Advertisement
Advertisement
Rekha Patra

ভোটের স্কিপার: প্রচারে দারুণ ব্যাটিং, রেখা হাল ছাড়ার পাত্র নন!

রেখা পাত্র, যদি তাঁর সুবুদ্ধি হয়েও থাকে, তিনি এমন এক দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন, যে দলের বুদ্ধিবৃত্তির সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ নেই। রেখা পাত্রকে, কেউ প্রশ্ন করেননি, কেন বিজেপির যে প্রার্থীতালিকা প্রকাশিত হয়েছিল, তাতে ভাষা হিসেবে শুধুই হিন্দি আর ইংরেজি ব্যবহার করা হল?

Advertisement
নিরাপদ কর
নিরাপদ কর

শেষ আপডেট: মার্চ ৩০, ২০২৬, ১২:৫৩

link
নিরাপদ কর
নিরাপদ কর

শেষ আপডেট: মার্চ ৩০, ২০২৬, ১২:৫৩

options
link
ভোটের স্কিপার: প্রচারে দারুণ ব্যাটিং, রেখা হাল ছাড়ার পাত্র নন! zoom
ক্যারিকেচার: স্যমন্তক চট্টোপাধ্যায়

সুন্দরবনের একচিলতে গ্রাম। সন্দেশখালি। কোনওকালেই তেমন নামধাম করেনি, যতক্ষণ না রেখা পাত্র সেখান থেকে গর্জে উঠেছিলেন! স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতা শেখ সাজাহান ও দুই শাগরেদের উপর তুলেছিলেন ভয়াবহ অভিযোগ। মিডিয়া তোলপাড় হয়েছিল সেসময়। শেষমেশ সন্দেশখালি আন্দোলনের মুখ হয়ে ওঠেননি তিনি। যদিও পরবর্তীকালে অভিযোগ মিথ্যে-টিথ্যে প্রমাণিত হয়েছে। সূত্র বলছে, সেসবই নাকি বিজেপির চক্রান্ত ছিল। যাক গে এইসব তালবাদ্য, ভোটের কথায় আসি। গতবার বসিরহাট থেকে বিজেপির হয়ে রেখা স্কিপার ছিলেন বটে, কিন্তু তেমন সুবিধে করতে পারলেন কই! হেরে গিয়েছেন বেশ খানিক মার্জিনে।

হিঙ্গলগঞ্জের প্রচারে গিয়ে রেখা কী বলেছেন, তা শুনলে আম-বিজেপি প্রার্থীর থেকে তাঁকে খানিক আলাদা মনে হতে বাধ্য। তিনি বলেছেন, ‘হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান– যে-ই হোক, আমরা বাঙালি। আমরা মানুষ, মানুষ সবথেকে আগে।’ কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই রেখা পাত্রকে, কেউ প্রশ্ন করেননি, কেন বিজেপির যে প্রার্থীতালিকা প্রকাশিত হয়েছিল, তাতে ভাষা হিসেবে শুধুই হিন্দি আর ইংরেজি ব্যবহার করা হল?

এবার তিনি হিঙ্গলগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী। প্রচারে গিয়ে ক্রিকেট খেলেছেন সংখ্যালঘুদের সঙ্গে। এই ডাহা নিরামিষ ঘটনাটাকেও প্রচার করতে হচ্ছে তাঁদের ঢাক পিটিয়ে। কারণ পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘকালের সেকুলার হয়ে থাকার রেওয়াজটি বিজেপি এইবেলা আত্মস্থ করতে চাইছে! আরও একবার অবশ্য প্রমাণিত হল, ক্রিকেট এখনও এদেশের শ্রেষ্ঠ ধর্ম– যার কাছে সমস্ত উগ্র জাতীয়তাবাদ ডাহা ফেল! যদিও বিজেপির মূল কান্ডারিরা রেখা পাত্রর এই সেকুলার মনোভাবে কতটা ঔদার্য দেখাবেন কে জানে। এমনও হতে পারে, এ শুধুই ভোটের আগে বিজেপি প্রার্থীদের কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটি ছাড়া আর কিছুই না। হিঙ্গলগঞ্জের প্রচারে গিয়ে রেখা কী বলেছেন, তা শুনলে আম-বিজেপি প্রার্থীর থেকে তাঁকে খানিক আলাদা মনে হতে বাধ্য। তিনি বলেছেন: ‘হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান– যেই হোক, আমরা বাঙালি। আমরা মানুষ, মানুষ সবথেকে আগে।’ কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই রেখা পাত্রকে, কেউ প্রশ্ন করেননি, কেন বিজেপির যে প্রার্থীতালিকা প্রকাশিত হয়েছিল, তাতে ভাষা হিসেবে শুধুই হিন্দি আর ইংরেজি ব্যবহার করা হল? প্রশ্ন করা হয়নি, কেন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বেছে বেছে এসআইআর-এ মুসলিম ভোটারদের বাদ পড়ার হার এত বেশি?

Advertisement

কলকাতায় বাংলা বললে যে আধুনিক আক্রমণ সইতে হয় রাস্তাঘাটে, প্রতি-আক্রমণেও যায় একযোগে বাঙালিরা, সে তো বিজেপি কিংবা বিজেপি-মননের জন্যই। 

ফলে, রেখা পাত্র, যদি তাঁর সুবুদ্ধি হয়েও থাকে, তিনি এমন এক দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন, যে দলের বুদ্ধিবৃত্তির সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ নেই। বাঙালির ভাষা-অস্মিতা নতুন করে জেগে উঠেছে কেন্দ্রীয় দলের ভাষা আক্রমণের পর। কিছু বছর আগে ‘এক দেশ, এক ভাষা’র প্রচার করলেও দেশের নানা রাজ্যে, আঞ্চলিক ভাষাগুলির তরফে একযোগে প্রতিরোধ করা হয়েছিল তা। বাঙালির কাছে বাংলা ভাষা ও আবেগের হাতে-গোনা কয়েকটা দিন ছিল– পয়লা বৈশাখ, পঁচিশে বৈশাখের মতো কিছু। কিন্তু সেসব পেরিয়ে বিজেপির সৌজন্যে মাঝে মাঝেই বাংলা ভাষা নিয়ে তর্ক-টর্ক ওঠে। এমনকী, কলকাতায় বাংলা বললে যে আধুনিক আক্রমণ সইতে হয় রাস্তাঘাটে, প্রতি-আক্রমণেও যায় একযোগে বাঙালিরা, সে তো বিজেপি কিংবা বিজেপি-মননের জন্যই।

মাননীয় রেখা পাত্র যতই সমন্বয়সাধনের কথা বলুন, যে রাজনৈতিক দলের হয়ে তিনি প্রতিনিধিত্ব করছেন, তাদের কি বিশ্বাস করবে বাংলার মানুষ? দেখা যাক। আপাতত, ক্রিকেট খেলুন।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.