‘হরলিক্স’ বললে বাঙালির মোটা কাচের চশমার থেকেও, চেটে চেটে খাওয়ার কথা মনে পড়ে যাঁর দৌলতে, তিনি সোহম চক্রবর্তী (Soham Chakraborty)। অভিনয় জীবন শুরু করেছিলেন শিশুশিল্পী হিসেবে, ‘ছোট বৌ’ সিনেমায়। সেই ১৯৮৮ সালে, বাংলা সিনেমায় এমন বিজ্ঞাপনী ঝলক বিশেষ দেখা যেত না। সিনেমার মধ্যেই এমন বিজ্ঞাপন গুঁজে দেওয়া ব্যাপারখানা অভিনব বটে। সেই চিরায়ত ‘হরলিক্স বয়’, পরে সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে ‘শাখাপ্রশাখা’র সময় অভিনয়ও করেছেন। সেই শুটিংয়ের ভিডিও মাঝে মাঝেই ‘ভাইরাল’ হতে দেখা যায়। যাক সে কথা, সোহম পরবর্তীকালে নামধাম করেছেন ‘হিরো’ হয়ে। বেশ কিছু বছর হল, সাধাসিধে গোবেচারা প্রেমিকের গড়ন বদলে একেবারে মাসলম্যান দাবাং হয়ে উঠেছেন। সঙ্গে জুড়েছে রাজনৈতিক স্কিপারের আদল।
তৃণমূলের ধুরন্ধর সৈনিক হিসেবে তৃণমূল-প্রাক্তনী শুভেন্দু অধিকারীকে ক্রমাগত বাক্যবাণে বিদ্ধ করেছিলেন। বিজেপিতে অধিকারীবাবুর যোগদানের পর তাঁর বক্তব্য ছিল: ‘বলতে খুবই খারাপ লাগছে, কিছু ভুঁইফোড় মানুষ রয়েছেন। তাঁরা এতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিক হয়ে ছিলেন। এখন ছয় বছর ধরে কী করেছেন, সেটা আপনারা সবাই জানেন। দলটাকে নষ্ট করেছে। এরা হচ্ছে উইপোকা।’
আরও পড়ুন:
অভিনেতাদের রাজনীতিতে দাঁড়ানো নিয়ে– তাদের বিপক্ষ চিরকালই কটূক্তি করে এসেছে। তার প্রাথমিক কারণ, বিপক্ষ সেই অভিনেতাকে কবজা করতে পারেনি। ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে, তাবড় তাবড় অভিনেতা বারেবারেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়েছেন। কাজও করেছেন। রাজনৈতিক কেরিয়ারেও তাঁরা অনেকেই সফল। তবে, বিরোধীদের সমালোচনার যে-জায়গাটা কিছুটা হলেও জলপানি পাবে, তা হল তাঁদের নিজেদের প্রার্থী-এলাকায় বিশেষ দেখা যায় না। এ ব্যাপারে, সংবাদ প্রতিদিন ডট ইন-এরই এক সাক্ষাৎকারে সোহম জানিয়েছেন, ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার-অ্যাডভোকেড-প্রফেসররা এই প্রশ্নের সম্মুখীন হন না কেন!
একযুগ আগে, ২০১৪ সালে তিনি যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসে। ২০২১ সালের ভোটে চণ্ডীপুর থেকে ১৪,০০০ ভোটে জিতেছিলেন। এ বছর অবশ্য চণ্ডীপুরের স্কিপার নন, তিনি প্রার্থী এবার করিমপুরের। নতুন জায়গায় গিয়েও তিনি কনফিডেন্ট। ‘ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে’র অবস্থা নয় তাঁর। তিনি বাকযুদ্ধে যথেষ্টই পারদর্শী। তৃণমূলের ধুরন্ধর সৈনিক হিসেবে তৃণমূল-প্রাক্তনী শুভেন্দু অধিকারীকে ক্রমাগত বাক্যবাণে বিদ্ধ করেছিলেন। বিজেপিতে অধিকারীবাবুর যোগদানের পর তাঁর বক্তব্য ছিল: ‘বলতে খুবই খারাপ লাগছে, কিছু ভুঁইফোড় মানুষ রয়েছেন। তাঁরা এতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিক হয়ে ছিলেন। এখন ছয় বছর ধরে কী করেছেন, সেটা আপনারা সবাই জানেন। দলটাকে নষ্ট করেছে। এরা হচ্ছে উইপোকা। আপনার ঘরে যদি ঢুকে যায়, তবে ঘরকে ফোঁপরা করে দেবে। এরা যত তাড়াতাড়ি বেরিয়ে যায়, ততই মঙ্গল। ভুঁইফোড় একজন বেরিয়ে গিয়েছেন। বাকিরা বেরিয়ে গেলে ভাল হয়।’ এহেন বক্তব্যে অবশ্য শুভেন্দু অধিকারীর চাইতে, তৃণমূলে থেকে যাঁরা জল মাপছেন, চিন্তায় তাঁদের দুই ভুরুর গিঁট পাকিয়ে যাওয়ার সম্ভবনাই ছিল বেশি। তবে শুধুই শুভেন্দু নন, কেন্দ্রীয় সরকারের যথেষ্ট ভুজুংয়ের বিরুদ্ধে বারবারই সওয়াল করেছেন তিনি। যেমন চিনা অ্যাপ যখন ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ব্যান করা হয়েছিল, তিনি জানতে চেয়েছিলেন, এর ফলে কী এমন উপকার হল, শহিদদের কি প্রাণ ফিরবে এতে?
শুটিং করতে গিয়ে, এই তারকা বিধায়ক রেস্তরাঁ কর্মীদের কিল, চড়, ঘুসি– হালকা প্রেম-রোম্যান্টিক-অ্যাকশন ছবিতে যেমন দেখায়, সবেরই প্রয়োগ করেছিলেন। সেই ভিডিও চড়চড়িয়ে ‘ভাইরাল’ হতে না হতেই নেটনাগরিক বেজায় খাপ্পা হয়ে উঠেছিলেন তাঁর প্রতি। প্রশ্ন উঠেছিল, কেন একজন জনপ্রতিনিধি এই ব্যবহার করবেন? সোহম ২৪ ঘণ্টা নিয়েছিলেন ভুল স্বীকার করতে। যদিও জানিয়েছিলেন, তাঁর মাথা গরম করে এহেন কাজ করার নেপথ্যে ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি কটূক্তি!
তবে এহেন বাকচাতুর্যের ফুলঝুরিতে তিনি সবসময়ই যে যুক্তির ফোয়ারা ছিটিয়েছেন, তা নয়। যেমন বীরভূমে তিনি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার দেখার সাধ করেছিলেন! না, না, পাঠক, ভুল বুঝবেন না। ‘রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার’ বলতে তিনি ইঙ্গিত করেছিলেন অনুব্রত মণ্ডলকে। তখন বীরভূমের কেষ্টদা সংশোধনাগারে দিন কাটাচ্ছিলেন। স্রেফ কি বাক্যস্ফূর্তি? নায়কের চোটপাট একবার রেস্তরাঁর সিসিটিভিতে ধরা পড়ল। শুটিং করতে গিয়ে, এই তারকা বিধায়ক রেস্তরাঁ কর্মীদের কিল, চড়, ঘুসি– হালকা প্রেম-রোম্যান্টিক-অ্যাকশন ছবিতে যেমন দেখায়, সবেরই প্রয়োগ করেছিলেন। সেই ভিডিও চড়চড়িয়ে ‘ভাইরাল’ হতে না হতেই নেটনাগরিক বেজায় খাপ্পা হয়ে উঠেছিলেন তাঁর প্রতি। প্রশ্ন উঠেছিল, কেন একজন জনপ্রতিনিধি এই ব্যবহার করবেন? এবং স্বাভাবিকভাবেই বিরোধীদের পক্ষ থেকেও তীর এসে লেগেছিল তাঁর গায়ে! তৃণমূলের একজন জবরদস্ত নেতা যদি এমন কাণ্ড করতে পারেন, তবে পাড়ার লাট্টু-বিট্টুরা কোন পর্যায়ে যেতে পারে, সে আশঙ্কা ঘনিয়ে উঠেছিল কারও কারও মনে।
সোহম ২৪ ঘণ্টা নিয়েছিলেন ভুল স্বীকার করতে। যদিও জানিয়েছিলেন, তাঁর মাথা গরম করে এহেন কাজ করার নেপথ্যে ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি কটূক্তি! তবে যাই হোক, একজন সত্যিকারের স্কিপারের মাথাগরম করে অন্যের ওপর হস্তসঞ্চালন ভালো কথা নয়। বিশেষ করে, হরলিক্সের পুষ্টি যাঁর সঙ্গে রয়েছে সেই কচিবেলা থেকেই!
সর্বশেষ খবর
-
নতুন তৃণমূল আত্মপ্রকাশের পরদিনই সন্দীপনের বাড়িতে বিক্ষোভ, কাটমানি-তোলাবাজিতে সরব বিজেপি
-
আরজিকর কাণ্ড এবার বড়পর্দায়, পরিচালনায় শঙ্কুদেব পণ্ডা, ‘অভিশপ্ত’ আগস্টেই শুরু শুটিং
-
বিশ্বজয়ের ৩ মাসের মধ্যে অধিনায়কত্ব যাচ্ছে সূর্যকুমারের, নেতৃত্বের দৌড়ে আপাতত ৩
-
দিল্লির পর বিহার, বিধ্বংসী আগুন হাসপাতালে, ঝলসে মৃত অন্তত ৪
-
কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা প্রত্যাহার হুমায়ুনের, অধীর, নওশাদের উদাহরণ তুলে আদালতে যাচ্ছেন এজেইউপি নেতা
নিবেদিত


