সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: FATF-এর ধূসর তালিকা (Grey list) থেকে মুক্তি পায়নি পাকিস্তান। ‘ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স’ (FATF) জানিয়ে দিয়েছে ২০১৮ সালে সন্ত্রাসদমনে যে ২৭টি শর্তপূরণ করতে বলা হয়েছিল পাকিস্তানকে (Pakistan), তার মধ্যে ২৬টি পূরণ করছে পাকিস্তান। একটি এখনও বাকি রয়েছে। তাই ধূসর তালিকাতেই থাকতে হবে তাদের। স্বাভাবিক ভাবেই এমন সিদ্ধান্তে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ইমরান প্রশাসন। পাক বিদেশমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে জানিয়েছেন, পাকিস্তানকে এখনও ধূসর তালিকায় রেখে দেওয়ার কোনও অর্থ নেই।
পাক বিদেশমন্ত্রী জানিয়েছেন, কেবল ধূসর তালিকা থেকে বেরনোর জন্যই নয়, পাকিস্তান গত ২ বছরে অর্থ তছরূপ ও সন্ত্রাসবাদে আর্থিক মদতের বিষয়ে যা পদক্ষেপ করেছে, সবই স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে। এবং যেখানে ২৭টির মধ্যে ২৬টি শর্তই ইতিমধ্যে পূরণ করেছে ইসলামাবাদ, তারপরও তাদের ধূসর তালিকায় রেখে দেওয়ার কোনও যুক্তি নেই। তাঁর অভিযোগ ‘অন্য কোনও শক্তি’র প্রভাবেই পাকিস্তানকে ওই তালিকা থেকে বেরতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে সেই শক্তি বলতে তিনি ভারত কিংবা আমেরিকার মতো কোনও দেশকে নিশানা করলেন কিনা তা স্পষ্ট হয়নি। সেই সঙ্গে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, তাঁর সংশয় হচ্ছে FATF কোনও প্রযুক্তিগত সংস্থা নাকি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। পাক বিদেশমন্ত্রীর এহেন মন্তব্য থেকে পরিষ্কার, এই সিদ্ধান্তকে একেবারেই মেনে নিতে পারছেন না তাঁরা। অভিযোগ আনতে চাইছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই পাকিস্তানকে এখনও ওই তালিকাভুক্ত করে রাখা হয়েছে।
[আরও পড়ুন: খাবারের বিলের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি অঙ্কের টিপস! ক্রেতার মহানুভবতায় আপ্লুত মালিক-কর্মী]
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের জুন মাসে ধূসর তালিকাভুক্ত করা হয় ইমরান খানের দেশকে। সেই সঙ্গে তাদের নির্দেশ দেওয়া হয় ২০১৯ সালের মধ্যে সন্ত্রাসে আর্থিক মদত দেওয়া ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ থেকে মুক্ত হতে অ্যাকশন প্ল্যানগুলি মেনে চলতে। পরে করোনা পরিস্থিতিতে এই ডেডলাইন পরে আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়। তারপর থেকেই ইমরান প্রশাসন মরিয়া হয়ে চেষ্টা করেছে ওই তালিকার ছায়া থেকে বেরিয়ে আসার। কিন্তু প্যারিস স্থিত FATF-এর একের পর এক বৈঠকের পরও কাটেনি বিপদ। ধূসর তালিকা থেকে আর বেরনো হয়নি ইসলামাবাদের।
এই পরিস্থিতিতে এবারের বৈঠককে ঘিরে ক্রমশ আশা জেগেছিল। কিন্তু সেই আশায় জল ঢেলে দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি। জানিয়ে দিয়েছে, একটি শর্ত এখনও বাকি রয়েছে। আর সেই শর্ত হল, জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদ, সংগঠনের কমান্ডার জাকিউর রহমান লকভি এবং জইশ-ই-মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারের মতো কুখ্যাত জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। কিন্তু এত বছরেও তা করে উঠতে পারেনি পাকিস্তান।
[আরও পড়ুন: দরিদ্র দেশগুলি ধুঁকছে টিকার অভাবে, উন্নত রাষ্ট্রগুলিকে সাহায্যের আরজি জানাল WHO]
সর্বশেষ খবর
-
রাম মন্দিরের পর এবার বদ্রীনাথেও দানের টাকা চুরি! উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ
-
গাফিলতিতে ঢোকেনি অন্নপূর্ণার টাকা! ধূপগুড়ি পুরসভার ৩২ কর্মীকে শোকজ মহকুমা শাসকের
-
আরেকটু হাত বাড়ানোর কথা বলে ঋতুপর্ণা-অমর্ত্যর ‘নেভার মাইন্ড’, পড়ুন রিভিউ
-
জলা বুজিয়ে কার্যালয়, নিরাপত্তারক্ষী থেকে তৃণমূল নেতা হয়ে কোটি টাকার সম্পত্তি! পলাতক শিবদাস
-
জগন্নাথ মন্দিরের ২৬ লাখের দানপাত্র ‘লুট’, দেবরাজের অত্যাচারে নিঃস্ব অশীতিপর বৃদ্ধ