Advertisement
Advertisement
Debangshu Bhattacharya

ভোটের স্কিপার: রাজ্যই তাঁর কাছে ফ্যামিলি, কিন্তু এভাবে ‘ফ্যামিলি ম্যান’ হওয়া সম্ভব?

‘পরিবার’ মানে একরকম কিছু নয়। কোনও পরিবার বিস্তর ঝুটঝামেলার মধ্যে থাকে, দাদা-ভাইয়ের মধ্যে মিলমিশ নেই, বর-বউয়ের মধ্যে ব্যাপক ঝামেলা; কখনওসখনও হাতাহাতিও– ফলে পশ্চিমবঙ্গ একটি পরিবার– বললে কোন পরিবারকে ইঙ্গিত করছেন?

Advertisement
নিরাপদ কর
নিরাপদ কর

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ১৯:১৪

link
নিরাপদ কর
নিরাপদ কর

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ১৯:১৪

options
link
ভোটের স্কিপার: রাজ্যই তাঁর কাছে ফ্যামিলি, কিন্তু এভাবে ‘ফ্যামিলি ম্যান’ হওয়া সম্ভব? zoom
ক্যারিকেচার: স্যমন্তক চট্টোপাধ্যায়

বয়স কম, ভয়েস বেশি। তৃণমূল কংগ্রেসের তরুণতম ছড়াকার। না হে, ‘কবি’ নয়। অনেকে ভাবেন বটে কবি, হয়তো তিনি নিজেও ‘কবি’ হিসেবে আত্মগরিমা বোধ করেন। বাংলা ফেবুকবিতার ঘরানায় তিনি অবশ্য রাঘব-বোয়াল। কিংবা ভোটের বাজারে, দু’-লাইনের অন্তমিলওয়ালা রোগা পদ্য, অবশ্যই ছন্দের মারাত্মক ভুল-সহ। কী বা করবেন তিনি! সারাদিনরাত নির্ঘাত কেটে যায় পার্টিজানদের সঙ্গে। তুমুল তক্কোবিতক্কও তো করতে হয় নানা সংবাদমাধ্যমে, ডিজিটাল মিডিয়ায়। তবে ‘ছড়াকার’ বলছি বলে, হে পাঠক, মনে করবেন না ছড়াকার সাহিত্যের ময়দানে ‘খাটো’। রবীন্দ্রনাথ, অন্নদাশংকর, ভবানীপ্রসাদ মজুমদার থেকে আজকের মৃদুল দাশগুপ্ত– দুরন্ত সব ছড়ার রচয়িতা। যাগ্গে, ক্রিয়েটিভিটির কথা পরে, অন্য কোথাও হবে। এই বেলা প্রার্থী দেবাংশুকে (Debangshu Bhattacharya) নিয়ে কয়েক চক্কর কাটা যাক।

যে-কারণে তিনি নজর কাড়েন বরাবরই– তা তাঁর জ্বালাময়ী বক্তৃতা! দলের ভুলটুল এমন বোরোলীনবাক্যে ঢেকে দেন যে, ভুলের অস্তিত্বই টের পাওয়া যায় না। ক’দিন আগেই এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘বাংলাকে আমরা পাড়া মনে করি না। ফ্যামিলি মনে করি। সেই ফ্যামিলির সামনে মনে করি কোনও কথা শেয়ার করতে কোনও অসুবিধে নেই।’

তৃণমূল যুব সংগঠনের দু’বারের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। বর্তমানে তৃণমূলের রাজ্য সোশাল মিডিয়া ও আইটি সেলের ইনচার্জ। প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ানোর ইতিহাস যদিও মধুর নয়। গতবার প্রার্থী ছিলেন তমলুকের। প্রচারেও কোনও ফাঁকি ছিল না। তবু কে জানে, এই তরুণের প্রতি আমজনতার ততখানি প্রীতি ছিল না যে, বিপক্ষের অভিজিৎ ভট্টাচার্যর বদলে তাঁকে জেতাবেন। ফলে যতই খারাপ কবিতা লিখুন না কেন, জীবনের পরীক্ষায় তিনি নিয়ত বড় কবির মাফিক ব্যথা পেয়ে আসছেন। এইবার অবশ্য তিনি চুঁচুড়ার প্রার্থী। যে-কারণে তিনি নজর কাড়েন বরাবরই– তা তাঁর জ্বালাময়ী বক্তৃতা! দলের ভুলটুল এমন বোরোলীনবাক্যে ঢেকে দেন যে, ভুলের অস্তিত্বই টের পাওয়া যায় না। ক’দিন আগেই এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘বাংলাকে আমরা পাড়া মনে করি না। ফ্যামিলি মনে করি। সেই ফ্যামিলির সামনে মনে করি কোনও কথা শেয়ার করতে কোনও অসুবিধে নেই।’ বুঝতেই পারছেন, কোনও গন্ডগোল, দুর্নীতি– এই সব তো যেকোনও রাজনৈতিক দলেরই লুকানো মুকুট– তা সকলের ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে আসে না। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষেত্রে তা যখন প্রকাশ্যে আসে, দেবাংশু সোৎসাহে তা স্বীকার করে বলেন ফ্যামিলির কাছে ভুলস্বীকার করব না তো কার কাছে করব!

Advertisement

‘ফ্যামিলি’, খাস বাংলায় যাকে ‘পরিবার’ বলে, গোটা পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত মানুষকে যোগ-টোগ করে সেই পরিবারের অন্তর্গত বলা– রাজনৈতিক দলের বয়ানে ব্যাপারটা মোটেই ভালো না। কারণ ‘পরিবার’ এমন বিস্তর ঘাঁটা একটা কনসেপ্ট যে, তার কোনও সাধারণীকরণ হয় না। কোনও পরিবার বিস্তর ঝুটঝামেলার মধ্যে থাকে, দাদা-ভাইয়ের মধ্যে মিলমিশ নেই, বর-বউয়ের মধ্যে ব্যাপক ঝামেলা; কখনওসখনও হাতাহাতিও– ফলে পরিবার বলতে কোন পরিবারকে তিনি ইঙ্গিত করছেন? তা কি মায়াভরা রূপকথাময় কোনও কোমলমতি পরিবার? রাজনৈতিক বিচারে হয়তো বিষয়টাকে দায়িত্বশীল পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারলেই ভালো হত। এবং বস্তুত তাই-ই হয়। নইলে এত সরকারি অফিসের দরকার ছিল না। এত নথি, কাগজপত্তরেরও। পরিবারের মধ্যে এত নিয়মনবিশি থাকে না নিশ্চিতভাবেই। যা-ইচ্ছে করার একটা বেপরোয়ানা থাকে। দেবাংশু ভট্টাচার্যর দল, তৃণমূল কংগ্রেস, ভাগ্যিস পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে এই পারিবারিক ব্র্যাকেটে ফেলে দুয়োরানি করে রাখে না।

বয়সে কম, ভয়েসে বেশি বলেই বোধহয় বিরোধী পক্ষ বারবার তাঁকে ‘বেড়ে পাকা’ কিংবা ‘ডেঁপো ছোকরা’ বলে কুৎসা করেছে। কিন্তু মনে রাখতে হয়, তৃণমূলের তরুণতম কেউ, দলের জন্য নাকমুখ বুজে সহ্য করছে তা। সে পার্টি ছেড়ে পালায়নি। ভোটে হেরে রাজনীতি ছেড়ে দেয়নি।

তিনি রাজনৈতিক ইনফ্লুয়েন্সার। ফেসবুকে গড়গড় করে লেখেন-বলেন। নানা বিষয়ে তীক্ষ্ণ নজর আছে। নানা সংবাদমাধ্যমের তক্কবিতক্কর চণ্ডীমণ্ডপে তিনি বিপক্ষকে স্রেফ বলার জোরেই থাবড়ে দিয়েছেন, দেখা গিয়েছে। আবার কখনও বিপক্ষের বাক্যে বিপাকে পড়ে, যুক্তির গুঁড়োমশলা গলায় ঢুকে বেজায় কেশেছেন মনে মনে। কখনও মুচকি হেসেওছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মনে করেন তৃণমূলের রক্ত– কোনওভাবে রিপ্লেসেবল নয়। মনে করেন শুভেন্দু অধিকারীর আজকের যত বোলবোলাও সবই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দৌলতে।

বয়সে কম, ভয়েসে বেশি বলেই বোধহয় বিরোধী পক্ষ বারবার তাঁকে ‘বেড়ে পাকা’ কিংবা ‘ডেঁপো ছোকরা’ বলে কুৎসা করেছে। কিন্তু মনে রাখতে হয়, তৃণমূলের তরুণতম কেউ, দলের জন্য নাকমুখ বুজে সহ্য করছে তা। সে পার্টি ছেড়ে পালায়নি। ভোটে হেরে রাজনীতি ছেড়ে দেয়নি। সে তরুণ, অভিজ্ঞতার জরুরি জারণে পরবর্তীকালে কতটা স্কিপার হয়ে উঠবে, দেখা যাক!

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.