পাক অধিকৃত কাশ্মীরে বিদ্রোহের আগুন আরও ভয়াবহ আকার নিল (PoK Protest)। এবার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে ভিড় জমালেন অধিকৃত কাশ্মীরের প্রায় ২৫ হাজার জনতা। একটাই দাবি, পাকিস্তান নয়, ভারতে সামিল হতে চান তাঁরা। অধিকৃত কাশ্মীরের মান্ধোল এলাকায় বিদ্রোহী জনতার এই ভিড় শাহবাজ সরকারের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। নিয়ন্ত্রণ রেখার কাঁটাতার তুলে নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে বিদ্রোহীদের তরফে। এমনকী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সংগ্রামের ডাক দেওয়া হয়েছে।
গত কয়েক মাস ধরে বিক্ষোভের আগুনে পুড়ছে অধিকৃত কাশ্মীর। জায়গায় জায়গায় বিক্ষোভ ও পাক সেনার সঙ্গে সংঘাতের পর সোমবার নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে মান্ধোল এলাকায় বিরাট সমাবেশ করে জম্মু ও কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)। এই সংগঠনের নেতা সর্দার আমান খান বলেন, পাকিস্তান সরকার অধিকৃত কাশ্মীরের সমস্ত সরবরাহ বন্ধ করেছে। যার জেরে খাবার বা ওষুধের মতো সামগ্রী মিলছে না। গুরুতর এই পরিস্থিতিতে দাবি তোলা হয়েছে, পাকিস্তান সরকারকে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য পুঞ্চ ও মেন্ধার সড়ক খুলে দিতে হবে। অন্যথায় আন্দোলন আরও ভয়াবহ আকার নেবে বলে বার্তা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
নিয়ন্ত্রণরেখার কাঁটাতার তুলে নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে বিদ্রোহীদের তরফে। এমনকী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সংগ্রামের ডাক দেওয়া হয়েছে।
এদিকে অধিকৃত কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্বেগ বেড়েছে শাহবাজ সরকারের। পাক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর গাড়ি দেখলেও পাথর ছুড়ছে সেখানকার জনতা। আইএসআই কাউকে গ্রেপ্তার করলে তাদের নিয়ে যাওয়ার জন্য বিশেষ জিপ ব্যবহার করা হয়। লাগাতার হামলার মুখে এই জিপ ব্যবহার করতে এখন ভয় পাচ্ছেন আইএসআই এজেন্টরা। শোনা যাচ্ছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে গোপনে সেনা পাঠাচ্ছেন সেনাপ্রধান আসিম মুনির। যদিও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পাক অধিকৃত কাশ্মীরে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সেনা মোতায়েন করতে পারে না।
Day 110 in Mandhole. Twenty-five thousand people standing with Sardar Aman Khan while Pakistan starves a village seven kilometres from the LoC. 1/ @Anna1546439 pic.twitter.com/B4ih8FRJ2S
— Afet Kaya (@AfetKaya16) September 28, 2026
উল্লেখ্য, অস্বাভাবিক হারে কর বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি তো ছিলই, তার উপর পাক সরকারের দমনপীড়নে অতিষ্ঠ পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জনতা। পাক সরকারের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ নিয়ে টানা প্রতিবাদ মিছিল করছে জম্মু ও কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি। প্রতিবাদ রুখতে বিভিন্ন জায়গায় পাক রেঞ্জার্স ও পুলিশবাহিনী মোতায়েন করেছে সরকার। লস্কর-সহ একাধিক জঙ্গি সংগঠনকে ব্যবহার করা হচ্ছে বিক্ষোভ থামাতে। চলছে নৃশংস অত্যাচার, গুম খুন। এরই প্রতিবাদে আন্দোলন তীব্র করার হুঁশিয়ারির পাশাপাশি এবার ভারতের সাহায্য চাইল অধিকৃত কাশ্মীরের জনতা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
আপাতত রানওয়ের ধারে নমাজে ‘না’, ৭ অক্টোবর হাই কোর্টে বাঁকড়া মসজিদ মামলার পরবর্তী শুনানি
-
মহালয়ায় বঙ্গে পা রাখবেন প্রধানমন্ত্রী, ৯ দিনে কলকাতার প্রায় দেড়শো রাস্তা মেরামতির টার্গেট
-
প্রেমের পাঁচ বছরের জন্মদিনে হৃত্বিক সাবার আদুরে আলাপ, প্রাক্তন সুজান লিখলেন…
-
‘নতুন এফআইআর কেন?’ পুলিশকে ভর্ৎসনা করে অভয়ার সৎকার মামলা সিবিআইকে দিল হাই কোর্ট
-
আমেরিকায় ‘অলৌকিক’ কাণ্ড, দু’বার বিষাক্ত ইঞ্জেকশনেও মরল না মহিলা আসামি! তারপর…