ষমতাসীন দলের, তার চেয়েও বড় কারণ ধর্মে মুসলমান। কলকাতাকে এখনও গিলে নিতে পারেনি এই দ্বেষ-সংস্কৃতি– একথা ফিরহাদ বারবারই বলেছেন। মাত্র ক’দিন আগে ভোটের বাজারেই খোলা তিনি অন-ক্যামেরা বলেছেন যে, বাংলার সংস্কৃতি মিলেমিশে থাকার। কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শ্রীরামকৃষ্ণর বাংলা এটা। ধর্মীয় উসকানি এই বাংলায় চলবে না। স্পষ্টই বোঝা যায়, কোনও দলের নামধাম না করলেও, কাদের গায়ে গিয়ে বিঁধবে একথা। মনে পড়ে, পার্লামেন্টে সজল ঘোষের সঙ্গে মাস তিনেক আগেই তেড়ে তক্কবিতক্ক। ফিরহাদ সেদিন বলছিলেন, কীভাবে ভারতের সংস্কৃতিকে নষ্ট করে দিয়েছে বিজেপি। দু’জনেই দু’জনের দিকে আঙুল তুলেছিলেন, গলার স্বরও উঠেছিল সপ্তমে। মুসলমানদের বিজেপি যে-চোখে দেখে, তার এরকম সাফ বক্তব্য হল: ‘মুসলমান মানেই পাকিস্তানের সমর্থক। ওটাই ওদের দেশ।’ ফিরহাদ জানেন, এই দেশ তাঁরও। ফিরহাদ জানেন, মুসলমান মানে পাকিস্তানের সমর্থক নয়। তিনি চেঁচিয়ে সেদিন বলেছিলেন সেকথা। চেঁচিয়ে বলেছেন, কারণ কিছু কথা চেঁচিয়ে না বললে বিপক্ষের হজম হয় না।
মজার ব্যাপার, ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) নিজস্ব একখানা ইউটিউব চ্যানেল পর্যন্ত আছে! সেখানকার একটা কনটেন্ট দেখে নাগরিকেরা থ মেরে যাবেন! তা হল ‘মোস্ট গুগলড কোয়েশ্চেন’! সাধারণত বড়পর্দা-ছোটপর্দার নানা সেলেব্রিটি বিভিন্ন শো-তে এই কাণ্ড করে থাকেন। কিন্তু একজন রাজনীতিবিদ? এ তো দুরন্ত কাণ্ড! ১০ খানা প্রশ্ন নিয়ে তিনি পুরোদস্তুর ঝকঝকে ভিডিও বানিয়ে ফেলেছেন। সাবস্ক্রাইবার, এই লেখা যখন চলছে, ৫ হাজারের সামান্য বেশি। কিন্তু তাতে কী, এই ভিডিওর ভিউ ১ লাখ ৩২ হাজার ছাড়িয়েছে! আগ্রহ থাকলে দেখতেই পারেন, প্রায় ১২২ খানা ভিডিও রয়েছে এই চ্যানেলে।
নির্বাচন কমিশনের ‘এসআইআর’-এর গোলমেলে সব ব্যাপারস্যাপার নিয়ে সরব হয়েছেন ফিরহাদ বারবারই। বাংলার মসনদ দখল করার জন্য নানা ফন্দিফিকির আঁটছে বিজেপি, তার মধ্যে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ একটা বড় ফাঁদ, মনে করেন তিনি। স্পষ্টতই, মানুষের এই হয়রানিতে তিনি বিরক্ত! কয়েকদিন আগেই, ভবানীপুরে প্রচারে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গ দিতে। বলেও এসেছেন, ‘বহু ভোটে শুভেন্দু হারবে! এটা মমতা ব্যানার্জি ঘাঁটি।’
দু’-একটা প্রশ্নে ঘাই মারি। যেমন, তাঁকে কেন ‘ববি’ বলা হয়? ফিরহাদ জানান, ববি তাঁর ডাকনাম। পাড়ার লোকজন তাঁকে এই নামেই চেনে। এখনও এই নামেই ডাকে। হ্যাঁ, তিনি এই তিলোত্তমার মেয়র বটে। কিন্তু তিনি যখন কাজকাম সেরে ফিরে আসেন, তিনি সেই চিরচেনা ‘ববি’– অত্যন্ত সাধারণ এক মানুষ। এতে মেয়রচরিত্র চেনা যায় বটে, কিন্তু তিনি হতবাক করে দিয়েছেন দ্বিতীয় প্রশ্নে এসে! কী সেই প্রশ্ন? ফিরহাদ হাকিমের হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার কী? তিনি সাফ বলে দিলেন, অনেকেই ওঁর হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার জানেন, তবু আবার বলে দিচ্ছি! এবং তিনি গড়গড়িয়ে, বিনা দ্বিধায়, নিজের হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার দিয়েও দিয়েছেন ইউটিউব স্ক্রিনে!
নির্বাচন কমিশনের ‘এসআইআর’-এর গোলমেলে সব ব্যাপারস্যাপার নিয়ে সরব হয়েছেন ফিরহাদ বারবারই। বাংলার মসনদ দখল করার জন্য নানা ফন্দিফিকির আঁটছে বিজেপি, তার মধ্যে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ একটা বড় ফাঁদ, মনে করেন তিনি। স্পষ্টতই, মানুষের এই হয়রানিতে তিনি বিরক্ত! কয়েকদিন আগেই, ভবানীপুরে প্রচারে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গ দিতে। বলেও এসেছেন, ‘বহু ভোটে শুভেন্দু হারবে! এটা মমতা ব্যানার্জি ঘাঁটি।’
ববি হাকিম বলুন, বা ফিরহাদ হাকিম, আমআদমির পাশে তিনি এক জলজ্যান্ত স্কিপার। হয়তো সংখ্যালঘু রাজনীতির কারণেই সাধারণ মানুষের আরও কাছের হয়ে গিয়েছেন কলকাতার মেয়র। না-ঘুম রাতের পর্যবেক্ষক এইবার কলকাতা বন্দরে কী করেন, তাই দেখার!
সর্বশেষ খবর
-
যেন তিনিই চ্যাম্পিয়ন! ট্রফি দিয়েও পোডিয়াম থেকে নামতে নারাজ ট্রাম্প! বিদ্রুপ গ্যালারিতে
-
‘ফুরায় এ জীবনের সব লেনদেন’! বিশ্বকাপ হাতছাড়া হতেই সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত স্কালোনির
-
হাসপাতালের গাফিলতিতে ‘চারপেয়ে সন্তানে’র মৃত্যু! পুলিশের দ্বারস্থ পরিবার
-
জুলাইয়ের অভিশাপ পিছু ছাড়ল না মেসিদের! চতুর্থবার ফাইনালে স্বপ্নভঙ্গ আর্জেন্টিনার
-
রাতজাগায় ইতি, বিশ্বকাপ শেষে উমার অপেক্ষায় বাঙালি
নিবেদিত


