৭ শ্রাবণ  ১৪২৬  মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০১৯ 

Menu Logo বিলেতে বিশ্বযুদ্ধ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ‘গায়ের জ্যাকেট আছে?’, বিমানসেবিকার এই প্রশ্নের উত্তরে মহিলা যাত্রীর উত্তর ছিল, ‘না’৷ আর তাতেই বিমানযাত্রায় বাধা৷ ছেলেকে নিয়ে সে যাত্রা জামাইকা থেকে মায়ামি ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল মার্কিন মহিলা তিশা রোইর কাছে৷ তবে বিমানটি ছাড়তে চাননি তিনি৷ অনেকটা অপমান সহ্য করেও, সেই বিমানে বাড়ি ফেরেন তিনি৷   

[আরও পড়ুন: ভিডিও গেমে দুর্ঘটনা এড়ালেন পাইলট, সত্যি ভেবে প্রশংসা পাক মন্ত্রীর]

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনের বাসিন্দা তিশা রোই পেশায় একজন চিকিৎসক৷ ছেলেকে নিয়ে জামাইকা বেড়াতে গিয়েছিলেন৷ সপ্তাহখানেক সেখানে কাটিয়ে স্বদেশে ফিরবেন৷ আমেরিকান এয়ারলাইন্সের টিকিট কেটেছিলেন৷ তাঁর কথায়, ‘ফেরার দিন বিমানবন্দরে ঢোকামাত্র আমার হঠাৎ খুব গরম লাগতে শুরু করে৷ ঘামতে থাকি৷ শৌচালয়ে গিয়ে চোখেমুখে জল দিই, পোশাকটাও পালটে নিই৷’ এই পোশাক পালটানোর পরই পরিস্থিতি পালটে যায়৷ তিশার পরনে ছিল ফুলছাপ অফ শোল্ডার একটি লং পোশাক৷ সেটি পরেই ছেলের হাত ধরে তিনি বিমানে উঠতে যান৷ অভিযোগ, তাঁকে আটকে দেন বিমানসেবিকা৷

তিশার অভিযোগ, বিমানসেবিকা তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনার সঙ্গে জ্যাকেট আছে?’ তিনি জানান, নেই৷ এরপর ওই যুবতী তাঁকে জানান, এমন খোলামেলা পোশাক পরে তিনি বিমানে উঠতে পারবেন না৷ তিশা তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, পোশাকটি মোটেই অশালীন নয়৷ তাঁকে এবং ছেলেকে বিমানে উঠতে দেওয়ার অনুরোধ করেন৷ প্রতিবারই ওই যুবতী প্রত্যাখ্যান করেন৷ তা দেখে তিশার ছেলেও তাঁকে নিয়ম মানার কথা বলে৷ এনিয়ে বেশ কিছুক্ষণ বিমানসেবিকার সঙ্গে বাদানুবাদের পর তিশা প্রায় মরিয়া হয়েই জানান যে বিমানটি ছেড়ে দিলে, তাঁর বাড়ি ফিরতে খুব সমস্যা হবে৷ প্রায় জোর করেই বিমানে উঠে নিজেদের আসনে বসে পড়েন তিশা এবং ছেলে৷

তিশার কথায়, ‘নিজের আসনে বসে আমার ৮ বছরের ছেলে মুখে রুমাল চাপা দিয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছিল৷ ওর মনে হচ্ছিল যে ওর মা নিয়মবিরুদ্ধ কোনও কাজ করেছে৷ কিন্তু আমি ওকে বোঝাতে পারিনি যে কোনও অন্যায় আমি করিনি৷ বাকি সময়টা আমার এত খারাপ কেটেছে…’৷

[আরও পড়ুন:গোলিয়াধ-বধ করা নায়ক ডেভিডের গ্রাম কোথায়? বাইবেলের পাতা পেরিয়ে বাস্তবে মিলল উত্তর]

আমেরিকান এয়ারলাইন্সের বিমানসেবিকা তিশার পোশাকআশাক নিয়ে এসব বললে কী হবে, কর্তৃপক্ষ কিন্তু এসব জানার পর রীতিমতো অনুতপ্ত৷ সংস্থার মুখপাত্র গিলসন বিবৃতি দিয়ে বলেন, ‘আমরা ডক্টর রোইর কাছে ক্ষমাপ্রার্থী৷ আমাদের কাজ,যাত্রীদের পরিষেবা দেওয়া৷ কারও পরিচয়, পোশাক, পেশা-এসব দেখে পরিষেবা দিই না৷ ওনাকে এভাবে অপদস্থ করার মাশুল হিসেবে বিমানের ভাড়াটা ফেরত দিয়ে দেব৷’ আমেরিকান এয়ারলাইন্সের এই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়ে গিয়েছে তুমুল সমালোচনা৷

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং