সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ছয়মাস কেটে গিয়েছে। কিন্তু এখনও চলছে হামাস বনাম ইজরায়েল রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। হামাস জঙ্গিদের নাম মুছে ফেলতে গাজায় তীব্র আক্রমণ শানাচ্ছে ইজরায়েলি ফৌজ। এর মাঝেই নাকি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। রবিবার তাঁর হার্নিয়া অপারেশন হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এখন তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।
পিটিআই সূত্রে খবর, রবিবার জেরুজালেমের এইন কেরেমে হাদাসাহ হাসপাতালে অস্ত্রোপচার হয়েছে চুয়াত্তর বছরের নেতানিয়াহুর। সার্জারির সময় তাঁকে পুরোপুরি সংজ্ঞাহীন করে রাখা হয়েছিল। সোমবার ইজরায়েলের রাষ্ট্রনেতার শারীরিক অবস্থার কথা জানানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে। হাদাসাহ হাসপাতালের চিকিৎসক অ্যালন পিকারস্কি জানিয়েছেন, “পরিকল্পনা মতো বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। তাঁর জ্ঞান ফিরেছে। তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথাও বলেছেন।
[আরও পড়ুন: রক্তাক্ত বিশ্বের সুখীতম দেশ! স্কুলে সহপাঠীদের উপর গুলিবর্ষণ ১২ বছরের পড়ুয়ার]
এনিয়ে নেতানিয়াহুর দপ্তর জানিয়েছে, শনিবার বিকালে রুটিন চেকআপের সময় প্রধানমন্ত্রীর হার্নিয়া ধরা পড়ে। তার পরই চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা রবিবার অপারেশনের পরিকল্পনা করা হয়। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে তিনি গাজায় ফিমেল ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেসের যাঁরা পণবন্দি রয়েছেন তাঁদের পরিবারের সঙ্গে বৈঠক করেন। আলোচনা করেন যুদ্ধকালীন মন্ত্রীসভার সঙ্গেও আলোচনা করেন। নেতানিয়াহুর অপারেশন চলাকালীন আইনমন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিন প্রিমিয়ার হিসাবে বেশ কয়েকঘণ্টা দায়িত্ব সামলেছিলেন।
উল্লেখ্য, শনিবার সন্ধ্যাতেই গাজার যুদ্ধ নিয়ে আলোচনায় বসেছিল ইজরায়েল ও হামাস। কিন্তু এখনও পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির বিষয়ে পরিষ্কার কোনও ইঙ্গিত মেলেনি। তাই বাড়ছে প্রতীক্ষা। এখনও ইজরায়েলি ও বিদেশি মিলিয়ে গাজায় পণবন্দি অন্তত ১৩৪ জন। দ্রুত তাঁদের মুক্তির দাবি নিয়ে রবিবার নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছিলেন হাজার হাজার প্রতিবাদী। যাঁদের একটা বড় অংশই পণবন্দিদের আত্মীয়। তেল আভিভে রিং রোড অবরোধ করেন তাঁরা। জেরুজালেমেও শয়ে শয়ে প্রতিবাদী রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ দেখান। নেতানিয়াহুর বাড়ির সামনেও জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন আন্দোলনকারীরা।
[আরও পড়ুন: কোরান পুড়িয়ে বাকস্বাধীনতার উদযাপন, আশ্রয়ের খোঁজে দেশ বদলেই মৃত্যু ইরাকি শরণার্থীর!]
সকলেরই অভিযোগ, পণবন্দিদের দ্রুত মুক্ত না করতে পারাটা নেতানিয়াহুর ব্যর্থতা। এক প্রতিবাদীর মন্তব্য, “আপনি (নেতানিয়াহু) যুদ্ধবিরতির চুক্তি হতে দিচ্ছেন না। আমাদের ও আমাদের প্রিয়জনদের মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন আপনিই।” অন্য আরেকজনের মন্তব্য, “আমরা দেখতে পাচ্ছি কীভাবে রাজনৈতিক অভিসন্ধি থেকেই তিনি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। আমাদের অপহৃত প্রিয়জনদের মুক্ত করতে তিনি কতটা চিন্তা করছেন তাও বোঝা যাচ্ছে।” গত ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় সামরিক অভিযান চালাচ্ছে ইজরায়েলি সেনা। বাড়ছে মৃত্যু। চরম দুর্দশায় দিন কাটছে গাজার সাধারণের মানুষের। যা নিয়ে বারবার আন্তর্জাতিক মহলে চাপের মুখে পড়লেও হামাসকে নিঃশেষ করার লক্ষ্যে এখনও অবিচল নেতানিয়াহু।
সর্বশেষ খবর
-
বদলে যাবে সোদপুর ও খড়দহ স্টেশনের নাম! রেলমন্ত্রকে প্রস্তাব মন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তীর
-
অধিনায়কত্ব খোয়াচ্ছেন সূর্যকুমার, ভারতের নতুন টি-২০ অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার!
-
এই ৬ আন্তর্জাতিক গন্তব্যে স্থগিত ইন্ডিগোর বিমান পরিষেবা! বড় সিদ্ধান্ত দেশের বৃহত্তম উড়ান সংস্থার
-
প্রয়াত ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রধান কার্যনির্বাহী কর্তা নারায়ণ বসু
-
শ্লীলতাহানি, তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার স্বরূপ বিশ্বাস, ডিম হাতে থানা ঘেরাও ক্রুদ্ধ জনতার