Advertisement
Advertisement
Aditi Munshi

ভোটের স্কিপার: গানেও আছেন, স্লোগানেও

ফুল-বেলুন-পতাকায় সাজানো হুডখোলা জিপে চড়ে তাঁর প্রচারে মানুষের জমায়েতও দিব্য। মিডিয়ার সামনে এসে জানাতে কসুর করেননি, আরও একবার তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান এবং বিরোধীরা কী বলছে, তা তিনি কানেই তোলেন না। তাঁর ভক্তিরস যে গাঢ়, তার প্রমাণ নতুন করে দেওয়ার কিছু নেই।

Advertisement
নিরাপদ কর
নিরাপদ কর

শেষ আপডেট: মার্চ ৩০, ২০২৬, ১৫:৪৫

link
নিরাপদ কর
নিরাপদ কর

শেষ আপডেট: মার্চ ৩০, ২০২৬, ১৫:৪৫

options
link
ভোটের স্কিপার: গানেও আছেন, স্লোগানেও zoom
ক্যারিকেচার: স্যমন্তক চট্টোপাধ্যায়

ভক্ত যখন ভক্তিগীতি গাইয়েকে পছন্দ করেন না, জানবেন সে গায়িকা অদিতি মুন্সী (Aditi Munshi)। গান জব্বর, কিন্তু কী আর করা, পার্টি তো এক নয়। তাঁর গানে যে মুনশিয়ানা আছে, সারেগামাপা-র মঞ্চে প্রথমবার তা আবিষ্কার করেছিলেন বাংলা লোকগানের চিরস্থায়ী শিল্পী, অকালপ্রয়াত কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য। ভক্তিরসের গান তিনি এখনও গান অবশ্য, আপাদমস্তক তৃণমূল কংগ্রেসের একজন সফল জননেত্রী হয়েও। তৃণমূল কংগ্রেসের অনেকে যখন টিকিট পাননি বলে একনাগাড়ে কান্নাকাটি করছেন, এমনকী, তৃণমূল কংগ্রেস যেখানে এবার সচেতনভাবেই বাদ দিয়েছে বেশ কিছু জনপ্রিয় মুখকে, সেখানে অদিতি মুন্সী কিন্তু বাদ পড়েননি। এবার তিনি রাজারহাট-গোপালপুরের প্রার্থী। ফুল-বেলুন-পতাকায় সাজানো হুডখোলা জিপে চড়ে তাঁর প্রচারে মানুষের জমায়েতও দিব্য। মিডিয়ার সামনে এসে জানাতে কসুর করেননি, আরও একবার তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান এবং বিরোধীরা কী বলছে, তা তিনি কানেই তোলেন না। তাঁর ভক্তিরস যে গাঢ়, তার প্রমাণ নতুন করে দেওয়ার কিছু নেই।

প্রবল ফুল ভালোবাসেন। খুব সম্ভবত পয়লা এপ্রিল তারিখটিকেও। অনুষ্ঠানে, সম্বর্ধনায় ফুল দিলে বাড়তি খুশি হয়ে যান। যদিও ফুলে নয়, বাজিতে তাঁকে রাজি করানোর চেষ্টাচরিত্র করেছিলেন প্রেমিক। দীপাবলির দিন একঝুড়ি বাজি পাঠিয়েছিলেন বাড়িতে।

তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাস– একজন এমএলএ হিসেবে, তাঁর নিজস্ব এলাকা তো রইলই, কিন্তু এর বাইরেও, চারপাশ সুন্দর করে তুলতে হবে। তা সম্ভবত তাঁর শৈল্পিক সত্তার জন্যই। এমএলএ হিসেবে মনে করেন, তিনি একজন ‘সার্ভিস প্রোভাইডার’– মানুষ তাঁদের হয়ে কথা বলার দায়িত্ব দিয়েছে। এবং তিনি সৎভাবে তা করে চলার চেষ্টা করছেন। অদিতি মুন্সীর নিজস্ব অফিস রয়েছে। সবসময় তিনি যে উপস্থিত থেকে খুব কথা বলতে পারেন, তা তাঁর শিল্পী হিসেবে নানা ব্যস্ততার কারণেই হয়ে ওঠে না। কিন্তু অফিসে লোকজন থাকে। তাঁর হয়ে প্রক্সি দেয় নিশ্চয়ই।

Advertisement

আপাতত তিনি যতটা রাজনৈতিক, তার চেয়ে ঢের বেশি সফল সংগীতশিল্পী। ভজন-কীর্তনের বেশ কিছু অ্যালবাম রয়েছে তাঁর। রয়েছে গানের ইশকুল: সঙ্গীতম। কিন্তু রাজনৈতিক কেরিয়ারও নেহাত ফেলনা নয়। বিশেষ করে প্রথমবারই বিজেপির হেভিওয়েট শমীক ভট্টাচার্য ও সিপিআইএম-এর শুভজিৎ দাশগুপ্তকে হারিয়ে রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্রে জয়লাভ করেছিলেন তিনি।

প্রবল ফুল ভালোবাসেন। খুব সম্ভবত পয়লা এপ্রিল তারিখটিকেও। অনুষ্ঠানে, সম্বর্ধনায় ফুল দিলে বাড়তি খুশি হয়ে যান। যদিও ফুলে নয়, বাজিতে তাঁকে রাজি করানোর চেষ্টাচরিত্র করেছিলেন প্রেমিক। দীপাবলির দিন একঝুড়ি বাজি পাঠিয়েছিলেন বাড়িতে। তবে, শেষমেশ নিজের ছবিতেই তিনি ঘায়েল হয়েছিলেন। ঘুম থেকে উঠে গুরুদেবের ছবির পাশে নিজের মস্ত একটা ছবি দেখেন, যেখানে লেখা ‘শ্রদ্ধাঞ্জলি’! নিজে আস্ত আছেন তো? এ চিন্তা যদিও কামড়েছিল তাঁর মাথায়! অবশেষে তিনি সেই অনুরাগীকে বিয়ে করেন বটে, যদিও সাক্ষাৎকারে বিয়ের দুটো কারণ দেখিয়েছেন– এক, স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীকে একেবারেই পলিটিশিয়ান-পলিটিশিয়ান গোছের দেখতে না। দুই, শ্বশুরবাড়ি বাড়ির কাছেই।

আপাতত তিনি যতটা রাজনৈতিক, তার চেয়ে ঢের বেশি সফল সংগীতশিল্পী। ভজন-কীর্তনের বেশ কিছু অ্যালবাম রয়েছে তাঁর। রয়েছে গানের ইশকুল: সঙ্গীতম। কিন্তু রাজনৈতিক কেরিয়ারও নেহাত ফেলনা নয়। বিশেষ করে প্রথমবারই বিজেপির হেভিওয়েট শমীক ভট্টাচার্য ও সিপিআইএম-এর শুভজিৎ দাশগুপ্তকে হারিয়ে রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্রে জয়লাভ করেছিলেন তিনি। ভক্তিগান তাঁর ভক্তদের স্মৃতিতে অটুট থাকবে বটে, কিন্তু ভক্তদের বিরুদ্ধে এবার এই স্কিপার কতটা প্রস্তুত? গানে গানে, না স্লোগানে স্লোগানে, দেখাই যাক!

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.