৯ আশ্বিন  ১৪২৭  শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

বর্ণবিদ্বেষী টুইটে বিবাদে জড়ালেন ট্রাম্প, সমালোচনার ঝড় মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে

Published by: Sandipta Bhanja |    Posted: July 16, 2019 10:48 am|    Updated: July 16, 2019 10:48 am

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আসলে করতে গিয়েছিলেন উদারপন্থী ডেমোক্র‌্যাটদের সমালোচনা। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য করে ফাঁপরে পড়লেন তিনি। তিনি কটাক্ষ করে টুইট করেছিলেন, “যে দেশ থেকে এসেছ, সেখানেই ফিরে যাও।” ব্যস, আর যায় কোথায়! রে রে করে উঠেছে নানা মহল। একজোট হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে তুলোধোনা করেছেন ডেমোক্র‌্যাটরা। ট্রাম্প ভুলে গিয়েছিলেন, জনপ্রতিনিধিরা সকলেই মার্কিন নাগরিক। আমেরিকাতেই জন্মগ্রহণ করেছেন। সেকথা তাঁকে মনে করিয়ে দিয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিভাজন ও বর্ণবিদ্বেষে মদত দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ডেমোক্র‌্যাটরা। রিপাবলিকান পার্টির অনেক সমর্থকও ট্রাম্পের মত সমর্থন করেননি। কিন্তু ক্ষমা চাইতে নারাজ ট্রাম্প। উলটে সোমবার ফের টুইটারে মন্তব্য করেন, “বিপ্লবী, বামপন্থী ডেমোক্র‌্যাট কংগ্রেস সদস্যাদের আমাদের দেশের কাছে, ইজরায়েলের কাছে এমনকী, প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। ওঁরা বাজে ভাষা ব্যবহার করেছেন। বহু মানুষ ওঁদের অভব্য ও ভয়ংকর আচরণে ক্রুদ্ধ।“

[আরও পড়ুন: এনক্লোজার ভেঙে চিড়িয়াখানার পর্যটকদের মাঝে শিম্পাঞ্জি, তারপর…]

ঘটনার সূত্রপাত রবিবার সকালে। মার্কিন কংগ্রেসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির সমালোচনা করেছিলেন ডেমোক্র্যাট পার্টির চার কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা জনপ্রতিনিধি। তাঁদের মধ্যে হঠাৎ নাক গলিয়ে ট্রাম্প উপদেশ দেন, ‘চার ‘প্রগতিশীল’ ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্যা এমন দেশ থেকে এসেছেন, যেখানকার সরকার সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। তারা জঘন্য, সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত ও বিশ্বের যে কোনও সরকারের চেয়ে অপদার্থ। সত্যি বলতে কী, ওই সব দেশে আদৌ সরকার আছে কি না, তা নিয়েই সন্দেহ জাগে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল, সেই সব দেশ থেকে চার মহিলা এসে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্রকে উপদেশ দিচ্ছেন, সরকার কীভাবে চালানো উচিত। তোমরা যে দেশ থেকে এসেছ, সেখানেই ফিরে যাচ্ছ না কেন। গিয়ে সেখানকার সমস্যা মেটাও। তারপর ফিরে এসে আমাদের দেশ চালাতে শিখিও।’

ট্রাম্পের টুইটের পরেই তাঁর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হন ডেমোক্র্যাটরা। এমনকী, চার কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা যাঁর বিরুদ্ধে সমালোচনা করেছিলেন, সেই পেলোসিও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, প্রেসিডেন্ট বর্ণবিদ্বেষী। তিনি যে ‘নতুন আমেরিকা’ গড়তে চান, সেখানে শ্বেতাঙ্গ বাদে আর কারও জায়গা নেই। পেলোসি ট্রাম্পের নিন্দা করে বলেছেন, তিনি দেশের মানুষের মধ্যে বিভাজন আনতে চান। চার কৃষ্ণাঙ্গ কংগ্রেস সদস্য বলেছেন, তাঁরা ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন। তাঁদের অভিযোগ, ট্রাম্প শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদ প্রচার করছেন।

[আরও পড়ুন: টানা বৃষ্টিতে বিপর্যয়, বন্যা বিধ্বস্ত নেপালে ক্রমেই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা]

যে চার জনপ্রতিনিধি সম্পর্কে ট্রাম্প ওই মন্তব্য করেছেন, তাঁরা হলেন ম্যাসাচুসেটস থেকে নির্বাচিত আয়ানা প্রেসলি, মিশিগানের রশিদা তলাইব, নিউ ইয়র্কের আলেকসান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্তেজ এবং মিনেসোটার ইলহান ওমর। তাঁরা সকলেই ২০১৮ সালে নির্বাচিত হয়েছেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের চিফ অফ স্টাফ দাবি করেছিলেন, ট্রাম্পের লক্ষ্য ছিলেন ইলহান ওমর। কিন্তু সোমবার ট্রাম্প যে টুইট করেন, তাতে ‘কংগ্রেস উওমেন’ বলে মন্তব্য করেন। যা থেকে স্পষ্ট, ‘স্কোয়াড’ নামে পরিচিত ওই চারজনই তাঁর লক্ষ্য।

পেলোসি টুইটারে লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট যখন বলেন, মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন, তিনি বোঝাতে চান ‘মেক আমেরিকা হোয়াইট এগেন’। বৈচিত্র্যের মধ্যে রয়েছে আমাদের শক্তি। প্রেসলি লিখেছেন, ট্রাম্প বর্ণবিদ্বেষের রাজনীতি করেন। তিনি অভিবাসীদের প্রতি অমানবিক আচরণ করছেন। তাদের পরিবারগুলি ধ্বংস করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তাঁর মতো লোক যে আমাদের বিরুদ্ধে ওই ধরনের মন্তব্য করবেন, তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই। কংগ্রেসে ডেমোক্র‌্যাট দলের চেয়ারম্যান হাকিম জেফ্রিস এক কথায় দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন, ‘ফের বর্ণবিদ্বেষের থাবা। মুখ বন্ধ রাখুন।’

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement