সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: রাজতন্ত্র থেকে মোল্লাতন্ত্র। আফগানভূমে পটপরিবর্তন কম কিছু হয়নি। সম্রাট মহম্মদ জাহির শাহর আমলে গোলাপি স্কার্ট পরা আফগান সুন্দরি থেকে তালিবান জমানায় বোরখা পরিহিত নারীদের সন্ত্রস্ত চোখ বন্দি হয়েছে বহু চিত্র সাংবাদিকের ক্যামেরায়। বিবর্তনের পথে আফগানিস্তানের পিছু হঠায় বারবার বকধার্মিক বর্বরদের হাতে লাঞ্ছিত হতে হয়েছে মহিলাদের। তবে তালিবানের হাত থেকে শাসনের রাশ চলে যাওয়ায় পরিস্থিতি এবার কিছুটা পালটেছে।
[আরও পড়ুন: CPEC নিয়ে মনোমালিন্য! পাকিস্তান সফর বাতিল করলেন চিনা প্রেসিডেন্ট]
সম্প্রতি আফগানিস্তানে মহিলাদের অধিকার রক্ষার পথে বড় পদক্ষেও করেছে সরকার। এবার আফগানিস্থানের জাতীয় পরিচয়পত্রে বাবার নামের সঙ্গে থাকবে মায়ের নামও। আফগান জাতীয় সংসদের অধিবেশেনে আনা হচ্ছে আইন সংশোধানী বিল। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা কোনও বাধা ছাড়াই এই বিল আইনে পরিণত হয়ে যাবে। এর ফলে এবার নিজের পরিচয়টুকু অন্তত দেওয়ার সুযোগ পাবেন সে দেশের মহিলারা। এই আন্দোলনটা শুরু করেছিলেন হেরাট বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক লালে ওসমানি। তিনিই শুরু করেন #Whereismyname আন্দোলন। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই আন্দোলনের সুফল মিলতে চলেছে এবার। ২০১৮ সালে ছেলের সঙ্গে ভারতে এসেছিলেন আফগান শিক্ষাবিদ খুজিস্তা তামান্না। দিল্লি বিমানবন্দরে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, যে ছেলেটি তাঁর সঙ্গে রয়েছে সে তারই ছেলে কিনা। কারণ মা হিসেবে ওই ছেলেটির নথিতে কোনও জায়গায় খুজিস্তার নাম নেই। এরকমই বহু আফগান মহিলাকে একাধিক বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে।
মুসলিম প্রধান আফগানিস্তানে মহিলাদের উপর একাধিক বিধিনিষেধ রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি হল–ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে পারেন না আফগান মহিলারা। কোনও পুরুষ সঙ্গী ছাড়া বাড়ির বাইরে যাওয়ার অনুমতি নেই তাদের। উচ্চশিক্ষা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত আফগান মহিলারা। পর পুরুষের সঙ্গে কথা বললেও শরিয়ত আইন মেনে প্রকাশ্যে চাবুক মারার নিদান রয়েছে। পরকীয়ায় (শুধুমাত্র অভিযোগের ভিত্তিতে) মহিলাদের প্রাপ্য মৃত্যুদণ্ড। এই সমস্ত অলিখিত বর্বর আইনে বদল ঘটানোর সদিচ্ছা কাবুলের কোনও সরকারই দেখায়নি। কিন্তু বরাবর এমন ছিল না কাবুলিওয়ালাদের দেশ। নিজের আমলে, বলা ভাল ১৯৫০ সাল থেকে দেশটিতে রীতিমতো পাশ্চাত্যের আধুনিক পরিকাঠামো ও মানসিকতা গড়ে তুলছিলেন সম্রাট মোহমদ জাহির শাহ। কিন্তু দুর্ভাগ্য ১৯৭৩ সালে তুতো ভাইদের ষড়যন্ত্রে গদি ছাড়তে হয় তাঁকে। তারপর সোভিয়েত হানা থেকে তালিবান শাসন সবটাই ইতিহাস।
আশাবাদীরা মনে করেন, দৈব বাদ সাধলেও পরিস্থিতি একদিন পালটাবে। নির্যাতন ও বঞ্চনার দীর্ঘ অধ্যায় শেষে নিজেদের অধিকার ফিরে পাবেন আফগান মহিলারা। সময়ের সঙ্গে একদিন লড়াই ও অরাজকতার শেষে শান্তি ফিরবে দেশটিতে। বাদাম, আখরুট ও কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের বিশালবপু কাবুলিওয়ালা রহমত খানের দেশে ফের একবার হেঁসে উঠবে ছোট্ট মিনি।
[আরও পড়ুন: ঝিলাম নদীতে চিনের বাঁধ তৈরির বিরুদ্ধে প্রবল বিক্ষোভ, উত্তাল পাক অধিকৃত কাশ্মীর]
সর্বশেষ খবর
-
শৈশবের ট্রমা সহজে কাটে না! প্রভাব পড়তে পারে প্রেমের সম্পর্কেও, বোঝা যায় এই লক্ষ্মণেই
-
সপ্তাহে ২ দিন হাওড়ার মঙ্গলাহাটে হকারদের বসার অনুমতি, শর্ত বেঁধে দিল প্রশাসন
-
এবার রাডারে অভিষেকের ডায়মন্ড হারবার এফসি, ‘টাকা আসত কোথা থেকে?’, প্রশ্ন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথের
-
উন্নত রাডারেও অদৃশ্য! চিন-পাকিস্তানের চিন্তা বাড়িয়ে ভারতকে সু-৫৭-এর প্রস্তাব পুতিনের
-
কল্যাণীতেই হবে বিমানবন্দর, জোরালো বার্তা শান্তনুর, ওয়াটার মেট্রো নিয়ে কী বার্তা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর?