Advertisement
Advertisement
Hiran Chatterjee

ভোটের স্কিপার: বাংলায় বলুন বা হিন্দিতে, শুনছেটা কে!

ভোটের ঘাটাল সিনেম্যাটিক। তবে সে বছর লক্ষাধিক ভোটে দেবের জয়ের পর বিজেপি কর্মীদের ওপর চড়াও হওয়ার ঘটনায় হিরণ মানবিক হয়ে বলেছিলেন, ‘হেরে যাওয়া যদি অপরাধ হয়, আমাকে জেলে ঢোকান’। দুঃখের ব্যাপার, তাঁর সংশোধানাগার নয়, সংশোধনের প্রয়োজন। অভিনয়ের ব্যাপারে হোক, বা রাজনীতিতে। এ বছর প্রথম যে প্রার্থীতালিকা প্রকাশ করেছিল বিজেপি, তাতে হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের ‘হি’ টুকুও ছিল না। অবশ্য গতবারেও ছিল না। শেষবেলায় তাঁকে টেনেটুনে আনা হয় প্রতিবারই। এবারও ব্যত্যয় হয়নি।

Advertisement
নিরাপদ কর
নিরাপদ কর

শেষ আপডেট: মার্চ ২৪, ২০২৬, ১৭:৩৪

link
নিরাপদ কর
নিরাপদ কর

শেষ আপডেট: মার্চ ২৪, ২০২৬, ১৭:৩৪

options
link
ভোটের স্কিপার: বাংলায় বলুন বা হিন্দিতে, শুনছেটা কে! zoom
ক্যারিকেচার: স্যমন্তক চট্টোপাধ্যায়

হিরণ চট্টোপাধ্যায়। ‘নবাব নন্দিনী’ (২০০৭) দিয়ে শুরু। নায়িকা হিসেবে পেয়েছিলেন কোয়েল মল্লিককে। কিন্তু এইসব তথ্য, সম্ভবত তিনি ও গুগল ছাড়া কেউ-ই মনে রাখেনি তেমন। বাংলার সিনেমার পাশে দাঁড়াতে চাইলেও তিনি তাঁর ‘অভিনয়দক্ষতা’র কারণেই দাঁড়াতে পারবেন না। ভদ্রসভ্য, কিন্তু যে কেরিয়ারে তিনি পা রেখেছেন, সাফল্যের সিঁড়ি দু’ধাপ পরেই ভেঙেচুরে গিয়েছে।

কেশপুরে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ হওয়ায় তিনি বলেছিলেন কেশপুরকে পাকিস্তান করে রেখেছে বর্তমান সরকার। যখন সংবাদমাধ্যমে এই বাইট দিচ্ছেন, হিরণের কপালে লাল তিলক। বলেওছিলেন ৪ তারিখ জেতার পরে, উত্তর আমি দেব! সেই ৪ তারিখে, ভোটের রেজাল্ট বেরনোর পর তাঁর উত্তর তো শোনা যায়নি বটেই, তিনি বোধহয় উত্তরদিকের ধারকাছেও ঘেঁষেননি।

জন্মেছেন উলুবেড়িয়ায়। ২০২৪ সালের ভোটে যদিও দাঁড়ান ঘাটাল থেকে। পাঠকদের নির্ঘাত স্মরণে থাকবে– তাঁর ও দেবের বক্তিমের লড়াই। ফলাফল যা হওয়ার, তাই হয়েছিল। দেব জিতেছিলেন, হিরণ ফ্লপ খেয়েছিলেন। ভোটের ঘাটাল সিনেম্যাটিক। তবে সে বছর লক্ষাধিক ভোটে দেবের জয়ের পর বিজেপি কর্মীদের ওপর চড়াও হওয়ার ঘটনায় হিরণ মানবিক হয়ে বলেছিলেন, ‘হেরে যাওয়া যদি অপরাধ হয়, আমাকে জেলে ঢোকান’। দুঃখের ব্যাপার, তাঁর সংশোধানাগার নয়, সংশোধনের প্রয়োজন। অভিনয়ের ব্যাপারে হোক, বা রাজনীতিতে। এ বছর প্রথম যে প্রার্থীতালিকা প্রকাশ করেছিল বিজেপি, তাতে হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের ‘হি’ টুকুও ছিল না। অবশ্য গতবারেও ছিল না। শেষবেলায় তাঁকে টেনেটুনে আনা হয় প্রতিবারই। এবারও ব্যত্যয় হয়নি। কিন্তু কেন, কী এমন স্ট্র্যাটেজি এর নেপথ্যে এবং স্ট্র্যাটেজির ফলাফলই বা ছাই কী– রামই জানেন!

Advertisement

কেশপুরে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ হওয়ায় তিনি বলেছিলেন কেশপুরকে পাকিস্তান করে রেখেছে বর্তমান সরকার। যখন সংবাদমাধ্যমে এই বাইট দিচ্ছেন, হিরণের কপালে লাল তিলক। বলেওছিলেন ৪ তারিখ জেতার পরে, উত্তর আমি দেব! সেই ৪ তারিখে, ভোটের রেজাল্ট বেরনোর পর তাঁর উত্তর তো শোনা যায়নি বটেই, তিনি বোধহয় উত্তরদিকের ধারকাছেও ঘেঁষেননি। বিজেপির আদতে যে ধরন, সংখ্যালঘুর ভিড় থাকলেই পাকিস্তানের ভূত দেখে তারা, হিরণও তাই দেখলেন। এ ব্যাপারে তাঁকে দলনিষ্ঠ বলা যায়। কিন্তু সফল বলা চলে না। এমনকী, ‘লুঙ্গি সোজা করে পরাব দুষ্কৃতিদের’– এহেন বিদ্বেষী কথা বলার পরও তিনি তেমন ‘হাইলাইট’ হননি।

এই বছর তিনি দ্বিতীয়বার বিয়ে সেরেছেন। খাস বেনারসে গিয়ে। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে আইনি জটিলতা নিয়ে নানা ঝুটঝামেলা সয়েছেন বছরের শুরুতেই। মিডিয়ায় সে কারণে বেশ খানিক ফুটেজ পেয়েছেন। একবার তো, ভাষা হারিয়ে ফেলায়, সঙ্গের ভদ্রলোক ‘বাংলাতেই বলো না’ বলেছিলেন। সে-ও সোশ্যাল মিডিয়ায় কম ‘ভাইরাল’ হয়নি। বঙ্গের খাস বাঙালি মানুষজন সমস্ত বিজেপি কর্মীকেই সম্ভবত এ কথাই বলতে চান– বাংলায় বলো।

খড়গপুরে ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে ভরে গিয়েছিল ডক্টর হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের পোস্টার। কিন্তু কী কাণ্ড! লোকসভা নির্বাচনে মনোনয়ন পেশের সময় হলফনামা দিতে গিয়েও হিরণ তাঁর ডক্টরেট ডিগ্রির কথা উল্লেখ করেছিলেন। আইআইটি খড়গপুর থেকে তিনি ডক্টরেট ডিগ্রি করেছেন বলে সাফ উল্লেখ ছিল তাতে। কিন্তু পরবর্তীকালে আইআইটি খড়গপুর থেকে জানানো হয়, এখানকার গবেষক/কর্মী– হিরণ চট্টোপাধ্যায় কিছুই নন! সে খবর সংবাদমাধ্যমে হুলিয়ে ছড়িয়ে পড়তেই, খড়গপুরের নানা পোস্টারে সাদা চুন দিয়ে ডক্টর উপাধি মুছে ফেলার ব্যবস্থা করতে হয়!

এই বছর তিনি দ্বিতীয়বার বিয়ে সেরেছেন। খাস বেনারসে গিয়ে। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে আইনি জটিলতা নিয়ে নানা ঝুটঝামেলা সয়েছেন বছরের শুরুতেই। মিডিয়ায় সে কারণে বেশ খানিক ফুটেজ পেয়েছেন। একবার তো, ভাষা হারিয়ে ফেলায়, সঙ্গের ভদ্রলোক ‘বাংলাতেই বলো না’ বলেছিলেন। সে-ও সোশ্যাল মিডিয়ায় কম ‘ভাইরাল’ হয়নি। বঙ্গের খাস বাঙালি মানুষজন সমস্ত বিজেপি কর্মীকেই সম্ভবত এ কথাই বলতে চান– বাংলায় বলো। ভোটের বাজারে প্রচারবিমুখ হলে চলে না। প্রার্থী হয়ে প্রচার করতে গিয়ে জনকল্যাণে সাবান-শ্যাম্পু মাখিয়েছিলেন এক আমআদমিকে। কিন্তু কে না জানে, নেতাদের কাজ স্নান করানো না। তবুও করালেন যখন বগলে পাউডার, কাঠের চিরুনি দিয়ে টেরি কেটেও দিতে পারতেন। কাজের প্রতি একশো শতাংশ সৎ না থাকলে, এই হয়!

একবার তো, ভাষা হারিয়ে ফেলায়, সঙ্গের ভদ্রলোক ‘বাংলাতেই বলো না’ বলেছিলেন। সে-ও সোশ্যাল মিডিয়ায় কম ‘ভাইরাল’ হয়নি। বঙ্গের খাস বাঙালি মানুষজন সমস্ত বিজেপি কর্মীকেই সম্ভবত এ কথাই বলতে চান– বাংলায় বলো। ভোটের বাজারে প্রচারবিমুখ হলে চলে না। প্রার্থী হয়ে প্রচার করতে গিয়ে জনকল্যাণে সাবান-শ্যাম্পু মাখিয়েছিলেন এক আমআদমিকে।

যা হোক, শেষবেলায় টিকিট পেয়েছেন শ্যামপুর থেকে। রণে থাকুন হিরণ, কিন্তু তিনি মানুষের সঙ্গ পাবেন কি? দেখা যাক, স্কিপার হিসেবে মানুষের কতটা আশ্বাস এইবেলা তিনি আদায় করতে পেরেছেন! ভোটের হাওয়া জমে উঠেছে, তাই না?

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.