২ আশ্বিন  ১৪২৬  শুক্রবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 

BREAKING NEWS

Menu Logo পুজো ২০১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

২ আশ্বিন  ১৪২৬  শুক্রবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 

BREAKING NEWS

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মাসুদ আজহারকে বিশ্ব সন্ত্রাসবাদী ঘোষণা, বালাকোটে জঙ্গি দমনে সফল বিমান অভিযানের পর এবার দাউদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উঠে পড়ে লাগল ভারত সরকার। পাকিস্তানের মদতপুষ্ট দাউদ ইব্রাহিমের ডি-কোম্পানির সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রসংঘে সোচ্চার হল ভারত।

[আরও পড়ুন: রেলকে চাঙ্গা করতে তৎপর সরকার, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব রেলের বরাদ্দ বাড়াল কেন্দ্র]

রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি সৈয়দ আকবরউদ্দিন বলেছেন, “আমাদের এলাকায় (ভারতীয় উপমহাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ায়) সবচেয়ে বড় বিপদ হল পাকিস্তানের মদতপুষ্ট দাউদ ইব্রাহিমের ডি-কোম্পানি। তিনি বলেন, ডি-কোম্পানি, লস্কর-ই-তইবা, জইশ-ই-মহম্মদ গোটা ভারতীয় উপমহাদেশে সন্ত্রাস ছড়াচ্ছে। মানুষ পাচার, মাদক পাচারের মাধ্যমে এরা বিপুল অর্থ সংগ্রহ করছে। একটা আন্ডারওয়ার্ল্ড অপরাধীদের সিন্ডিকেট থেকে সন্ত্রাসবাদীদের বিশাল নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে ডি-কোম্পানি। আমরা রাষ্ট্রসংঘের সব সদস্য দেশের কাছে আবেদন জানাচ্ছি দাউদ ইব্রাহিমকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী হিসাবে ঘোষণা করা হোক এবং ডি কোম্পানির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হোক। সবটাই করা হোক রাষ্ট্রসংঘের ১২৬৭ নম্বর কমিটির সুপারিশ মেনে।

আকবরউদ্দিন জোরাল সওয়াল করে বলেন, দাউদের কাজকর্ম নিয়ে এফবিআই, ইন্টারপোল সব জানে। কিন্তু বিশ্বজুড়ে এদের কাজকর্ম নিয়ে অনেক দেশের সরকারই অন্ধকারে। তবে ভারতীয় উপমহাদেশে সব দেশের সরকারই জানে দাউদ ও ডি-কোম্পানি কী করে। সোনা পাচার, মাদক পাচার, মানুষ পাচার, জাল টাকা পাচার, মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অবৈধ কারবার, তোলাবাজি-সহ বিভিন্ন ব্যবসার আড়ালে বেআইনি কারবার করাটাই এদের প্রধান কাজ। প্রতিবেশী দেশের নিরাপদ আশ্রয় থেকে এই কারবার দাউদ চালায়। একইসঙ্গে ভারতে সন্ত্রাসও রপ্তানি করে। সন্ত্রাস ছড়িয়ে দিতে নিজের ডি-কোম্পানির সিন্ডিকেটকেই ব্যবহার করে দাউদ।

আকবরউদ্দিন বলেন, যদি নিরাপত্তা পরিষদ এবং রাষ্ট্রসংঘ যৌথভাবে ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে এবং ইসলামিক স্টেটকে শায়েস্তা করতে পারে তাহলে ডি-কোম্পানির বিরুদ্ধেও নিতে পারবে। শুধু দরকার যৌথ উদ্যোগ। এক্ষেত্রে ১২৬৭ নম্বর কমিটির সাহায্য নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়াটা জরুরি। এছাড়া এফবিআই দাউদের যে ৬টি আস্তানার কথা জানিয়েছে তা রাষ্ট্রসংঘে ভারতের দেওয়া তালিকার নামের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। ওই তালিকার দাউদের ৬টি গোপন আস্তানার উল্লেখ রয়েছে। উল্লেখ্য, ১২৬৭ নম্বর কমিটির সুপারিশ মেনেই জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান ও পুলওয়ামা কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে চরম ব্যবস্থা নিয়েছে রাষ্ট্রসংঘ। মাসুদকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী হিসাবে ঘোষণা করার ক্ষেত্রে বড় সাফল্য পায় ভারত। আর্থিক ও রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করে ফেলা হয় মাসুদ ও জইশকে। পাকিস্তানেও মাসুদের গতিবিধি অতি নিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক চাপে পড়ে মাসুদ ও হাফিজ সইদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ করতে বাধ্য হয় পাকিস্তান।

কূটনৈতিক মহলের মতে, আকবরউদ্দিন মাসুদের প্রসঙ্গ না তুলে বার বার ১২৬৭ নম্বর কমিটির প্রসঙ্গ তুলেছেন এবং ইঙ্গিতে বলেছেন, মাসুদের মতোই দাউদের বিরুদ্ধেও একই ব্যবস্থা নিতে। শুধু তাই নয়, রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, খুব অঙ্ক কষেই মোদি-অমিত শাহ জুটি দাউদের প্রসঙ্গ রাষ্ট্রসংঘে উত্থাপন করেছে। কারণ ট্রাম্পের সঙ্গে ইমরান খানের বৈঠক আসন্ন। ইমরান মার্কিন মুলুকে রওনা হবেন। তার আগে দাউদ ইব্রাহিম ও দাউদের উপর পাকিস্তানের মদত নিয়ে রাষ্ট্রসংঘে হইচই শুরু করে দিল ভারত। এটাই মোদি সরকারের কৌশল। ফলে দাউদ, হাফিজ সইদ নিয়ে প্রচার করবে আমেরিকার সংবাদমাধ্যমও। এতে ইমরান আমেরিকার মাটিতেই অস্বস্তিতে পড়বেন। তাছাড়া ২১ জুলাই অবধারিতভাবে ইমরানের সঙ্গে বৈঠকে উঠবে সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গ। ট্রাম্প তখনই ইমরানকে আরও বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ করতে বলবেন। ইমরানের উপর চাপ দেবেন। ভারতের হয়ে তুলতে পারেন দাউদ এবং হাফিজের নামও। সেক্ষেত্রে বেশ চাপে পড়ে যাবেন ইমরান। কারণ ট্রাম্প এও হয়তো জানাতে পারেন যে, দাউদ ও হাফিজকে ভারতের হাতে তুলে না দিলে ভারত বলেছে পাকিস্তানের সঙ্গে আর দ্বিপাক্ষিক আলোচনাতেই বসবে না। তাই আকবরউদ্দিন ইচ্ছে করেই দাউদ ও ডি-কোম্পানি নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন।

তাছাড়া ফাইনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (এফএটিএফ) -এর বিশাল চাপ রয়েছে পাকিস্তানের উপর। তারা পাকিস্তানকে যে কোনও সময় কালো তালিকাভুক্ত করতে পারে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়েই দাউদ প্রসঙ্গ তুলে পাকিস্তানের উপর চাপ বাড়াল ভারত।

[আরও পড়ুন: নিজেকে নয়, আমেঠিতে হারের জন্য স্থানীয় নেতাদেরই দূষলেন রাহুল গান্ধী]

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং