BREAKING NEWS

২০ শ্রাবণ  ১৪২৭  বুধবার ৫ আগস্ট ২০২০ 

Advertisement

বিপদের মুখে ত্রাতা ‘ঠাকুমা’, নিজের জামা খুলে বাঁচালেন দগ্ধ কোয়ালার প্রাণ

Published by: Sucheta Sengupta |    Posted: November 22, 2019 5:58 pm|    Updated: November 22, 2019 5:58 pm

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: অগ্নিশিখা এমন বিধ্বংসী, পুড়িয়ে ছারখার করে দেওয়ার শক্তি রাখে – তা কি বুঝেছিল ওরা? নাকি বুঝেও নিজেদের আগুনের গ্রাস থেকে পালাতে পারেনি? অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসে দাবানলে পুড়তে থাকা বিস্তীর্ণ বনাঞ্চলের বাসিন্দা কোয়ালাদের অবস্থা দেখে এমনই প্রশ্ন জাগছে। গায়ে একটু আঁচ লাগতেই পড়িমরি করে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেছে ছোট্ট একটি কোয়ালা। ততক্ষণে হাত, পা, লেজ, বুকের অনেক অংশ পুড়ে গিয়েছে। দগ্ধ শরীর নিয়েই প্রাণের ভয়ে ছুটেছে সে।
আর এমনই বিপদের সময়ে ত্রাতা হিসেবে তার সামনে উপস্থিত হয়েছেন টোরি ডোহের্তি। জঙ্গলে গিয়ে দগ্ধ কোয়ালাকে ওভাবে ছুটতে দেখে টোরি নিজের জ্যাকেট খুলে অতি যত্নে তাকে ওর মধ্যে মুড়ে তিনি নিয়ে এসেছেন নিজের বাড়িতে। নাম রেখেছেন – লুইস। টোরির এই উদ্ধারকাজের খবর ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে নেটদুনিয়ায়। টোরিকে সকলে ‘ধন্য ধন্য’ করছেন। তবে তাতে সাত নাতির ঠাকুমা টোরির মন কিন্তু ভাল নেই। তিনি চিন্তিত লুইসের ভবিষ্যৎ নিয়ে।

[আরও পড়ুন : ধর্মীয় বিদ্বেষের প্রকাশ! মুসলিম অন্তঃসত্ত্বার পেটে লাথি মেরে জেলবন্দি যুবক]

কোয়ালাকে উদ্ধারের অভিজ্ঞতা নিজের মুখেই শোনালেন তিনি। টোরি বলছেন, ‘ওকে যখন দেখলাম, তখন ও সবে আগুনের শিখার নাগাল থেকে বেরিয়েছে, রাস্তা দিয়ে দৌড়নোর সময়ে অসহায়ভাবে এদিক-ওদিক তাকাচ্ছে। আমি বুঝতে পারলাম যে ওর শরীর একটা আশ্রয় চাইছে। নিজের শার্ট খুলে আমি ওর গায়ে জড়িয়ে দিলাম। তারপর বুঝলাম, ওর শরীর খুব গরম হয়ে আছে, আর ও কাঁপছে।’ এই পরিস্থিতিতে কোয়ালাটিকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে ভরতি করা হয়। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে খুব আশার কথা শোনাননি। লুইসের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ৫০-৫০। হাতের পাতা, পায়ের পাতা পুড়ে গিয়েছে। দগ্ধ পেট, বুক, নাক-সহ একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। তাকে বাঁচিয়ে তোলার চেষ্টা চলছে। আপাতত টোরির ধ্যানজ্ঞান হয়ে উঠেছে ওই কোয়ালাটি। লুইসকে তার অষ্টম নাতি বলে উল্লেখ করেছেন ঠাকুমা টোরি।

[আরও পড়ুন : মঙ্গলে রয়েছে প্রাণের অস্তিত্ব, দাবি মার্কিন গবেষকের়]

নিউ সাউথ ওয়েলসের বনাঞ্চলের আদি বাসিন্দা লুইসের মতো পোর্ট ম্যাকারি প্রজাতির কোয়ালা। ধীরে ধীরে তাদের সংখ্যা কমছে। তার উপর এই ভয়ংকর দাবানলের মুখে তারা আরও বিপন্ন। একইরকম বিপন্নতা জঙ্গলের অন্যান্য প্রাণীদেরও। পশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কুকুরদের নিয়ে উদ্ধারে নামলে, কাজের কাজ বেশি হবে। নিজেদের ঘ্রাণশক্তি দিয়ে তারাই নাকি খুঁজে দিচ্ছে জঙ্গলের পোড়া এলাকা। সেখান থেকে বিপন্ন কোয়ালাদেরও হদিস দিচ্ছে কুকুরের দল। সেই পরামর্শ মেনে উদ্ধারকারী দলও কুকুরদের সঙ্গী করেছে। এমন সংকটজনক পরিস্থিতিতে একমাত্র আশার আলো দেখাচ্ছে টোরি ডোহের্তিই। নিজের কোলে দগ্ধ কোয়ালাকে টেনে নিয়ে।

koala-rescued

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement